banner

শেষ আপডেট ২৫ অক্টোবর ২০২০,  ১০:১৪  ||   রবিবার, ২৫ই অক্টোবর ২০২০ ইং, ১০ কার্তিক ১৪২৭

পাহাড়তলীর ডিটি রোড থেকে মহিলা প্রতারক আটক

পাহাড়তলীর ডিটি রোড থেকে মহিলা প্রতারক আটক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২০:১৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পাহাড়তলীর ডিটি রোড থেকে মহিলা প্রতারক আটক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন ডিটি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজন প্রতারককে আটক । আটককৃত এই প্রতারক নিজেকে কখনো দাবি করেন ম্যাজিস্ট্রেট, কখনোবা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক, কখনো ক্যাব সভাপতি, কখনো মানবাধিকারকর্মী, কখনো সাংবাদিক, কখনো এনজিও বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, কখনো দেশি বিদেশি নিয়োগকারী সংস্থার মহাব্যবস্থাপক, কখনো আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী, কখনো পরিবেশবিদ।গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন ডিটি রোড এলাকায় অবস্থিত ঢাকা ভবনের (ইউনিয়ন ব্যাংক ভবন) ১০ম তলায় অবস্থিত “স্বীকৃতি” নামক ভুয়া সংস্থার অফিসে অভিযান চালিয়ে পারভীন আক্তার (৫০) নামে একজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম।

র‍্যাব-৭ জানায়, আসামী পারভীন আক্তার ওই কথিত সংস্থার প্রধান। এর আগে কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও কর্মচারী র‍্যাব-৭ এ সংস্থাটি ও তার প্রধানের প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের ব্যাপারে অভিযোগ করে।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সংস্থাপ্রধান ও তার নিয়োগ করা বিভিন্ন কর্মচারীর মিষ্টি কথায় ভুলে ও বিভিন্ন সুযোগসুবিধার আশায় দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটিতে সঞ্চয় করেন। কিন্তু সঞ্চয়ের সীমা শেষ হয়ে গেলেও পারভীন আক্তার তাদেরকে মূল টাকা বা লাভ দিতে অস্বীকৃতি জানান। পারভীন আক্তারের প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের জন্য তার কর্মচারীরা চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলেও তাদেরকে চুরির মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাকরি করতে বাধ্য করতেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক কর্মচারীর কাছ থেকে জামানত হিসেবে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করতেন। কিন্তু সেগুলো আর ফেরত দিতেন না।
র‍্যাব-৭ এর আভিযানিক দল ওই অফিস এবং তার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে সঞ্চয় ও ঋণ পাসবই, পূরণ করা চেক, স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও জমা বই, চুক্তিনামা, স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্প, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের জরিমানা আদায়ের রশিদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সিল, স্বীকৃতি নামক সংস্থার ডেবিট ও ক্রেডিট ভাউচার বই, ফিক্সড ডিপোজিট রশিদ বই, অনুদান আদায়ের রশিদ বই, ক্যাশ পজিশন বই, প্যাড, বিদেশগমনের লিফলেট, বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড, নিয়োগপত্র, লেজার বই, অঙ্গীকারনামা বই, মাসিক চাঁদা আদায়ের রশিদ, মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির বই, হিসাব খোলার বই, সাপ্তাহিক টপশিট, মাসিক সঞ্চয় আবেদন বই, প্রকল্প প্রস্তাব, আইডি কার্ড, ৪টি পাসপোর্ট, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর একটি ভুয়া এনআইডি কার্ডসহ আরো বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জব্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী বিভিন্ন ভুয়া ও অবাস্তব প্রকল্প এবং সচেতনতা কার্যক্রম দেখিয়ে বিভিন্ন সরকারি অধিদপ্তর/মন্ত্রণালয়ে অনুদানের আবেদন করে থাকে। এছাড়াও সে ভূতুড়ে কার্যক্রম দেখিয়ে কিছুদিন আগে একটি মন্ত্রণালয়ে ৬কোটি ৩৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪০০ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। আসামী পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় এবং কোর্টে ১০টিরও বেশি প্রতারণা মামলা আছে।

২০১৪ সালে তার প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের কারণে সমবায় অধিদপ্তর স্বীকৃতি সংস্থাটির লাইসেন্স বাতিল করে। সে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিতে লাইসেন্সের আবেদন করলেও প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের জন্য লাইসেন্স অনুমোদিত হয়নি। এরপরেও সে তার প্রতারণামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলো। গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন পরিচয়ে তার প্রতারণামূলক কর্মকান্ড যেমন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় আদায়, ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হুমকি প্রদান করে চাঁদা আদায়, আইনি সহায়তা দেয়া, চাকরি দেয়া বা বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা আদায় ইত্যাদি কর্মকান্ডের কথা স্বীকার করেছে। এই কর্মকান্ডের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে র‍্যাব-৭।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে নগরীর পাহাড়তলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।