banner

শেষ আপডেট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,  ১৯:৫৯  ||   শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

পৃথিবীর বিপদ জনক মাছের তথ্যাবলী

পৃথিবীর বিপদ জনক মাছের তথ্যাবলী

২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১১:১৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পৃথিবীর বিপদ জনক মাছের তথ্যাবলী

 

মাহবুবুর রহমান

পৃথিবীতে রয়েছে নানান প্রজাতির মাছ ;যাদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৩০০০ প্রজাতির মাছ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। এই সব মাছ কিন্তু খাওয়া যায় না। কিছু কিছু মাছ খাওয়া তো দূরের কথা, এদের ধরলেই বিপদ। আবার কিছু কিছু মাছ আছে চমকে দেবার মতো ; যেমন -ইলেকট্রিক ফিশ। এরকম আরও অনেক মাছ আছে যা সত্যিই অবাক করার মতো। তাহলে চলুন জেনে নিই সেরকমই কিছু মাছের কথাঃ

বক্স জেলিফিশঃ

নামে ‘ফিশ’হলেও আসলে কিন্তু এটি মাছ নয় ; কারণ এর তো মেরুদণ্ডই নেই। প্রায় ৫০০০ কোটি বছর ধরে সাগরে এদের বাস। পৃথিবীর সব মহাসাগরেই এদের দেখতে পাওয়া যায়। দেখতে সুন্দর হলেও আসলে কিন্তু অত্যন্ত বিষাক্ত এই সামুদ্রিক প্রাণীটি। এর বিষ যদি কোনোভাবে মানুষের শরীরে ঢোকে তাহলে অস্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণীর তালিকায় এটি রয়েছে এক নম্বরে।

স্টোন ফিশ বা পাথুরে মাছঃ

দেখলে মনে হবে যেন জলের মধ্যে শ্যাওলা ধরা একটা পাথর। কিন্তু আসলে এটি একটি বিষাক্ত মাছ! বিশ্বের বিষাক্ত মাছেদের মধ্যে এটি অন্যতম। এর পিঠে রয়েছে প্রায় ৩০ টি কাঁটা। পাথর মনে করে কেউ একবার এর উপর পা ফেললেই শেষ। সারা শরীর প্যারালাইজড হয়ে যাবে। দেখতে অনেকটা পাথরের মতো হওয়ায় এই মাছ সহজেই নিজের বর্ণ লুকিয়ে নিজেকে আড়াল করতে পারে।

পাফার ফিশ বা পটকা মাছঃ

এই পাফার ফিশ অত্যন্ত বিষাক্ত । যদিও আমাদের দেশে সবাই একে ‘পটকা মাছ’ নামেই চেনে। নিজের আকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম এই প্রাণীটি আসলে গভীর জলের মাছ। চিন, জাপান, ফিলিপিন্স, মেক্সিকোর আশেপাশের সমুদ্রে দেখা মেলে এই অদ্ভুত দর্শন মাছের। এদের অধিকাংশ প্রজাতিই ভয়ংকর বিষাক্ত। যখন এরা দেহ ফোলায় তখন এরা এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান নিঃসরণ করে, যাকে বলা হয় ‘টেট্রাডক্সিন ‘।এটি নিউরোটক্সিন প্রকৃতির এক ধরনের বিষ। অত্যন্ত বিষাক্ত সায়ানাইডের থেকেও এটি ১২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী।

আটকামা স্নেইল ফিশঃ

এটি এমন এক মাছ যার শরীর স্বচ্ছ। শরীরে কাঁটার সংখ্যাও নগন্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৬ হাজার ফুট নিচে এদের বাস। সারা পৃথিবীতে ৪০০- রও বেশি স্নেইল ফিশের প্রজাতি রয়েছে। কিন্তু এদের থেকে এই আটকামা স্নেইল ফিশের প্রজাতি সত্যিই আলাদা। দেখা গেছে, এই মাছকে সমুদ্রপৃষ্ঠে আনা হলে সেখানকার তাপমাত্রায় এরা গলে যায়! আপাতত বিজ্ঞানীরা একটি মাছকে আলাদা করে সংরক্ষণ করেছেন। সেটাকে বাঁচানো না গেলেও তার শরীরকে গলে যাওয়া থেকে আটকানো গিয়েছে। আর সেটিকে নিয়েই বর্তমানে পরীক্ষা করছেন গবেষকেরা। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে এই মাছ সম্পর্কে আরও বিস্ময়কর তথ্য আমরা জানতে পারব।

ইলেকট্রিক ইলঃ

লম্বা, চোঙাকৃতি এই মাছটি পাওয়া যায় দক্ষিণ আমেরিকার নদীতে। এই মাছে গায়ে কোনো আঁশ থাকে না। লেজের দিকে থাকে বিদ্যুৎবাহী অঙ্গ। শিকারকে বাগে পেতে একসঙ্গে প্রায় ৩০০-৬৫০ ভোল্ট বিদ্যুৎতের শক দিতে পারে। যার ফল মৃত্যু।

উড়ুক্কু মাছঃ

”মাছ উড়তে পারে! ” এটি শুনে কেউ কেউ হেসে উড়িয়ে দিলেও আসলে কিন্তু ব্যাপারটা সত্যি। এই মাছ সমুদ্রের উপরিভাগে অল্প দূরত্ব অবধি ওড়ার ক্ষমতা রাখে। এদের বক্ষ পাখনা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রোণি পাখনাও প্রসারিত হয়ে ডানার মতন গঠন পর্যন্ত তৈরি করে। এখনও পর্যন্ত ৬৪ প্রজাতির উড়ুক্কু মাছে সন্ধান পাওয়া গেছে। এরা সাধারণত ঝাঁক বেঁধে চলে ।বাতাসের গতি বা ঢেউয়ের উপর নির্ভর করে এরা ৩০ সেকেন্ড অবধি বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। জল ছেড়ে এর হাওয়ায় ভাসার পেছনে রয়েছে দুটি উদ্দেশ্য – প্রথমটি হলো প্ল্যাঙ্কটন জাতীয় খাবার খাওয়া আর দ্বিতীয়টি হলো আত্মরক্ষা। উষ্ণমন্ডলে সব সাগরেই এই মাছের দেখা মেলে। সত্যি বড়োই বিচিত্র এই মাছ!

মোরে ইলঃ

নামে ইল হলেও বিদ্যুৎতের শক দিতে পারে না এই ‘মোরে ইল’।পৃথিবিতে প্রায় ৮০ প্রজাতির মোরে ইল আছে। এর মধ্যে ৬০ টি প্রজাতির মাছ এতটাই বিষাক্ত যে, এগুলি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু নিশ্চিত। এদের ছোটো গোলাকার ফুলকা রয়েছে, যার কারণে এদের পাখনা দেখা যায় না ।এছাড়াও এদের রয়েছে চকচকে ধারালো দাঁত। যা দিয়ে তারা মানুষকে পর্যন্ত আক্রমণ করে। কিন্তু মানুষকে তারা তখনই আক্রমণ করে যখন মানুষ তাদের বারবার বিরক্ত করে। আর তাই এদের ‘ঠান্ডা মাথার খুনি ‘ বলা হয়।

রেড লায়ন ফিশঃ

বিষাক্ত সরু সরু পাখনার জন্য বিখ্যাত এই মাছ। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এই মাছে দেখা মেলে। এরা সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। দেখতে সুন্দর হলেও আসলে অত্যন্ত বিষাক্ত এই মাছ।

টুথপিক বা ক্যানডিরু মাছঃ

দেখতে খুব নিরীহ এই মাছ। খুব চিকন আর মাত্র ২ ইঞ্চি লম্বা। যদি এই মাছ দেখে আপনার মায়া হয় তাহলে আপনি বিরাট বড়ো ভুল করছেন। কারণ চেহারার সাথে যে এই মাছের চরিত্রের কোনো মিল নেই! কারণ এই মাছের আছে এক বিচ্ছিরি অভ্যাস। আর তা হলো সু্যােগ পেলেই এটি পুরুষাঙ্গের ভেতর দিয়ে মূত্রথলিতে পৌঁছে ওখানেই আস্তানা গাড়ে। এরপর সেটার শ্বাসতন্ত্রের নিচের সূক্ষ্ম কাঁটাওয়ালা শুঁড়গুলো চারপাশে ছড়িয়ে নিজেকে ওখানে আটকে ফেলে। এতে মূত্রথলির মূত্র নিঃসরণের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ ঘন্টার মধ্যে মৃত্যুবরণ করে!

টাইগার ফিশঃ

বিশ্বে বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখিখেকো মাছ আছে। যারা জলে নামা কিংবা জলাশয়ের কিনারে বসে থাকা ছোটো পাখি শিকার করে। কিন্তু টাইগার ফিশ কিছুটা আলাদা। কারণ এরা জল ঘেঁষে উড়ে যাওয়া পাখিও শিকার করে। গবেষকেরা দেখেছেন, টাইগার ফিশ জল থেকে শূন্যে লাফিয়ে উঠে পাখি ধরে খায়। আর এজন্য এদের রয়েছে ছুরির মতো লম্বা আর ধারালো দাঁত। মূলত আফ্রিকার কঙ্গো নদীর অববাহিকায় এদের দেখা যায়।

পিরানহা মাছঃ

পিরানহা মাছ এক মূর্তিমান হুমকি !এটি অত্যন্ত হিংস্র এবং রাক্ষুসে একটি মাছ। সারা বিশ্বে মানুষখেকো মাছ হিসেবে পরিচিত পিরানহা মাছে মানুষের প্রথম আঘাতের স্থান পায়ের আঙুল। তিন ধরনের শব্দ উৎপন্ন করার মাধ্যমে এদের নিজস্ব একটা ভাষা আছে। ক্ষুধার্ত থাকার সময় এক পিরানহা মাছ আরেক পিরানহা মাছকে পর্যন্ত খেয়ে থাকে। ধারালো দাঁত আর প্রায় মানুষের মতো জিভ থাকার কারণে এই মাছ তার লক্ষ্যবস্তুতে শরীরের ১০ গুণ বেশি শক্তিতে কামড় দিতে সক্ষম। এখনো পর্যন্ত প্রায় ৬০ প্রজাতির পিরানহা মাছ পাওয়া গেছে। দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো এই মাছ পাওয়া যায় অ্যামাজন নদীতে।

স্নেকহেড ফিশঃ

স্নেকহেডের দেখা মেলে পশ্চিমের দেশগুলোত। এরা সাধারণত এমন জায়গায় থাকে যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আশ্রয় নেয়। স্নেকহেডের খাদ্য হলো মাছ, ব্যাং এবং এমন কিছু যা তার চলার পথে নড়ে ওঠে। এরা জলের বাইরে ৪ দিন বেঁচে থাকতে পারে।

গুনচ ফিশঃ

এই মাছের সন্ধান মেলে ইন্ডিয়া আর নেপালের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘ কালি নদীতে ‘। অনেক দিন যাবত হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া বা হঠাৎ তলিয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে এই নদীতে। কিন্তু এর কারণ কারোরই জানা ছিল না যতদিন পর্যন্ত না এই মাছের সন্ধান মেলে এই নদীতে। এই মাছের খাদ্য তালিকায় মানুষের অবস্থান সবার উপরে । খয়েরি রঙের ৭ ফুট লম্বা এবং ৩০০ পাউন্ড ওজনের এই মাছ্র আছে ব্লেডের মতো ধারালো দাঁত, যা খুবই ভয়ংকর!!