banner

শেষ আপডেট ৫ মে ২০২১,  ২২:১৯  ||   মঙ্গলবার, ১১ই মে ২০২১ ইং, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

পেকুয়ায় সংরক্ষিত বন বনভূমি জবর দখলের মহোৎসব

পেকুয়ায় সংরক্ষিত বন বনভূমি জবর দখলের মহোৎসব

২৮ এপ্রিল ২০২১ | ১৩:১৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ায় সংরক্ষিত বন বনভূমি জবর দখলের মহোৎসব

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া: কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের বারবাকিয়া, টইটং ও পহরচাঁদা বনবিটের সংরক্ষিত বন ভূমিতে চলছে জবর দখলের মহোৎসব চলছে। তৈরী হচ্ছে পাকা দালানসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে স্থানীয় হেডম্যান নামধরী কিছু দালাল প্রকৃতির লোক এসব বনভূমি  প্রতিনিয়তই প্লট আকারে বেচা-বিক্রি করছে। আর এসব জায়গায় নির্মান করা হচ্ছে পাকা দালানসহ নানান স্থাপনা! বনের ভিতর গড়ে উঠছে শত শত অবৈধ স্থাপনা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে
পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের তিনটি বনবিটের সবটুকু সংরক্ষিত বনাঞ্চল অবৈধ দখলে চলে যাবে। স্থানীয় সচেতন মহল, পেকুয়ার বারবাকিয়ার সংরক্ষিত বনভূমি বাঁচাতে বন বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া বন রেঞ্জের বারবাকিয়া, টইটং ও পহরচাঁদা বন বিটের আওতাধীন বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জায়গায় সাম্প্রতিককালে বসতি নিার্মণের হিড়িক পড়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা এক শ্রেণীর হেডম্যান নামধারী দালাল মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গা বেচা-বিক্রি করে সরকারী জায়গা দেদারসে বেহাত করে দিচ্ছে। সরকারী জায়গা বেহাত ও অবৈধ দখল হলেও এ নিয়ে কোন ধরনের মাথা ব্যথা নেই খোদ বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের! বন ভূমিকার এহেন ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহল।

গত কয়েক দিন ধরে বারবাকিয়া রেঞ্জের বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারী বনভূমিতে প্রতিনিয়ত তৈরী করা হচ্ছে কাঁচাঘর বাড়ি ও পাকা দালান। এর ফলে নিধন হচ্ছে বৃক্ষ, উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হেডম্যান নামধারী দালালদের সাথে আতাত করে বনভূমির জায়গা বেচা-বিক্রি করে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা, তিন বনবিট কর্মকর্তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা একাধিক দালাল সিন্ডিকেট বনভূমির জায়গা বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। গত ২ বছরে এই তিন বনবিটের অন্তত কয়েক’শ একর সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে। এছাড়াও টইটং বনবিট, বারবাকিয়া বনবিট ও পহরচাঁদা বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভিতর অসংখ্য পাকা
স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। উপজেলার বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন টইটং সোনাইছড়ি মৌলভী পাড়া গ্রামে সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় অবৈধভাবে বহুতল পাকা ভবন তৈরীর কাজ শুরু করেছে মো: ফোরকান (৪৮) [পিতা- আবু তাহের, বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম-সোনাইছড়ি মৌলভী পাড়া, ইউনিয়ন-টইটং, উপজেলা-পেকুয়া, জেলা-কক্সবাজার।
বনের জায়গায় বহুতল পাকা বাড়ি নির্মাণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুতুবদিয়ার বাসিন্দা মো: ফোরকান জানান, স্থানীয় মৌলভী ইলিয়াছের মাধ্যমে বারবাকিয়া বনবিট অফিসে টাকা দিয়ে তিনি বাড়িটি নির্মাণ করছেন।  এয়াড়াও বারবাকিয়ার আবাদী ঘোনা নামক এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বনের জায়গায় একাধিক পাকা বাড়ি তৈরী হচ্ছে। আর বন বিভাগের সাথে আতাত করে কুতুবদিয়ার ওই বাসিন্দাকে সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় পাকা ভবন তৈরীর সুযোগ করে দিয়েছে হেডম্যান নামধারী দালাল জালাল আহমদ ও  মৌলভী ইলিয়াছ নামের এ দুই ব্যক্তি। বর্তমানে বারবাকিয়া, টইটং ও পহরচাদা বনবিটের রিজার্ভ এলাকাজুড়ে অসংখ্য পাঁকা দালান, সেমি পাঁকা ও কাঁচা বাড়ী তৈরী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংরক্ষিত বনভূমির অবৈধ জবর দখল ঠেকাতে তিনি ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছেন। তাদের সাথে স্থানীয় কোন দালালের আতাত নেই বলেও তিনি দাবী করেছেন।