banner

শেষ আপডেট ২৩ নভেম্বর ২০২০,  ২১:১৯  ||   সোমবার, ২৩ই নভেম্বর ২০২০ ইং, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হওয়া সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে শিল্পটি আজ বিপন্ন

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হওয়া সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে শিল্পটি আজ বিপন্ন

৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২২:২৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হওয়া সত্ত্বেও অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে শিল্পটি আজ বিপন্ন

বিদেশে এক সময় বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এ শিল্প আজ পুরোপুরি প্রায় ধ্বংসের পথে। এ দেশের কৃষি খাত বিশেষ করে ধান ব্যবসাও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক, তৈরি হয়েছে বহু সংকট।একইভাবে চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য হওয়া সত্ত্বেও কথেক অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে শিল্পটি আজ বিপন্ন। তৃণমূল পর্যায়ে বিক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার পেছনে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সঙ্গে সিন্ডিকেটের দৌরাত্মও রয়েছে। এ দুইয়ের কারসাজিতে চামড়া শিল্প আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

কাঁচামালের সহজলভ্যতার পাশাপাশি মূল্য সংযোজনের হিসেবে কোনো একটি নির্দিষ্ট খাত থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আয়ের অন্যতম বড় উৎস দেশের চামড়া শিল্প। কিন্তু এ সত্য শুধু কাগজে কলমেই। অথচ প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত ২২ কোটি ঘনফুট চামড়ার প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হচ্ছে না রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনে। চামড়ার আন্তর্জাতিক ক্রেতাজোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ-এল ডব্লিউ জি’র ছাড়পত্র না থাকাই এর মূল কারণ।

তবে শিল্পের অনগ্রসরতার পেছনে সরকারের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক (ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি) ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি মালিকপক্ষের চিন্তাধারায়ও পরিবর্তন আনার আহ্বান তাদের। গত পাঁচ বছরে চামড়ার দাম কমেছে অর্ধেকের চেয়েও বেশী। বিপরীতে চামড়া এবং চামড়াজাত সব পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। তাহলে কাঁচা চামড়ার দাম কমছে কেন ? সেই উত্তর মিলছে না কোথাও।

নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় চামড়া। যার বেশিরভাগই প্রস্তুত করা হয় বিদেশে রফতানির জন্য। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসেবে, গত কয়েক বছরে দুর্বল হয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে বিবেচিত চামড়া শিল্প।

 

এ বছর ও চামড়ার দাম বাড়ানো হয়নি। কিন্তু মূল্যস্ফীতি হিসেব করলে আসলে চামড়ার প্রকৃত মূল্য অনেক কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম ও চাহিদা দুটোই পড়ে যাচ্ছে। সেটার একটা প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়ছে। তবে এর মধ্যেও দেশজুড়ে চামড়া কেনাবেচায় যে দশ হাত বদল হয়, এটার সংখ্যা কমাতে আহ্বান জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে আরেকটু সুবিধা পাওয়া যাবে। এজন্য সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে।

 

বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের প্রধান ক্রেতাদের অন্যতম চীন। এবারে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। চীন কম দামে পণ্য কেনার আল্টিমেটাম দিয়েছে। তাই কোনোভাবেই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কাঁচা চামড়া কেনা সম্ভব নয়। এছাড়া নতুন ট্যানারি নির্মাণ করায় পুঁজির সংকটে আছে ট্যানারি মালিকরা। এবারে ৪২টি ট্যানারি কাঁচা চামড়া কিনতে ৬০১ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ পেয়েছে। বাকিরা কী করবে?

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রিতে একটি চেইন আছে। ট্যানারির মালিকরা দাম কম দিলে অন্যরাও কম দিতে বাধ্য হয়। তবে ট্যানারি মালিকরা বিশ্ববাজারে ভালো দামে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের বাণিজ্য করলেও আড়তদার, চামড়া সংগ্রহকারীদের সে সুযোগ থাকে না।

সারা বছর দেশে প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। এর অর্ধেকই হয় কোরবানির ঈদে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মিলিয়ে দেশে কোরবানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ পশু। এসবের ওপর ভরসা করেই আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা রফতানি আয়ের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নানান সংকটের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।চামড়া শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করতে হবে।