banner

শেষ আপডেট ৩ ডিসেম্বর ২০২০,  ২০:১০  ||   বৃহষ্পতিবার, ৩ই ডিসেম্বর ২০২০ ইং, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আমাদের স্কুল আনন্দের এক রঙিন ফুল

আমাদের স্কুল আনন্দের এক রঙিন ফুল

২ নভেম্বর ২০২০ | ১৮:৪৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আমাদের স্কুল আনন্দের এক রঙিন ফুল
কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম : মরিয়ম নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সমাপনি ও বৃত্তির ফলাফলসহ বিভিন্ন দিক মূল্যায়নে রাংগুনিয়া উপজেলার অন্যতম একটি স্বনামধন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। ১৯৩৫ সালে মরিয়ম নগর ইউনিয়নের ফুলগাজী পাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজ অবধি সুনামের সাথে শিক্ষার আলো বিতরণ করে চলেছে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিকেরও বেশি ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়টিতে পড়াশুনা করছে। একঝাঁক দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে চলেছেন নিয়মিত। প্রধান শিক্ষক শায়লা শরমিনসহ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকগণ হলেন কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম, মোহাম্মদ শাহ শাওন, খোরশেদ আলম,  পারভীন আকতার,  এস মাহান,  দিলুয়ারা বেগম,  সায়মা আকতার,  বিবি আমেনা,  নুসরাত সুলতানা, প্রিয়াংকা বড়ুয়া ও  বর্ণা মুৎসুদ্দী।
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত মনোরম ক্লাশরুম , পরিচ্ছন্নতার জন্য ওয়াশব্লকসহ হাত ধোয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে খেলার মাঠ যেখানে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করে। দৃষ্টিনন্দন স্কুলভবনটি যে কোন কারোরই দৃষ্টি আকর্ষণ করবে নি:সন্দেহে। শিক্ষকদের জন্য গোছানো ও পরিপাটি অফিসকক্ষ রয়েছে।
প্রতিবছর বিদ্যালয় থেকে সমাপনি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয় এবং অনেকে ট্যালেন্টপুল ও সাধারন বৃত্তি লাভ করে। ডিজিটাল পাঠদানসহ শ্রেণিতে শিক্ষকদের আন্তরিকতার কারণে এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাশে আনন্দের সাথে পাঠ গ্রহণ করে থাকে। শিক্ষকদের প্রদত্ত পাঠে তারা বেশ উৎফুল্ল ও আগ্রহী হয়ে উঠে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বর্তমান ক্লাস্টার অফিসার  মো: নিজাম উদ্দীন স্যার ও প্রধান শিক্ষক শায়লা শরমিনের দিক নির্দেশনায় এবং শিক্ষকবৃন্দের দক্ষতার মাধ্যমে স্কুলটি ক্রমশ: এগিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সকল শিক্ষক স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রত্যকেই শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছেন। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক  মোহাস্মদ শাহ শাওন ও খোরশেদ আলম যথাক্রমে গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ের প্রশিক্ষক ( TOT)। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সময়ে সময়ে জারি করা নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রতি সাময়িক পরীক্ষার পর মা সমাবেশের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয়ে জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। যার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
বিদ্যালয়ে রয়েছে একটি পরিচালনা কমিটি। এতে সভাপতি হারেছ উদ্দীনসহ রয়েছেন সহ সভাপতি  আলহাজ আবদুর রহিম,  সুরভী বড়ুয়া,  আজিমুল কদর,  মুঈন উদ্দীন,  হারুন রশিদ, মমতাজ বেগম,  হালিমা বেগম ও খুরশিদা বেগম। মরিয়ম নগর ইউপি চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব মুজিবুল হক হীরু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তিনি নানা সময় স্কুলের  জন্য কাজ করেছেন এবং সহযোগিতা করে থাকেন।
জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে। ভালো ফলাফল ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নানা কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। রয়েছে কাবদল। এই করোনাকালেও স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যেকে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারী হাবিবুর রহমান হাবিবও রয়েছেন বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য। বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণ কর্মসূচি পালিত হয় প্রতিবছর। বিত্তবান ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তায় গরিব ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় সহযোগিতা প্রদান করা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করলে বিদ্যালয়টি উপজেলায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমি বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।★ লেখক: শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক।