banner

শেষ আপডেট ২৬ অগাস্ট ২০১৯,  ১০:৪৮  ||   সোমবার, ২৬ই আগষ্ট ২০১৯ ইং, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

তদারকির অভাবে পুঁজিবাজারে আসছে ‘দুর্বল’ কোম্পানি

তদারকির অভাবে পুঁজিবাজারে আসছে ‘দুর্বল’ কোম্পানি

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ | ১৬:৪২ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • তদারকির অভাবে পুঁজিবাজারে  আসছে ‘দুর্বল’ কোম্পানি

আইনি কাঠামোর সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে দুর্বল মৌলভিত্তির নতুন কোম্পানি। বাজারে আসা নতুন এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন হাজারো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, ডিএসইর যথাযথ তদারকি না থাকায় এ অনিয়ম থামছে না। এতে আস্থাহীনতার চলমান সংকট থেকে বেরও হতে পারছে না পুঁজিবাজার।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘নতুন তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা বেশি মার্চেন্ট ব্যাংকের ইস্যু ম্যানেজারদের। কোম্পানির প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র তৈরি করে দেয় তারা। এ ইস্যু মানেজারদের কার্যক্রম তদারকির আওতায় না আনা গেলে পুঁজিবাজারে সুফল পাওয়া কঠিন।’

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজার অসম্পূর্ণ, অসত্য তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করছে। এসব অনিয়ম গোচরে আসলেও আইনের মারপ্যাচে অথবা ম্যানেজ করে বেরিয়ে যান তারা। অনিয়মে কঠোর শাস্তির বিধান এবং তা কার্যকর করা সম্ভব না হলে বিনিয়োগবান্ধব হবে না পুঁজিবাজার।রাইট শেয়ার ইস্যু নিয়ে ঢাকা ডায়িংয়ের লিমিটেডের আবেদন নাকচ করে বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয় গোপন করাসহ অনান্য তথ্য-উপাত্ত জমা না দেয়ায় এ আবেদন নাকচ হয়।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের পর তথ্য উপাত্তে অসংহতি খুঁজে পাওয়ায় তা স্থগিত করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। গণপ্রস্তাবে অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়লে  তড়িগড়ি করে কোম্পানির আইপিও স্থগিত করে এসইসি। একই বছর সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিওতে তথ্য উপাত্তে গরমিল থাকায় তা স্থগিত করা হয়। পুঁজিবাজারে সচ্চতা নিশ্চিতে সঠিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে মৌল ভিত্তির নতুন কোম্পানি বাজারে আসায় সহযোগিতা করার কোন বিকল্প নেই। এতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে, বিনিয়োগকারীরাও উৎসাহ পাবেন।

আমরা মনে করি বাজারে অর্থের জোগান বাড়াতে হবে। তাহলে বাজারে লেনদেন বাড়বে। লেনদেন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহন বাড়বে। আস্থা বাড়বে সবার মধ্যে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তা করেন। খারাপ বাজারেও অনেক কোম্পানির শেয়ার দর পড়ছে না, ওঠছে। কারণ তাদের পারফরমেন্স ভালো। এ ধরনের ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে।

মার্চেন্ট ব্যাংকারস ও ইস্যু ম্যানেজারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অনুরোধ করবো নতুন কোম্পানির তথ্য-উপাত্ত গোপন করবেন না।’ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আগে কাগজপত্র সঠিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণের তাগিদ দেন তিনি।  লেনদেন করার মূল সোর্স টাকা। ব্যাংকগুলোতে অনেক টাকা অলস পড়ে আছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবন্ধতা রয়েছে। ফলে ব্যাংগুলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারছে না।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে যে ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারতো সেসময় ব্যাংকগুলো সেখানে ১২০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এখন সেই ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকাও বিনিয়োগ করতে পারছে না। ফলে বাজারে লেনদেন কমে গেছে। আর তা সমন্বয় করার জন্য আরও সময় দরকার।

বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরাতে আমাদের বেশ কয়েকটি দাবি রয়েছে। সেগুলো নিয়ে আমরা বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও কথা বলেছি। দাবি বিবেচনাধিন রয়েছে। তবে এজন্য সময় দরকার। বাস্তবায়ন করতে গেলে বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না তা বিবেচনা করেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি। এক্সপোজার লিমিটেড’র সময় শেষ হবে চলতি বছরের জুন মাসে। অর্থমন্ত্রী এর সময় ২ বছর বাড়ানোর কথা বলেছেন। আশা করি, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হবে।

আমাদের দেশে এখনও ডিসক্লোজার বেইজ প্রসপেক্টাস। ধরুন, আপনি একজন উদ্যোক্তা। আপনি ডিসক্লোজার দিয়েছেন। ডিসক্লোজার ইন অর্ডার ছিল, আপনি অনুমোদন পেয়েছেন, বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। দুই চার বছর ডিভিডেন্ড দিয়েছেন। ভালোই চলছে। হঠাৎ করে কোনো কারণে আপনার ব্যবসা ধস নেমেছে। আপনি ডিভিডেন্ড দিতে পারছেন না। এ কারণে ওই কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে চলে গেছে বা পাঠানো হয়েছে। বিজনেসে ধস হলো তাই রেগুলেটর তাদেরকে শোকজ করছে, জরিমানা করছে, তাদের ব্যবসার উন্নয়ন করতে বলেছে। এরপরও উন্নত হচ্ছে না। এরচেয়ে আর কি করতে পারবে রেগুলেটর। বিশ্বের সব পুঁজিবাজারে কম বেশি এমন ঘটনা ঘটছে এবং ঘটবে।তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবার সজাগ থাকতে হবে।

 আপনি (একজন বিনিয়োগকারী) একটা শেয়ার দশ টাকার কিনেছেন তার বিপরীতে উপযুক্ত ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন কি না। দশ টাকা ব্যাংকে রাখলে যদি বছর শেষে ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পেতেন সেখানে শেয়ারে বিনিয়োগ করে ৬০ পয়সা লভ্যাংশ পেয়েছেন কি না ।যদি পেয়ে থাকেন তাহলে আমি মনে করি এটা স্বাভাবিক বাজার। এখানে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন।

আমি দশ টাকায় শেয়ার কিনেছিলাম কিন্তু দাম নয় টাকায় নেমে এসেছে। আমি আপনাকে বলবো, আপনি বিনিয়োগকারী, আপনি সম্পদ কিনেছেন। আপনি তো ট্রেডার নন। বিনিয়োগ করেছেন এজন্য সময় দিতে হবে। তবে বিনিয়োগের আগে বুঝে শুনে করতে হবে। কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের পূর্বে তার ইতিহাস ঘাটতে হবে, যাচাই বাছাই করতে হবে। তার ধারাবাহিক ডিভিডেন্ডের হার কেমন, শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) কি পরিমাণ আছে, এগুলো যাচাই বাছাই করে তারপর ভালো মনে হলে বিনিয়োগ করুন। তাছাড়া কোনো কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৫ বছর পড়ে থেকে হঠাৎ ডিভিডেন্ড দিয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ওঠে এসেছে। আর সেই কোম্পানির শেয়ার কিনলে তো আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এটা স্বাভাবিক।