banner

শেষ আপডেট ২৬ অক্টোবর ২০২০,  ২০:০৩  ||   সোমবার, ২৬ই অক্টোবর ২০২০ ইং, ১১ কার্তিক ১৪২৭

দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোকবর্তিকা বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি

দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোকবর্তিকা বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি

১৬ অক্টোবর ২০২০ | ১৮:১১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • দক্ষিণ চট্টগ্রামের আলোকবর্তিকা বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি
রাজিব শর্মা:  চন্দনাইশের ১০০ একর জায়গার উপর বিজিসি বিদ্যানগর। ২০০১ সাল থেকে সবুজে ঘেরা এই বিদ্যানগরে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি নির্মল পরিবেশে শত শত শিক্ষার্থীকে দিয়ে যাচ্ছে উচ্চ শিক্ষা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশ-বিদেশে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ছড়িয়ে দিচ্ছে মেধার আলো। বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম শহর থেকে চন্দনাইশ বিদ্যানগরে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বিনা খরচে ট্রান্সপোর্ট সুবিধা দিয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদে সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। চন্দনাইশের কাঞ্চন নগরে বিজিসি বিদ্যানগরে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ হলো- ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, কলা, বিজ্ঞান। এ পাঁচটি অনুষদের অধীনে বিবিএ, এমবিএ, বিএ(অনার্স) ইন ইংলিশ, বি ফার্ম (অনার্স), বিএসসি (অনার্স) ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এলএলবি (অনার্স) বিষয়ে প্রতি বছরই নতুন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী বলেন, ‘বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ একটি আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন আহমদ উচ্চ শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে উচ্চ শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা দেশে বিদেশে সুনামের সাথে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি বিভাগে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও পিএইচডি সহ বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছেন। তাছাড়া শিক্ষকদের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য ছুটি এবং অনুদান প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে গ্রামীণ মনোরম পরিবেশে পাঠদান করানো হয়ে থাকে। ক্যাম্পাস ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াই ফাই সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সেমিনার হল, এবং নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। কোর্স ক্যারিকুলাম এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ সুপরিসর ল্যাবরেটরি রয়েছে। আছে খেলার মাঠ, লেক, বিশাল শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু ফ্রিডম স্কোয়ার।

 অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় কম টিউশন ফি এবং মাসিক কিস্তিতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলকারী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিধবার সন্তান, সহোদর, উপজাতীয় শিক্ষার্থী, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত খেলোয়াড়, শিল্পী সর্বোপরি অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও রয়েছে সেমিস্টার ফলাফলের মাধ্যমে বিশেষ বৃত্তির সুযোগও। বিশেষ সুযোগ হিসেবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কলেজগুলো থেকে এইচএসসি. পাস করা শিক্ষার্থীদের সকল প্রোগ্রামে টিউশন ফি ১০ বিশেষ ছাড় দেয়া হয়।
বিজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই ও দেশী-বিদেশী জার্নাল সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি। যেখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরির সদস্যভুক্ত করা হয়েছে এটিকে। যার মাধ্যমে দেশী বিদেশী অসংখ্য ই জার্নাল ও ই-বুক অনলাইনে প্রবেশ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার সাথে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির রয়েছে সমঝোতা স্বারক। ইউএসএ’র স্টোনি ব্রুক ইউনিভার্সিটি অব্‌ স্টোনিব্রুক ও মালয়েশিয়ার বাইনারী ইউনিভার্সিটিতে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর বিবিএ ও এমবিএ’র শিক্ষার্থীরা বিশেষ টিউশন ফি ছাড় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আয়োজন করে থাকে। ক্যাম্পাসে ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং কনটেস্টও আয়োজন করা হয়। বিজিসি ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত ইব্রাহিম ইকবাল মেমোরিয়াল হাসপাতালের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষ ছাড়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাসেই রয়েছে স্বল্প খরচে ক্যান্টিন সুবিধা।