banner

শেষ আপডেট ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১,  ১৯:৫৯  ||   শনিবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং, ৩ আশ্বিন ১৪২৮

খাল ও নালা নর্দমা ভুমিদস্যুদের দখলে: একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমান পানি

খাল ও নালা নর্দমা ভুমিদস্যুদের দখলে: একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমান পানি

৭ জুলাই ২০২১ | ১৮:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • খাল ও নালা নর্দমা ভুমিদস্যুদের দখলে: একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমান পানি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে লম্প-ঝম্প করতে দেখা যায়। চট্টগ্রামকে ‘উন্নয়নের জোয়ারে’ ভাসিয়ে দেওয়ার নানা প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবার নির্বাচন পরবর্তী এযাবৎকালে মহানগরীর জলবদ্ধতা সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রাম মহানগরের বেশ কিছু এলাকা। প্রতি বর্ষায় বৃহত্তর বাকলিয়ার মধ্যে পশ্চিম বাকলিয়ার চিত্র থাকে খুবই করুণ ও ভয়াবহ। এটা পশ্চিম বাকলিয়া বাসীর আজীবন দুঃখ।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,পশ্চিম বাকলিয়াস্থ বগার বিল, শান্তিনগর ও ব্যাংক কলোনী চত্বর জুড়ে পাকা বাড়ী ও আধাপাকা বাড়ির বাড়ীওয়ালা ও বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার ভাড়াটিয়াসহ ১০/১২ হাজার পরিবারের বসবাস। কিন্তু প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই এলাকা সবচেয়ে বেশী পানিতে ডুবে থাকে। হাঁটু পানিতে ডুবে থাকে সড়ক। অলিগলি-ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে পানি। পানি-বন্দি হয়ে এই এলাকার পরিবারগুলো সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে। তাদের ভাষ্য – “প্রতিবার নির্বাচনে মেয়র-কমিশনার আসে যায় কিন্তু কিছুতেই এ দূর্ভোগ লাঘব হয় না।” এর জন্যে মুলতঃ এলাকার ভুমিদস্যু তথা চসিক এর নিষ্কৃয়তাই একমাত্র দায়ী। এলাকার কিছু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভুমিদস্যুরা উল্লেখিত এলাকা সমূহের ছোট-বড় প্রায় সব খাল, ছড়া ও নালা ভরাট করে রাস্তা ও বাড়ীঘর নির্মাণ করেছে। যার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকায় এলাকায় জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং এ পানি ২/৪দিন পর্যন্ত এলাকায় জমে থাকে। চসিক কর্তৃক এলাকার সিএস, আরএস, পিএস ও বিএস সিট-খতিয়ান যাচাই করলে সহজেই জানা যাবে কি পরিমান ছোট-বড় ছড়া, খাল ও নালা-নর্দমা বেদখল হয়ে গেছে এলাকার ভুমিদস্যুদের কবলে।
অভিযোগ আছে, বগার বিল এলাকার নিরাপদ হাউজিং এলাকায় মাঝের খালের দক্ষিণ অংশের মোড়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খালটি ভরাট করে দালান নির্মান করা হয়েছে। একইভাবে নিরাপদ হাউজিং-২ এর মধ্যে সর্দার বাড়ী এলাকার আশে-পাশে বেশ কিছু ছোট-বড় গুরুত্বপূর্ণ ছড়া, খাল ভরাট করে বাড়ী ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ভূমিদস্যুরা ক্রমে ছোট-বড় অনেক ছড়া, খাল,নালা-নর্দমা ভরাট করে নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে শান্তি নগর (বগারবিল) এলাকার “জনকল্যাণ আবাসিক সমিতি’র সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা লায়ন আলহাজ্ব সি এস কে ছিদ্দিকী জানান, চট্টগ্রাম একটি পাহাড়ি অঞ্চল। বর্ষার সময় পাহাড়ি ও সমতলের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য কিছু খাল ও ছড়া ছিল। সে সব খাল ও ছড়ার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কর্ণফুলীর মাধ্যমে সাগরে নিষ্কাশিত হতো। এখন সে সব বিলুপ্ত বা বেদখলে। এভাবে আমাদের বগারবিলে আর এস সিটে কিছু খাল ও ছড়া ছিল। এসব ছড়া ও খালের জমিগুলি খাস থাকাতে এলাকার প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় কিছু ভুমিদস্যু এসব ছড়া ও খালের মধ্যে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাটি ভরাটসহ নানাভাবে ভরাটের মাধ্যমে রাস্তা বানিয়ে রাস্তার দু’পাশের ভুমি মালিকদের নিকট থেকে অর্থিক সুবিধা আদায় করেছে। বগার বিল এলাকায় প্রায় ছোটবড় অনেক খাল, ছড়া ও নালা ভুমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে। যেহেতু খাস জায়গা তাই প্রভাবশালীদের ভয়ে ভুমিদস্যুদের এ অনৈতিক কাজে কেউ প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করেনি। আর প্রতিবছর বর্ষাকালে এ এলাকায় ৪/৫ দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। এ এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে গেলে অচিরেই আর এস সিট ভুক্ত খালগুলি ভুমিদস্যুদের দখল হতে পুনরুদ্ধার করতে হবে। তিনি এব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়রের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আমাদের চট্টগ্রাম মহানগরটি মুলতঃ বঙ্গোপসাগর, কর্ণফুলী ও হালদা নদী ঘিরে এর অবস্থান। ভৌগোলিকভাবে সাগর-নদীবেষ্টিত হওয়ায় পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কথা। কিন্তু নগর জুড়ে নালা-নর্দমা ও খাল-বিল ক্রমে ভুমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ায় নগরীর পানি নিষ্কাশন বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগর থেকে পানি সরাসরি প্রবাহিত হয়ে চাক্তাই খাল, রাজা খাল, বিবি মরিয়ম খাল, কলাবাগিচা খাল, ফিরিঙ্গিবাজার খাল, বাকলিয়া খাল, মহেশ খাল, বোট ক্লাব খাল ও ডোমখালী খাল দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে পড়তো । কিন্তু এসব খালেরও অধিকাংশ স্থান দখল-ভরাটের কবলে। ২০ ফুট প্রস্থের খাল এখন হয়ে গেছে ১০ ফুটের। খালের পাড়ে নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে প্রতিটি খালেরই এখন মরণদশা। পক্ষান্তরে চট্টগ্রাম মহানগরের অভ্যন্তরে কয়টি খাল আছে এর সঠিক সংখ্যা নেই কোনো সংস্থার কাছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে খাল নিয়ে রয়েছে ভিন্ন তথ্য। অতীতে চট্টগ্রাম মহানগরে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮২ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ১১৮টি খাল থাকার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত অর্ধশত খাল এখন অস্তিত্বহীন। এভাবে মহানগরের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়তই কমছে ছোট-বড় খাল। দখল-ভরাটের কবলে কমছে খালের সংখ্যা। খাল কমার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বৃষ্টির পানির প্রবাহ। ফলে প্রতিবছর বর্ষাকালে ভারি বৃষ্টি হলেই তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
১৭ নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল আলমের সাথে উল্লেখিত ব্যাপারে আলাপকালে তিনি জানান, এটা সত্য অতীতে এ এলাকা থেকে পানি যাওয়া আসার অনেক পথ ছিল। এখন সে সব পথে অনেকে রাস্তা বেঁধে  ফেলেছে। মৌসুমির পঁচিশ কামড়ার পাশ দিয়ে একটি কাঁচা নালা ছিল যা মৌসুমির দিক থেকে পানি এসে পূর্ব দিকে চলে যেত, এখন সেটিও নেই। আমরা মেয়র মহোদয়ের পরামর্শক্রমে চসিক এর  সার্ভেয়ার দিয়ে সিট খতিয়ান দেখে রেকর্ডেড যে সব নালা-নর্দমা পাবো জনস্বার্থে সেগুলো অচিরেই উদ্ধারের ব্যবস্থা নেবো। অতীতে আমাদের পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় অনেক পথ দিয়ে পানি নেমে যেতো, বিলের উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে যেত, পানি নামার কিছু পথ ছিল। পানি জমে থাকতো না। কিন্তু ক্রমে পানি উঠা-নামার পথগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ায় এলাকায় এখন জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অচিরেই আমরা চসিকের সার্ভেয়ার দিয়ে এলাকার সিএস, আরএস, পিস,বিএস সিট খতিয়ান নিয়ে যাচাই বাছাই করে দেখবো। এরপর চসিক এর নিয়ম মাফিক আইনানুগভাবে এসব ছড়া, খাল,নালা-নর্দমা বা পানি উঠা-নামার পথ উদ্ধারের  ব্যবস্থা নেব।