banner

শেষ আপডেট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,  ১৯:৫৯  ||   শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সুরেশ্বর দরবার শরীফে বঙ্গবন্ধুর জেয়ারত

সুরেশ্বর দরবার শরীফে বঙ্গবন্ধুর জেয়ারত

৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১৫:৪০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সুরেশ্বর দরবার শরীফে বঙ্গবন্ধুর জেয়ারত

 

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফে ১৯৭০ খ্রীঃ সালের আগস্ট মাসে বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুভাগমন করেছিলেন।

আমি তাঁকে দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফ জেয়ারতের জন্য দাওয়াত করেছিলাম। আমার দাওয়াত তিনি গ্রহণ করেছিলেন এবং ’৭০ এর নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা হতে লঞ্চযোগে সুরেশ্বর দরবার শরীফে হযরত সুরেশ্বরী রহঃ ও হযরত নূর শাহ্ রহঃ এর মাজার শরীফ জেয়ারতের জন্য শুভাগমন করেন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ এর নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছিলেন জুলাই মাসে। বাংলাদেশের সর্বত্র তখন ভরা বর্ষা। প্রচারাভিযানের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু ফরিদপুর জেলার বর্তমান শরীয়তপুরের নড়িয়া থানাস্থিত ঐতিহাসিক দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শামসুল উলামা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ আহমদ আলী ওরফে হযরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহ. ও তাঁর পুত্র হযরত মাওলানা শাহ সূফী সৈয়্যেদ নূরশাহ রহ. এর পবিত্র মাজার শরীফ জেয়ারত করে দক্ষিণ বঙ্গের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রখ্যাত নেতা ও কর্মীগণ।

মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফে অতিথিবৃন্দকে সাদর সম্বর্ধনা জ্ঞাপনের নিমিত্তে সুদৃশ্য তোরণ নির্মান করা হয়েছিল। আমি ও আমার ভ্রাতাগণ অতিথিদেরকে সাদরে গ্রহণ করেছিলাম। পবিত্র দ্বায়রা শরীফের সম্মুখ ভাগ বেছে নেয়া হয়েছিল ঐতিহাসিক ভাষণ দানের মঞ্চ। দরবার শরীফের পক্ষ থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর শুভাগমন উপলক্ষে মানপত্র পাঠ করি। মানপত্রের জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুরেশ^র দরবার শরীফ প্রাঙ্গণে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তৃতা দান করেন। আল্লাহর রহমত এবং জিন্দা অলি হযরত সুরেশ্বরী রহ. ও হযরত নূরশাহ রহ. এর নেক নজর কামনা করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা এবং চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করার প্রত্যয়ে বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ ছয়দফা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ঐতিহাসিক ভাষণ দান করেন। যা এলাকাবাসী ও অসংখ্য ভক্তগণের হৃদয়ে আজও চির স্মরণীয় হয়ে আছে।

ভাষণ শেষে তিনি আমাদেরকে সাথে নিয়ে মহান আল্লাহর অলি রাসূলনোমা আল্লামা হযরত শাহ সূফী সৈয়্যেদ ফতেহ আলী ওয়াইসী রহ., হযরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহ. ও হযরত নূরশাহ রহ. এর পবিত্র মাজার শরীফ জেয়ারত করেন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও জেয়ারত সম্পর্কে তৎকালীন জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাসহ অন্যান্য পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

এমনি ভাবে তিনি ইরাকের বাগদাদ শরীফে হযরত বড়পীর মহিউদ্দিন আবদুল কাদির জিলানী রহ. এর মাজার শরীফ, সিলেটের হযরত শাহ জালাল রহ., হযরত শাহ পরান রহ., চট্টগ্রামের হযরত আমানত শাহ হুজুর রহ. এর মাজার শরীফ সহ বাংলাদেশের অনেক আধ্যাত্মিক দরবার শরীফ ও মাজার শরীফ জেয়ারত করেন।

তিনি অলি-আউলিয়াগণকে ভালবাসতেন এবং মর্যাদা দিতেন। তিনি যেখানে গমন করতেন সে স্থানে যাওয়ার পথে কিংবা ফেরার পথে তদীয় এলাকায় অবস্থিত মহান আল্লাহর অলিগণের মাজার শরীফ জেয়ারত করতেন। মহান আল্লাহ ও আল্লাহর অলিগণের দোয়ার কারণেই তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম সাফল্য লাভ করেছিলেন। তিনি ছিলেন সূফী ভাবাপন্ন মানবিক জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। যার কারণে তিনি আধ্যাত্মিক ও সূফী ব্যক্তিগণ সহ সকল ধর্ম্মের মানুষকে ভালবাসতেন।

মহান আল্লাহ পাক এ দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে বাংলার বুকে প্রেরণ করেন তাঁর এক প্রিয় বান্দা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আল্লাহ পাক তাঁকে বিশেষ গুণসম্পন্ন করেই এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যা তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রতিফলিত হয়েছিল। রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি উচ্চারিত করেছিলেন বাঙালী জাতির মুক্তির পয়গাম। তিনি বলেন, “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।” তিনি আরো বলেন, “বাংলার মানুষকে মুক্ত করেই ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।” মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আস্থার কারণেই তিনি এ ভাবে এদেশের নির্যাতিত মানুষের মনে মুক্তির আশা জাগাতে সক্ষম হয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে ধন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ন্যায়-নিষ্ঠা ও সততার জন্য মহান অলি-আউলিয়াগণের সুদৃষ্টি থাকায় তিনি জীবনে এতটা সফল হতে পেরেছিলেন। তাঁর মহান স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, আমি, আমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং সুরেশ্বর দরবার শরীফের লক্ষ লক্ষ ভক্ত-মুরিদানগণ ’৭০ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দান করি এবং নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কাজ কর। সুরেশ্বর দরবার শরীফরে অনেক ভক্ত-মুরদিান নৌকা প্রতীকে ভোট দানের জন্য মহান আল্লাহর অলি হযরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহ. এর নিকট থেকে স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হন। তাদের অনেকেই বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন। দরবার শরীফে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দান ও খাদ্যের ব্যবস্থা করি। আমি ও আমার ৩ ভ্রাতা নিরবে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কাজ করেছি। কিন্তু আমি বা আমার কোন ভাই মুক্তিযোদ্ধার সনদ গ্রহণ করিনি। সে সময়ের ন্যায় বর্তমানেও দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের ভক্ত-অনুসারীগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক মুসলিম পরিবারে ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রীঃ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সাহেরা খাতুন। ঐতিহাসিক ভাবে জানা যায়, তাঁর বংশপরম্পরা হলো- শেখ মুজিবুর রহমান বিন শেখ লুৎফর রহমান বিন শেখ আবদুল হামিদ বিন শেখ তাজ মাহমুদ বিন শেখ মাহমুদ ওরফে তেকড়ী শেখ বিন শেখ জহিরুদ্দীন বিন দরবেশ শেখ আউয়াল।

বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের মূল কর্ণধার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি (পূর্ব্ব) পাকিস্তান বেতারে জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তাতে ইসলামের চিরন্তন কল্যাণকামী রূপের প্রতি তিনি কতটুকু মোহিত, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হযরত রাসূলে করিম সাঃ এর ইসলাম, যে ইসলাম জগদ্বাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এ অমূল্য ভাষণে ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ইসলামের আপোষহীন অবস্থানের প্রতি সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি আন্তরিক ভাবে ইসলামের অনুসারী ছিলেন, শুধু লোক দেখানোর জন্য ধর্মাচার করতেন না। তাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর যতবার আমি তাঁকে দেখেছি, আমি তাঁর মধ্যে ইসলামিক ধর্মবোধ সম্পূর্ণরূপে দেখেছি। অলি আউলিয়াগণের প্রতি তাঁর ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ। তিনি সর্বদা আধ্যাত্মিকতার আলোকে জীবন পরিচালনা করতে চেষ্টা করেছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি ইসলামের প্রচার-প্রসার ও উন্নয়নে অপরিসীম অবদান রেখেছেন।

স্বাধীন সার্ব্বভৌম বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসাবে বঙ্গবন্ধু শাসনভার গ্রহণ করার পর ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবনে বঙ্গবন্ধুর সাথে ১৯৭২ সনের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এক সকালে আমি ও আমার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সৈয়্যেদ শাহ্ নূরে বেলায়েত হোসাইন রহঃ প্রথম সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা করি। এরপর তাঁর সাথে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হয় ১৯৭২ সনের শেষের দিকে এক মনোরম সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবন রমনা উদ্যানের পূর্ব্বদিকে। এরপর তৃতীয় সাক্ষাৎ হয় শেরে বাংলা নগরে বর্ত্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ১৯৭৪ সনে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে বঙ্গবন্ধুর হাতে একটি চেক প্রদান উপলক্ষে দুপুরে সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে আমি বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় ও নিয়মিত খোঁজ খবর রাখতাম। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর ছয় দফা নির্দেশনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত হতাম এবং বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতাম। তাঁর মেধা ও স্মরণ শক্তি ছিল অতি তীক্ষ। তিনি কত মানুষ নিয়ে নানা কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তা সত্ত্বেও যখন তিনি আমাকে দেখতেন, তিনি আমাকে ‘সুরেশ্বরের পীর সাহেব’ নামে সম্বোধন করতেন। আমি তাঁকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি। তিনি কত বড় উঁচু মনের হৃদয়বান মহৎ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় পর্যায়ে ঈদে মিলাদুন্নবী সা. পালন, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, বেতার ও টিভিতে কুরআন তিলাওয়াত প্রচার, বায়তুল মুকারাম মসজিদের ব্যবস্থাপনা ও উন্নতি সাধন করা, ওআইসি সম্মেলনে যোগদান ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

তিনি ইসলামী মূল্যবোধকে সারা জীবন লালন করে এর প্রচার ও প্রসারে অনবদ্য অবদান রেখেছেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ দুষ্কৃতকারীরা এই মহান-পুরুষ ও তাঁর পরিবারবর্গকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। তিনি ও তাঁর পরিবারবর্গ দেশ ও জনগণের জন্যে শাহাদত বরণ করেন। ইন্নালিল্লাহে………….রাজিউন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে আমরা তাঁর ও পরিবারবর্গের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও পিতা বঙ্গবন্ধুর ন্যায় একই রকম ধর্মীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত। অলি-আউলিয়া ও দরবার শরীফের প্রতি তাঁর ভালবাসা অকৃত্রিম। আমি তাঁকে সুরেশ্বর দরবার শরীফে আসার জন্য দাওয়াত করি। দাওয়াত গ্রহণ পূর্বক তিনি ২০০২ খ্রীঃ সালের ১১ এপ্রিল বৃষ্টি-বাদলের দিনে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সুরেশ্বর দরবার শরীফে শুভাগমন করেন। তখন তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আগমন করেন, তাঁর শুভাগমন উপলক্ষে তোরন ও মঞ্চ নির্মাণ করা হয়। দরবার শরীফের পক্ষ হতে আমি ও সকল আওলাদগণ তাঁকে স্বাদরে গ্রহণ করি। তিনি এসেই জোহরের নামাজ আদায় করেন এবং দোয়া দুরুদ পাঠ করেন। তিনি অত্যন্ত মন মহব্বত নিয়ে তাঁর সফর সঙ্গী সাজেদা চৌধুরী ও অন্যান্য সহ আমাদের সাথে হযরত সুরেশ্বরী রহঃ ও হযরত নূরশাহ রহঃ এর মাজার শরীফ জেয়ারত করেন। জেয়ারত শেষে দুরুদ শরীফ, মিলাদ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদ শরীফ পড়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সাথে নিয়ে আমি মোনাজাত করি, হে আল্লাহ ! জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও পরিবারবর্গের সকল শহীদানের রূহের মাগফেরাত করে বেহেশত নসিব করুন। যারা এই নির্দোষ পরিবারকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে তাঁদের সঠিক বিচার করুন। আরো প্রার্থনা করি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জয়যুক্ত করুন যাতে তিনি মন্ত্রীসভা গঠন করে পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করেন। ইয়া আল্লাহ ! আপনি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গ সকলকে হায়াত দারাজ করুন, সুস্থ্য অবস্থায় তিনি যেন দেশ ও জনগণের সেবা করে যেতে পারেন।
মোনাজাতে হাজার হাজার লোক অংশগ্রহণ করে দোয়া করেন। পরবর্ত্তী দুই নির্ব্বাচনে তিনি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে মন্ত্রীসভা গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর আসন গ্রহণ করে সরকার গঠন করেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার সুরেশ্বর দরবার শরীফ জেয়ারত সম্পর্কে তৎকালীন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সমূহে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
৭০’ সালে আমার বয়স ছিল ২৮ বছর। এখনও বঙ্গবন্ধুর সুরেশ্বর দরবার শরীফে আগমনের স্মৃতি আমার হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। মহান আল্লাহর অলির মাজার শরীফে জেয়ারতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ৭০’ সালে এতবড় বিজয় অর্জন করায় তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণকে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে সুরেশ্বর দরবার শরীফে ইসলামিক আধ্যাত্মিকতার আলোকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হোক এবং সারাদেশের মানুষ যাতে সেখানে যাতায়াত করতে পারে সেজন্য সুরেশ্বরের সাথে সারাদেশের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে আমি ও আমার আওলাদগণ এবং সুরেশ্বর দরবার শরীফের অসংখ্য ভক্তবৃন্দের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক দোয়া ও শুভ কামনা
করছি। দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের আওলাদগণ ও ভক্ত-অনুসারীগণ যাতে আগামী দিনেও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সকল কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে পারে সে অভিপ্রায় জ্ঞাপন করছি।

লেখক :
দরবারে আউলিয়া সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের গদিনশীন পীর আলহাজ্ব খাজা শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ নূরে আখতার হোসাইন আহমদীনূরী মা.জি. আ.