banner

শেষ আপডেট ১০ জানুয়ারী ২০২১,  ২১:০৯  ||   বুধবার, ২০ই জানুয়ারী ২০২১ ইং, ৭ মাঘ ১৪২৭

পুলিশি তৎপরতায় সংঘাত এড়ালো রাঙ্গুনিয়াবাসীঃ আল্লামা তাহেরীর মাহফিল সুসম্পন্ন

পুলিশি তৎপরতায় সংঘাত এড়ালো রাঙ্গুনিয়াবাসীঃ আল্লামা তাহেরীর মাহফিল সুসম্পন্ন

২৮ অক্টোবর ২০২০ | ১৯:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পুলিশি তৎপরতায় সংঘাত এড়ালো রাঙ্গুনিয়াবাসীঃ আল্লামা তাহেরীর মাহফিল সুসম্পন্ন
আশিক এলাহী,রাঙ্গুনিয়া: গভীর রাত। মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে স্থানীয় দুটিপক্ষ। যে কোন মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনার মুহূর্তে সেখানে হাজির হন রাঙ্গুনিয়া সার্কেল এএসপির নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স। তারপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিবদমান উভয়পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক। ফলাফল?  সকল শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে  সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে মাহফিলটি।
রাঙ্গুনিয়ায় সফল মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করে প্রশংসায় ভাসছে স্থানীয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর উপজেলার সরফভাটা এলাকায় উইনার তরুণ সমাজ নামীয় সংগঠনের আয়োজনে ওয়াজ মাহফিলের তারিখ ধার্য ছিল। ওয়ায়েজিন হিসেবে জনপ্রিয় বক্তা মুফতি গিয়াসউদ্দিন তাহেরীসহ আরো বেশ ক’জন বক্তার উপস্থিত থাকার কথা নিশ্চিত করে আয়োজকদের তরফে প্রচারণাও চালানো হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই আগের রাতে (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় অন্য একটি পক্ষ একজন বক্তার বিষয়ে আপত্তি তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে মাহফিল প্রতিহতের ঘোষণা দিলে গোটা এলাকাবাসী মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়। তৈরি হয় সংঘাতের সম্ভাবনা।
উদ্ভুত পরিস্থিতির খবর পেয়ে মধ্যরাতেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মিল্কিসহ পুলিশের একটি দল। তারপর জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ ও উভয়পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং পুলিশের মধ্যস্থতায় শুরু হয় সমঝোতা বৈঠক। একের পর এক প্রস্তাব-পাল্টাপ্রস্তাব, দাবি- পাল্টাদাবি শেষে উভয়পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে মাহফিল আয়োজনে সম্মত হন। পুলিশের ভূমিকা এবং উভয় পক্ষের মিলিত মতামতের ভিত্তিতে কোনরকম ঝামেলা ব্যতীতই ২৬ অক্টোবর মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে সার্কেল এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানটি সম্পন্নের প্রতিশ্রুতি দেন। অবশেষে মাহফিলটি সুসম্পন্ন হয়েছে। রাঙ্গুনিয়াবাসীকে ধন্যবাদ যে, তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে  এই সরফভাটা এলাকাতেই  অনুরূপ এক মাহফিলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তখন পুলিশকে দুই শতাধিক রাউন্ড গুলিও ছুড়তে হয়। কিন্তু এবার গভীর রাতে দূরবর্তী এ এলাকায় উপস্থিত হয়ে পূর্বের ন্যায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট করা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পুলিশের  ভূমিকায় খুশি স্থানীয়রা।