banner

শেষ আপডেট ১৩ জুলাই ২০২১,  ২০:০৫  ||   বৃহষ্পতিবার, ২৯ই জুলাই ২০২১ ইং, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এর অপতৎপরতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ জরুরী

সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এর অপতৎপরতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ জরুরী

৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮:৫৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসী কিশোর গ্যাং এর অপতৎপরতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ জরুরী

পর্ব-০১(এক)
ক্রাইম প্রতিবেদক : প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। প্রতিদিন প্রতি নিয়ত নতুন নতুন আবিস্কার মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নতির চরম শিখরে। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছে আগামী প্রজন্ম।ইন্টারনেট ও ফেসবুক, টিভির ক্রাইম সিরিয়ালের কারণে নতুন নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন নতুন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে শিশু কিশোরেরা।কিছুদিন আগে বাঁশখালী থানার গহীন অরণ্যে জঙ্গি আস্তানায় হানা দিয়ে জঙ্গি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে র‌্যাব।
বাঁশখালীর গভীর অরণ্য থেকে জঙ্গি ও অস্ত্র উদ্ধার করলেও এই জঙ্গিদের সাহায্যকারী স্থানীয় জঙ্গিরা ধরা পড়েনি। স্থানীয় কিশোরদের হাতে এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখা যাচ্ছে। যা জঙ্গিদের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্রের সদৃশ্য।
বাঁশখালী আর সাতকানিয়া পাশাপাশি লাগোয়া থানা হওয়ায় অপরাধ করেই বাঁশখালী সাতকানিয়ার গহীন অরণ্যে চলে যায় অপরাধীরা। আস্তে আস্তে নানা অপকর্মে জড়িয়ে যাচ্ছে এই কিশোর সন্ত্রাসী গ্যাং । প্রয়োজনে স্থানীয় প্রভাবশালীকেও ব্যবহার করছে তারা। এই কিশোর সন্ত্রসী গ্যাং এর হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখা যাচ্ছে।
তাদের ছত্রছায়ায় এখন চলছে মাদক ব্যবসা। নারীদের দিয়ে অবৈধ যৌন ব্যবসা। সুইপুরা প্রাইমারী স্কুলের পশ্চিম দিকে বিলের সাথে একটি পাহাড়। পাহাড়ের চুড়ায় গড়ে উঠেছে নারীর অবৈধ ব্যবসা।
সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও আনোয়রা থানার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং চার থানা সদর থেকে দূরে হওয়ায় অপরাধ করেই অন্য থানায় চলে যাচ্ছে এই সকল মাদক ব্যবসায়ী।
সাতকানিয়া বাঁশখালীর সীমান্তে বিশাল চা বাগান। নির্জন এলাকা। অপরাধীদের অভয়ারণ্য।
বাঁশখালীর সাধানপুর, পুকুরিয়া, কালিপুর আর সাতকানিয়ার এওচিয়া, কাঞ্চনা, চরতী ইউনিয়ন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই কিশোর সন্ত্রাসী গ্যাং কখনো মাতব্বর গ্রুফ কখনো সেলিম বাহিনী নামে পরিচিত। সাতকানিয়া থানার চরতী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সুইপুরা গ্রামের সাবেক মেম্বার আবু সৈয়দ ও তার সন্তানেরা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবু সৈয়দ মেম্বার স্থানীয় বিএনপি’র নেতা। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী যুব লীগদের সাথে নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
আবু সৈয়দ মেম্বারের বড় ছেলে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। মেজ ছেলে নাকি অস্ত্র ব্যবসা জঙ্গি কাজে জড়িত। বছরখানিক আগে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হওয়ার কারণে থানা প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে মাদক ব্যবসায়ীরা লোক চক্ষুর আড়ালে চলে যায়।
ইদানিং কার নির্দেশে আবার ওপেন মাদক ব্যবসায় নেমেছে উক্ত গ্যাং ? এটা এলাকাবাসীর প্রশ্ন। আবু সৈয়দ মেম্বারের ছেলে ফাহিমের হাতে দেখা যাচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। প্রতি রাত্রে গুলির আওয়াজ। এলাকার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পাহাড় থেকে গাছ কাটা, পাহাড় কাটা অবৈধ বালি বিক্রিসহ নানা ধরণের অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে উক্ত কিশোর সন্ত্রাসী গ্যাং। নারীদের অবৈধ ব্যবসার সিন্ডিকেট গঢ়ে উঠেছে। কাজের নামে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের আনাগোনাও চোখে পড়ছে।
তাদের ভয়ে কেউ থানায় সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না। অস্ত্র আর মাদক এলাকায় এখন ওপেন সিক্রেট। কথিত আছে উক্ত সুইপুরা এলাকা থেকেই মাদকের সৃষ্টি। সুইপুরা হল মাদক বিক্রির ওপেন বাজার। কিছু স্থানীয় মাদক সেবীরাই এটার নেপথ্যে আছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবী অস্ত্র উদ্ধারে চার থানা সদর থেকে দূরে ইউনিয়নে প্রশাসনের চিরণী অভিযান শুরু করা দরকার। এদের এখনই থামাতে হবে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই এলাকার মানুষ নিরাপদ থাকবে না।
চলবে……….