banner

শেষ আপডেট ৫ মে ২০২১,  ২২:১৯  ||   মঙ্গলবার, ১১ই মে ২০২১ ইং, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

পুণ্যানুভূতি জাগৃতির বার্তায় এলো মাহে রমজান

পুণ্যানুভূতি জাগৃতির বার্তায় এলো মাহে রমজান

১২ এপ্রিল ২০২১ | ১৯:১১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পুণ্যানুভূতি জাগৃতির বার্তায় এলো মাহে রমজান

 

আ ব ম খোরশিদ আলম খান: বিশ্বজুড়ে করোনার অভিঘাতে মানবজাতি যখন বিপর্যস্ত, করোনার গ্রাসী থাবায় বিশ্বের মানবমণ্ডলী যখন ত্রস্ত ও অসহায়, তখনই শান্তি, ক্ষমা পুণ্যসিক্তি ও পরিশুদ্ধির বার্তা নিয়ে এলো মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তাবাহী রমজানের শুরুতেই বিশ্ব মুসলিমের মাঝে বয়ে যাচ্ছে অসীম আনন্দধারা। রোজা যদিও মুসলমানদের জন্য পালনীয় দ্বীনি বিধান কিন্তু অন্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও এই আনন্দ ছুঁয়ে যায়। এজন্যইতো বলা হয়, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তবে বিশেষ করে সিয়াম উৎসবে শামিল আজ বিশ্বের দুই শতাধিক মুসলিম সম্প্রদায়। আমাদের এই প্রিয় স্বদেশেও মুসলিম জনতার মাঝে খুশির ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। স্বাগত মাহে রমজান। আহলান সাহলান মাহে রমজান।

গতকাল বিকাল গড়াতেই এক ফালি চাঁদের ঝিলিক বাংলাদেশে রোজার আগমনী জানান দেয়। এ নতুন চাঁদ দেখে ঈমানদার জনতার মাঝে কি অভূতপূর্ব খুশির জোয়ার! রোজার চাঁদ যেন মুসলমানদের জন্য বছরব্যাপী প্রতীক্ষিত মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার বার্তাই নিয়ে আসে। এই মাস তাই পুণ্যার্জনে ঘুরে দাঁড়ানোর মাস, রোজার মাস পুণ্যসিক্তির মাহেন্দ্রক্ষণ। রোজার মাস মানেই আত্মশুদ্ধি অর্জনের বিরল সুযোগ। কুরআন মজিদে আল্লাহ পাক বলেছেন- ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহ্রা ফালইয়াসুমহু- ‘তোমাদের মাঝে যারা রোজার মাস পাবে, তারা যেন রোজা রাখে।’ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিম নারী-পুরুষদের ওপরই রোজা রাখা ফরজ। তবে কেউ খুব বেশি অসুস্থ হয়ে রোজা রাখতে না পারলে প্রতিটি রোজার পরিবর্তে দুইবেলা ইয়াতিম-মিসকিনকে খাবারের ব্যবস্থা করলে রোজার হক আদায় হয়ে যাবে। গুরুতর অসুস্থ মুমূর্ষু রোগীর বেলায় তা প্রযোজ্য। আর কেউ সফরে বা দূরপাল্লায় ভ্রমণে গেলে রোজা রাখতে অপারগ হলে পরবর্তী দিনে তা ক্বাজা আদায় করার অনুমতি দেয়া হয়েছে ইসলামী বিধানে।

রোজা হচ্ছে ঈমানদার মুসলিম জনতার জন্য মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের বড় সুযোগ। সারাদিন না খেয়ে থেকে, পাপাচার ও কামাচার বর্জন করে রোজাদার অসীম কষ্ট সহিষ্ণুতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিজেকে আল্লাহ পাকের দরবারে পরিপূর্ণভাবে নিবেদন করেন। রোজা শুধু উপবাসব্রত নয়, ইন্দ্রিয়শক্তির নিয়ন্ত্রণ পাপাচার ও কামাচার পরিত্যাগই হলো রোজার প্রকৃত লক্ষ্য। প্রতিদিনই ১৩/১৪ ঘণ্টা ধরে শারীরিক ও জৈবিক চাহিদা না মিটিয়ে কেবল মহান আল্লাহ পাকের জন্য এবং তাঁরই সন্তুষ্টির প্রত্যাশা নিয়ে ঈমানদার মানুষেরা রোজা পালন করেন। এখানে কোনো লৌকিকতার অবকাশ নেই। রোজাদার কেবল আল্লাহর ভয়ে এবং তাঁরই সন্তুষ্টির আশায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় ব্যাপৃত থাকেন। রোজা মানে মহান স্রষ্টা আল্লাহ পাকের কাছে বান্দার পরিপূর্ণ আত্মনিবেদন এবং একমাত্র আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনেই রোজা রাখা হয়। এজন্যই বান্দার এই অশেষ কষ্ট সহিষ্ণুতা ও আত্মনিবেদনের পুরস্কারও আল্লাহ দেবেন নিজেই। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ পাক বলেছেন- আস সাওমি লি, ওয়া আনা আজযি বা উজযা বিহি ‘রোজা আমার জন্য আমিই এর প্রতিদান দেবো, অথবা রোজা আমারই জন্য, আমি নিজেই এর প্রতিদান।’ ভেবে দেখুন তো, রোজার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ পাক কতো বড় নেয়ামত ও পুরস্কার অপেক্ষা করছে রোজাদারদের জন্য। পার্থিব জীবনেও রোজার অশেষ পুরস্কার নিহিত। এমনকি কবরে, হাশরে, পুলসিরাতে কোনো ভয় নেই রোজাদারের জন্য। কেন ভয় থাকবে? আল্লাহ পাক তো বান্দার সঙ্গেই থাকবেন। বান্দার জন্য রোজ হাশরে আল্লাহর সান্নিধ্য ও সাক্ষাতই তো যথেষ্ট। জাহান্নামের বিভীষিকা রোজাদারকে তো স্পর্শই করতে পারবে না।

মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা রোজাদারের জন্য সাবধানী জীবন যাপনের বড় সুযোগ আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে। কুরআন মজিদের সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূববর্তী উম্মতদের ওপর, তোমরা যেন তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ এখানে বলা হচ্ছে পূর্ববর্তী নবী রাসূলের উম্মতদের ওপরও রোজার বিধান প্রযোজ্য ছিল। আর রোজার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের মাঝে খোদাভীতি বা তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি করা। আল্লাহ পাকের প্রতি ভয় ও ভালোবাসার চেতনা জাগ্রত করাই রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য। তা যেন আমরা মনে রাখি।

সিয়াম সাধনার এই মাসটি যেন ভালোয় ভালোয় আমরা কাটিয়ে দিতে পারি এবং ব্যবসায়ী ভাইয়েরা যেন রোজার সংযমের শিক্ষা ধারণ করে পণ্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখেন এই প্রত্যাশা থাকল। রোজাদাররা যাতে সংযম ও কৃচ্ছ্রতা সাধনের শিক্ষায় উজ্জীবিত হন রোজা শুরুর এই দিনে এই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।লেখক-আ ব ম খোরশিদ আলম খান: সাংবাদিক, ইসলামি চিন্তাবিদ।