banner

শেষ আপডেট ২০ নভেম্বর ২০১৭,  ২০:৩৯  ||   সোমবার, ২০ই নভেম্বর ২০১৭ ইং, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

RAB-7 এর দ্বিতীয় বৃহৎ চালানঃ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৩০ লাখ ইয়াবা জব্দ :: দি ক্রাইম :: অপরাধ দমনে সহায়ক ::

RAB-7 এর দ্বিতীয় বৃহৎ চালানঃ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৩০ লাখ ইয়াবা জব্দ

২১ মে ২০১৭ | ১৯:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • RAB-7 এর দ্বিতীয় বৃহৎ চালানঃ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৩০ লাখ ইয়াবা জব্দ

ক্রাইম প্রতিবেদক : ২০ লাখ ইয়াবা ও আট সহযোগীসহ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৭) হাতে ধরা পড়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারার শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা পাচারকারী মোজাহার। দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারাকে ইয়াবা পাচারের
‘স্বর্গরাজ্য’ বানিয়ে   মোজাহার ও অন্য কয়েকটি চক্র কোটি কোটি টাকার ইয়াবা পাচার করছে বলে অভিযোগ আছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এটি র্যাবের হাতে ধরা পড়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ইয়াবার চালান বলে জানা গেছে।
গত রবিবার ভোর ৫টায় বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে এফ বি মোহসেন আউলিয়া নামের একটি ট্রলার থেকে মোজাহার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রলারটি ইয়াবার চালান নিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে হাতিয়া হয়ে আনোয়ারায় আসছিল। অভিযানে ট্রলার তল্লাশি করে ২০ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল
মিফতা উদ্দিন আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাড়ে ২৯ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি।
আনোয়ারায় বঙ্গোপসাগরে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরের পাঁচলাইশ থানার সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও মোজাহার সিন্ডিকেটের প্রধান মো. মোজাহার (৫৫), কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মো. মকতুল হোসেন (৫০), আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. নূর (৩৭), মো. হেলাল (২১), মো. আব্দুল খালেদ (৬০), জানে আলম (৩২), মো. লোকমান (৫৯), মো. নূরুল মোস্তফা (২৬) ও নোয়াখালী সদর থানার মো. এনায়েত উল্লাহ (৭২)। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন র্যাব।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি র্যাবের এ অভিযানকে স্বাগত জানান এবং ইয়াবা পাচার বন্ধে নির্দেশনা দেন। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ জানান, র্যাব-৭ আসামিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ নজরদারির পর তাদের গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
র্যাব জানতে পারে, মিয়ানমার এবং এ দেশীয় পাচারকারীরা আনোয়ারা উপজেলার গহিরাভিত্তিক ইয়াবা পাচারকারী চক্র তৈরি করে। তারা মাছের আড়ালে ইয়াবা নিয়ে আসে। মিয়ানমার থেকে এসব ইয়াবা চালান সাগরেই ট্রলার বদল হয়।
লে. কর্নেল মিফতা বলেন, র্যাব চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ইয়াবা বড় কয়েকটি চালান আটকের পর পাচারকারীরা এখন রুট পরিবর্তন করে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, হাতিয়াসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল দিয়ে ইয়াবা পাচার করছে।
এরই মধ্যে র্যাব জানতে পারে, মোজাহের ফিশিং ট্রলারের অন্তরালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা করেছে। পরে সেখান থেকে আরেকটি ট্রলারযোগে ইয়াবাগুলো আনোয়ারার গহিরার
দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরই র্যাব অভিযান শুরু করে এবং ট্রলার থেকে ইয়াবাসহ আসামিদের
ধরতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে র্যাব দাবি করে।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করে র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমারের নাগরিক শুকুর, লাল মিয়া ও মগ ওরফে সেনসুর কাছ থেকে তারা ইয়াবা সংগ্রহ করে। জব্দকৃত ইয়াবার মালিক মোজাহের ও তাঁর প্রধান সহযোগী আবদুল জলিল প্রকাশ লবণ জলিল ও আবদুর নূর। এই সিন্ডিকেট গত ডিসেম্বর মাসে ১৬ লাখ, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ২০ লাখ করে ৬০ লাখসহ মোট ৭৬ লাখ ইয়াবা পাচার করেছে। চার দফা ইয়াবা পাচারে সক্ষম হলেও
পঞ্চম ধারায় তাঁরা গ্রেপ্তার হয়।
আসামিরা র্যাবকে জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে আনোয়ারার সবুর, কালা মনু, ফয়েজ, সেলিম, জাহাঙ্গীর, জালাল, লেদু ও মনুসহ আরো অনেকে রয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, গত ৭ এপ্রিল আসামিরা মিয়ানমারের নাগরিক মগ ওরফে সেনসুসহ এফ বি মোহসেন আউলিয়া ট্রলারে মাছ ধরার ছদ্মাবরণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে চট্টগ্রামের ফিশারি ঘাট থেকে রওনা করে। ট্রলারটি কর্ণফুলী নদী হয়ে কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফ, শাহরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিনসের পশ্চিম মিয়ানমারের পচাখালীর বাতির বাইরে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে ইয়াবার বস্তা সংগ্রহ করে। পরে সেখান থেকে আনোয়ারার গহিরা আসার
পথে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
র্যাব এর আগে ২৮ লাখ ইয়াবার একটি চালান জব্দ করেছিল। এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ইয়াবার চালান। অন্যদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ১০ লাখ পিসের ইয়াবার একটি বড় চালান উদ্ধার করে বিজিবি। গতকাল সকালের দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের খারিয়াখালী এলাকা থেকে এ পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে এ সময় কোনো পাচারকারীকে আটক করা যায়নি।
এ অভিযান নিয়ে রবিবার দুপুরে টেকনাফের বিজিবি-২ ব্যাটালিয়ন দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ বলেন, ভোরে তাঁর নেতৃত্বে গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে হারিয়াখালী সাগরে বিজিবির একটি টহল দল ওত পেতে থাকে। এ সময় তিন-চারজন লোক মাথায় বস্তা নিয়ে সাগর পাড় থেকে উঠে আসছিল।
বিজিবি সদস্যরা তত্ক্ষণাৎ পাচারকারীদের চ্যালেঞ্জ করেন। তাঁদের (বিজিবি) উপস্থিতি দেখতে পেয়ে পাচারকারীরা বস্তাগুলো ফেলে সাগরে অবস্থিত বোট দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা বস্তাগুলো উদ্ধারের পর গণনা করে
তাতে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা পান। জব্দ হওয়া এই ইয়াবাগুলো বিজিবির টেকনাফ সদর ব্যাটালিয়নে
জমা রাখা হয়েছে, যা পরে ধ্বংস করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বিজিবি সদস্যরা টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নাফনদ তীরের নয়াপাড়া এলাকা থেকে দুই লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ অভিযানে পাচারকারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে শনিবার সেন্ট
মার্টিনস দ্বীপ সন্নিহিত সাগর থেকে একটি ইয়াবাবোঝাই নৌকাসহ ৯ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করেন
কোস্ট গার্ড সদস্যরা। নৌকা থেকে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

 

Leave a Reply