banner

শেষ আপডেট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,  ১৯:৫৯  ||   শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

শিক্ষকের দুর্নীতির দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক

শিক্ষকের দুর্নীতির দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক

২২ অগাস্ট ২০২১ | ১২:৩০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • শিক্ষকের দুর্নীতির দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা  গ্রহন করা হউক

মন্তব্য প্রতিবেদন ::

সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও করোনার প্রকোপ থেকে রোহাই পায়নি। বিগত ২০২০ সাল থেকে লকডাউনের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা থমকে আছে। এরই মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষকদের তেমন একটা স্কুলে দেখা যায়নি। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু মাত্র অফিসই খোলা রেখেছে।

অনলাইনে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্লাস চালু রেখেছে। ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও তাও কিন্তু গ্রামীণ অঞ্চলে তেমন প্রসার লাভ করেনি। তাই সকল শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সুবিধা পায়নি।

এমন কি প্রত্যেক অভিভাবকের কাছে ক্লাস করার মতো মোবাইল ফোন নেই। তাই সকল শিক্ষার্থী সমানভাবে অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি। কিন্তু ঠিকই সকল শিক্ষার্থীকে এ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হয়েছে।

এ্যাসাইনমেন্ট ভিত্তিক এই মুল্যায়ন যথাযথ কিনা তা একমাত্র শিক্ষাবিদেরাই ভাল বলতে পারবে। এই এ্যাসাইনমেন্টের নামে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদেও কাছ থেকে অর্থ আদায় করে নিয়েছে। যা কখনো কাম্য নয়। সরকারের এমন কোন বিধি-বিধান নাই এ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায় করবে। এই এ্যাসাইনমেন্টর নামে যে টাকা আদায় করা হয়েছে তা সামান্য হোক তাও দুর্নীতি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে চলছে সেখানে প্রাইমারী শিক্ষাখাতে দুর্নীতি তা কি সচেতন জনসমাজ মেনে নিতে পারে ? এমনই একটি দুর্নীতির চিত্র জন সাধারণের কাছে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা ১নং চরতী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ৬নং চরতী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারে সাতকানিয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। যার সঠিক দৃষ্টান্ত মুলক গ্রহণ করা সচেতন মহলে দাবী।

অভিযোগে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন এর বিষয়ে বলা হয়েছে করোনার মধ্যে তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০-৪০ টাকা করে আদায় করেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের অনেক জিনিসপত্র কাউকে না বলে বিক্রি করে দিয়েছে।

এলাকার সচেতন মানুষের প্রশ্ন এই টাকা কি সরকারী রাজস্বে জমা হবে নাকি প্রধান শিক্ষকের পকেটেস্থ হবে। এই প্রধান শিক্ষক নাকি পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনি পরীক্ষার সার্টিফিকেট প্রতি ৩৫০ টাকা করে আদায় করে নিয়েছিল। প্রতি ক্লাসে আবার নতুন করে ভর্তি দেখিয়েও টাকা আদায় করেছিল।

এই সকল ছোট ছোট দুর্নীতির সাথে নাকি উপজেলা সহকারী শিক্ষার অফিসারেরাও জড়িত । এই বিষয়ে সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই ধরণের অবৈধ টাকা আদায় করা মোটেও সমীচিন নয় ।

কোন অভিভাবক এই সকল দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না। কারণ কেউ শিক্ষকের রোষানলে পড়তে চাই না । কারণ যদি শিক্ষকের রোষানলে পড়ে তাহলে তাদের শিশুদের ভালো করে পড়াবে না। এই ধারণাটা কম বেশী সবাই মনে মনে পোষণ করে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে এই বিষয়ে দ্রুত দৃষ্টান্তমুলক ব্যবস্থা নিতে হবে তা না হলে প্রতি নিয়ত এই অনিয়ম গুলোই নিয়মে পরিণত হবে। এমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা ধরণের দুর্নীতির চিত্র বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রতি নিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে।

উক্ত ছোট ছোট দুর্নীতির সাথে কিছু কিছু স্কুল কমিটির সদস্যারা নাকি জড়িত । যাদেরকে তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাই যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়ে যায় তাদের প্রতিরোধ করবে কে ?

কেউ কেউ বলছে এই দুর্নীতি কি অভিযোগকারী প্রমাণ করতে পারবে ? অভিযোগকারী সচেতন বলে অভিযোগ করেছে । প্রমাণ করাও কিন্তু কঠিন কাজ নয়। শিক্ষা অফিসারের দায়িত্ব যাচাই পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া।

এখন ইন্টারনেটের যুগ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে মানুষ এখন প্রতিনিয়ত সচেতন হচ্ছে। এখন আর কোন কিছুই আর গোপন থাকছে না । দুর্নীতির এই বীজ এখনই নষ্ট করতে হবে । এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বেতন কিন্তু কম নয়। তার পরও দুর্নীতি !!!!

এলাকার সচেতন মহল মনে করেন দীর্ঘদিন এক স্কুলে। তাও আবার বাড়ী পাশে। কোন আইন-কানুনের তোয়াক্কাই করছে না শিক্ষক। মনে যা চাই তাই করছে তারা। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাতকানিয়া উপজেলার শিক্ষা অফিসার দৃষ্টান্ত মুলক ব্যবস্থা নিবেন । এটাই প্রত্যাশা করেন এলাকার সচেতন মহল।