banner

শেষ আপডেট ১৯ মে ২০২১,  ২৩:০২  ||   রবিবার, ১৩ই জুন ২০২১ ইং, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার ১১০তম জন্মবার্ষিকী

আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার ১১০তম জন্মবার্ষিকী

৫ মে ২০২১ | ২১:৩৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আজ বীরকন্যা প্রীতিলতার ১১০তম জন্মবার্ষিকী

ক্রাইম প্রতিবেদক: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ১১০ তম জন্মদিন আজ। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের দক্ষিণ সমুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ও মা প্রতিভা দেবী। মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানী ছিলেন জগদ্বন্ধু। শহরের আসকার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়ে টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির একটা দোতলা বাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকতেন ওয়াদ্দেদার পরিবার।
প্রীতিলতা ডা. খাস্তগীর ইংরেজি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে লেটার মার্ক পেয়ে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন প্রীতিলতা। এরপর আইএ পড়ার জন্য ঢাকার ইডেন কলেজে ভর্তি হন। কলেজের ছাত্রীনিবাসে থাকাকালীন তিনি বিপ্লবী লীলা নাগের নেতৃত্বে পরিচালিত দীপালি সংঘের সংস্পর্শে আসেন। এটি ছিল তখনকার ঢাকার বিপ্লবী দল শ্রীসংঘের নারী শাখা। ১৯৩০ সালে আইএ পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিতভাবে ৫ম ও মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেন। পরবর্তীতে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে ১৯৩২ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ পাশ করেন। চট্টগ্রামে ফিরে নন্দনকানন অর্পণাচরণ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রীতিলতা ও তার বান্ধবী বীণা দাশগুপ্তের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাদের দুজনকে মরণোত্তর স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ব্রিটিশদের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য মাস্টার দা সূর্য সেনের নির্দেশে নিয়েছিলেন সশস্ত্র প্রশিক্ষণ। ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রীতিলতা ১৫ জন সহযোদ্ধা নিয়ে নগরীর পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে। একপর্যায়ে ব্রিটিশ পুলিশ তাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে। ব্রিটিশদের হাতে ধরা না পড়ার জন্য প্রীতিলতা সঙ্গে রাখা পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন। মৃত্যুকালে প্রীতিলতার শেষ বিবৃতি (চিঠি) তার পকেটে ছিল।
সেখানে তিনি লিখেছিলেন- ‘নারীরা আজ কঠোর সংকল্প নিয়েছে যে, আমার দেশের বোনেরা আজ নিজেকে দুর্বল মনে করবেন না। সশস্ত্র ভারতীয় নারী সহস্র বিপদ ও বাধাকে চূর্ণ করে এই বিদ্রোহ ও সশস্ত্র মুক্তি আন্দোলনে যোগদান করবেন- এই আশা নিয়ে আমি আজ আত্মদানে অগ্রসর হয়েছি।