banner

শেষ আপডেট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,  ১৯:৫৯  ||   শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

সাতকানিয়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

সাতকানিয়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২:২৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সাতকানিয়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

বিশেষ প্রতিবেদক ::
সম্প্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বাজালিয়া ইউনিয়নের কিশোর গ্যাং এর কিছু কিছু ঘটনা সংবাদ পত্রের শিরোনাম হয়েছে। এই শিরোনামের সুত্র ধরেই দি ক্রাইমের সংবাদ টিম নানাভাবে খোঁজ-খবর নিতে থাকে। এই খোঁজ-খবরের বিত্তিতেই সাতকানিয়া বেপোয়ারা কিশোর গ্যাং বিষয়ে বিশেষ সংবাদ। খোদ বাজালিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্তের শেল্টারে তৈরী হয়েছে কয়েকটি গ্রুপ। তাদের মধ্যে জিসান, শাকিল, রিপন, রনি ও আলমগীর গ্রুপ অন্যতম। এলাকায় সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে।
০২রা জুন ২০২০ সালের যুগান্তরের শিরোনাম হয়েছিল জামায়াত নেতা-চেয়াম্যানের নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতার হত্যার মিশন।বাজালিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সজীবকে হত্যা করার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডেঙ্গার হাবিবুর ও ছদাহা ইউনিয়নের তরিকুলকে। এতে প্রত্যক্ষভাবে বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্তের নাম জড়িত।
জিসানের নামে সাতকানিয়া থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য মামলা গুলো হলো ১২(১১)২০১৭- ধারা-৩৬৫/৩৮৬/৩৪ দ:বি:, ২৭(০৮)২০১৮ ধারা-১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ দ: বি:, ২৪(০৬)২০১৮, ১২(০১)২১০৯ ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ দ: বি:, ২৬(০৮)২০১৮ ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ দ:বি:
এই ধরণের মামলা বাজালিয়া ইউনিয়নের কিশোর গ্যাং শাকিল, রিপন, রনি ও আলমগীর গ্রুপের নামেও আছে। কিন্তু কি কারণে সাতকানিয়া থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছে না তা সাধারণ জনগণের বোধগম্য নয়। এলাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, টাকা দিয়ে সাতকানিয়া আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্তের প্রত্যক্ষ মদদে সৃষ্টি হয়েছে কিশোর গ্যাং। এরা প্রত্যেকেই মাদকের সাথে জড়িত।
এদের বিরুদ্ধে কিছুই বলার নেই । একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দৃষ্টি না দেয় তাহলে ভবিষ্যতে এই কিশোর গ্যাং থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নাই। এরা কতক্ষণ ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়ার নাম বিক্রি করে আবার কতক্ষণ আমিনুল ইসলাম আমিনের নাম বিক্রি করে। কতক্ষণ আবদুল মোতালেব সিআইপি, কতক্ষণ মাননীয় সাংসদ নজরুল ইসলাম, কতক্ষণ মাননীয় সাংসদ আবু রেজা নদভী, আবার কতক্ষণ উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান সালা উদ্দিন হাসান চৌধুরীর নাম বিক্রি করে চলে। ফেসবুকে নেতাদের সাথে এদের ছবিও দেখা যায়। এতে প্রকৃত আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উক্ত কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে খোদ ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারেরা পর্যন্ত মুখ খোলতে নারাজ। কতটুকু ভয়ভীতির মধ্যে থাকলে একজন চৌকিদার কথা বলতে নারাজ তা ভেবে দেখার বিষয়। অথচ প্রতি মঙ্গলবারে তাদের থানায় হাজিরা দিতে হয়। পুলিশ প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চৌকিদার বলেন, আমরা তথ্য দিয়ে লাভ কি আমাদের কথা কি পুলিশ শুনে ? পুলিশ শুনে সোর্সের কথা। কারণ ওখানে অনেক হিসাব নিকাশ আছে যা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভবপর নয়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাজালিয়া ইউনিয়নের এক সিনিয়র সিটিজেন বলেন, আসলে বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরী করে দিতে চায়। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ করতে চাইলেও বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান চাই একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হউক। কারণ তিনি সব সময় হিন্দু-বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদকে সামনে টেনে নিয়ে আসতেছে। তিনি যেভাবে কিশোর গ্যাং কে লালন-পালন করেই চলছে তাতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিশোর গ্যাং এর ব্যাপারে বাজালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের তাপস কান্তি দত্তের সাথে ফোন(০১৮১৯৬০৬১১৮) আলাপ করলে তিনি দি ক্রাইম প্রতিবেদকের ফোনটি রিসিভ করেননি।


কিশোর গ্যাং উত্থানের পেছনের ইতিহাস-
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গিয়ে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে রিফুজীরা যখন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে তখন আসার সময় সাথে করে নিয়ে এসেছে মাদক। তাদের মানবিক সহযোগিতার নামে এক শ্রেণীর লোক কোটি কোটি টাকা আয় করেছে নিয়েছে। টেকনাফের যে সকল লোক দিনে দু’বেলা খাবার জোটেনি তারা এখন কোটি টাকার গাড়ীতে ঘুরে। যে সকল ভবে ঘুরে লোক নিজের এলাকায় আয়ের পথ দেখেনি তারা কোন রকমে কক্সবাজারে থেকে আলিশান বাড়ী গাড়ীর মালিক। তার প্রভাব চট্টগ্রাম হয়ে সারা বাংলাদেশে পড়েছে।
বাংলাদেশের যে কোন অঞ্চলে হাত বাড়ালেই মাদকের ছড়াছড়ি। আগে যে মাদক পাওয়া খুবই কঠিন ছিল তা এখন হাতের কাছেই। এই মাদকে ঘিরে তৈরী হয়েছে একটি সিন্ডিকেট। কাঁচা পয়সা, ক্ষমতার দাপট ধরাকে সরাজ্ঞান করছে না, উড়তি বয়সের কিশোরেরা। তাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকারের এক শ্রেণীর নেতা। যাদেরকে আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। কোন না কোন ভাবে তারা নৌকার টিকেট কেটে চেয়ারম্যান হয়ে গেছে। তারাই কিশোর গ্যাং এর গড় ফাদার নামে খ্যাত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হওয়ার কারণে শিবিরের অনেক ক্যাডার গোপনে নির্জনে চলে গেলেও তাদের কার্যক্রম কিন্তু থেমে থাকেনি। আবার কিছু কিছু ক্যাডার ক্ষমতাসীন দলের কারো না কারো সাথে মিশে কোন রকমে কঠিন সময় পার করছে। সুকৌশলে তারা আওয়ামী লীগের উপর ভর করে তৃণমুল পর্যায়ে প্রকৃত আওয়ামী লীগের উপর নির্যাতন শুরু করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে তাদের চোখে পড়ে। তারা যেন যুগ-যুগান্তরের আওয়ামী লীগ।
সাতকানিয়ায় তৈরী হয়েছে এলাকা ভিত্তিক ছোট ছোট কিশোর গ্যাং। এই কিশোর গ্যাং এর কাজই হল গাঁজা, ইয়াবা, মদ বহন ও বিক্রি করা। ছোট ছোট অস্ত্রেও মহড়াও মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। পুলিশের সাথে সোস নাম দিয়ে এক ধরণের সুসর্ম্পক  তৈরী করে নিয়েছে তারা। এটার ভয়াবহতা কি হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন হয়তোবা বিচার-বিশ্লেষণ করেনি।
মাদক বিক্রির একটা ভাগও নাকি ইউনিয়ন ভিত্তিক পুলিশের যে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার আছে তাদের হাতে চলে যাচ্ছে। পুলিশের হাতে এলাকার বিভিন্ন মামলায় তারা আবার দালালি করেই চলছে। সাতকানিয়া থানার পুলিশের গোলঘর খ্যাত বৈঠকখানা এখন নাকি বিচারকি আদালত। বৈঠক শেষে ২০০০/-(দুই হাজার) টাকা করে দুই পক্ষের চার হাজার টাকা পুলিশকে দিতে হয়। প্রতিদিন বিকাল বেলা সাতকানিয়া থানায় গেলে আপনি হয়তো বা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন এই দৃশ্য । এতে নতুন করে আর সাক্ষীর প্রয়োজন হবে না।
বান্দরবান জেলার সাথে লাগুয়া বাজালিয়া, পুরানগড়। এই রোড দিয়ে প্রতিনিয়ত পাহাড়ী মদসহ নানা ধরণের অবৈধ মালামাল পাচার হচ্ছে। পাশের লাগুয়া ইউনিয়ন কালিয়াইশ, নলুয়া, খাগরিয়া, আমিলাইশ, চরতী, বাঁশখালী থানার পুকুরিয়া ইউনিয়ন হয়ে মাদক, অস্ত্র এখন পাচার হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে। এই কয়েকটি ইউনিয়নের অলিতে গলিতে হাত বাড়ালেই মাদক ছোঁয়া। এটা পুলিশকে বলতে গেলে আপনার কাছ থেকে হাজার ধরণের প্রমাণ চাইবে। কামাকা কেউ কি আর ঝামেলায় জড়াতে চাই ?
এই সকল ইউনিয়নের ছোট ছোট কিশোর গ্যাং কে আশ্রয় বা সেল্টার দিচ্ছে এলাকা ভিক্তিক নব্য আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা। আরো তথ্য পাওয়া গেছে তারা নাকি এলাকা ভিক্তিক জুয়ার আসর বসিয়ে টাকা রোজগার করে যাচ্ছে। যদি জুয়ার আসরের টাকার ভাগ না মিলে তাহলে পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিচ্ছে।
এই কিশোর গ্যাং বিষয়ে এলাকার কোন লোক মুখ খুলতে রাজি নয়। যদি মুখ খোলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে নানা ধরণের নির্যাতন।
চরতী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরতী গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের মেহের আলীর ছেলে সিএনজি চালক আবদুল হান্নান প্রতি নিয়ত বাঁশখালী সাধনপুর বাণীগ্রাম থেকে মাদক নিয়ে এসে বিভিন্ন এলাকায় সাপ্লাই দিচ্ছে। কয়েকদিন আগে চরতীর দুরদুরী এলাকা থেকে কয়েকজন জুয়াড়ি গ্রেফতার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। যা দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় শিরোনাম হয়েছে।
এই কিশোর গ্যাং যদি এখনই প্রতিরোধ করা না যায় তাহলে সামনে নির্বাচন। নির্বাচন কে ঘিরে এই কিশোর গ্যাং বেপোয়ারা হয়েে উঠবে। তাদের সামলাবে কে ? কিছু দিন আগে বাঁশখালীর গহীন অরণ্য থেকে র‌্যাব এসে অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। সেই ধরণের অস্ত্র এখন এই কিশোর গ্যাং এর হাতে। এই কিশোর গ্যাং এর হাতে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করা এখন এই জনপদের সকল সাধারণ মানুষের দাবী।
ক্রমশ…….

সাতকানিয়ায় কিশোর গ্যাং- পর্ব-এক(১)