banner

শেষ আপডেট ১৩ জুলাই ২০২১,  ২০:০৫  ||   বৃহষ্পতিবার, ২৯ই জুলাই ২০২১ ইং, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে !

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে !

২ মার্চ ২০২১ | ১১:০৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে !

নির্বাচনে অনিয়ম এখন আর অস্পষ্ট নয়। সংবাদমাধ্যমে অনিয়মের প্রমাণসহ তথ্য প্রকাশ হলেও সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রায় নির্বিকার। মাঝেমধ্যে লোক-দেখানো কিছু তদন্তের ব্যবস্থা করেই দায় সারছে কমিশন। তদন্তের ফলাফলও শূন্য।

খোদ নির্বাচন কমিশন থেকেও বলা হচ্ছে, সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে কমিশন যে তৃপ্তি বোধ করে তা জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে। নির্বাচনে অনিয়মের ক্ষেত্রে দেশের আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও তার প্রয়োগ হচ্ছে না। হলে অনেক লোককে এখন কারাগারে থাকতে হতো।

গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন তিনটি পৌরসভায় ভোটগ্রহণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিন পৌরসভা সম্পর্কেই একই প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। এই তিনটি পৌরসভা হচ্ছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, ঝালকাঠির নলছিটি ও সাতক্ষীরার কলারোয়া।

স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিল মারার ঘটনায় তৃতীয় ধাপের তিনটি পৌরসভার ঘোষিত বেসরকারি ফল স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যদি দেখা যায় যে অপরাধ ঘটেছে, তাহলে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ভূঞাপুরে সংঘর্ঘ, হামলা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় ককটেল বিস্ফোরণ, প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর নারী এজেন্টকে এক কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর বেধড়ক পেটানো, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে দুই এজেন্ট ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করা হয়।

সাতক্ষীরার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাও তদন্তে কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানান। ওই পৌরসভায় ভোটগ্রহণকালে তিন মেয়র পদপ্রার্থীর দুজন বিএনপির শেখ শরিফুজ্জামান ও আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ নার্গিস সুলতানা ভোট বর্জন করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল কেন্দ্র থেকে তাঁদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জোর করে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল দেওয়া। একটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষ বন্ধ করে ব্যালটে সিল মারারও অভিযোগ ছিল।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার চৌরা নয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে প্রকাশ্যে অনিয়মের একটি ছবি ছাপা হয়। এতে দেখা যায়, সেখানে ভোটারদের ভোট দেওয়ার গোপনীয়তা রক্ষা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোটকক্ষে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালার ৭৮ নম্বর বিধানটি হচ্ছে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার শাস্তির বিধান। এতে ছয় মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

খোদ নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েও বিচার পাননি। ‘ঝামেলা’ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অনিয়মের ঘটনা স্বীকার করেন না। নির্বাচন কমিশনও অনিয়ম স্বীকার করতে চায় না। সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে কমিশন যে তৃপ্তি বোধ করে, তা জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে।