banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

নগরীতে আইন অমান্য করে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড-সাইরেন লাগিয়ে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন অনেকেই

নগরীতে আইন অমান্য করে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড-সাইরেন লাগিয়ে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন অনেকেই

১৪ অগাস্ট ২০২০ | ১৯:৩৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নগরীতে আইন অমান্য করে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড-সাইরেন লাগিয়ে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন অনেকেই

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ রুলস’ অমান্য করে গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে জাতীয় পতাকা ( ফ্ল্যাগ) স্ট্যান্ড। এসব গাড়িতে অনায়াসে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে মাদক থেকে শুরু করে অবৈধ মালামাল অনায়াসে পাচার করে আসছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।আজ ১৪ আগষ্ট শুক্রবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ রুলস’ অমান্য করে গাড়িতে ব্যবহৃত হচ্ছে জাতীয় পতাকা ( ফ্ল্যাগ) স্ট্যান্ড। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে এই জাতীয় গাড়ি দেখা যাচ্ছে। ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কগুলোতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত গাড়ি প্রায়ই দেখা যায়। নগরীর রাস্তায় তাকালে চোখ আটকে যাবে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড (পতাকা লাগানো ছোট খুঁটি) সজ্জিত গাড়িতে।

দেখা যায়, বেশকিছু প্রাইভেট কার ও জিপ গাড়ির বাঁ পাশে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগানো। এসব গাড়ির কোনো কোনোটিতে আবার জাতীয় পতাকাও রয়েছে। তবে কাভার লাগানো। কিন্তু ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড কি যে কোনো গাড়িতে লাগানো যায় বা যার ইচ্ছা তিনিই এ স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন ? ফ্ল্যাগ ব্যবহার করার অধিকার আছে কাদের? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খায় অনেকের মনে। মন চাইল আর অমনি ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড লাগিয়ে গাড়ি হাঁকাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার গাড়িতে সাইরেন লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়ান শহরময়।

সরেজমিনে রহমতগঞ্জের জেএমসেন হলের সামনে ব্লুমিং ট্রি স্কুলের পাশের গলির পশ্চিম পাশে হাসান ভিলার সামনে এমন ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত একটি গাড়ি দেখা গেছে। পাশের ভবনের এক বাসিন্দা জানান,এই গাড়িটি এক ব্যক্তি মাঝে মাঝে নিয়ে আসে। ওই ব্যক্তির আরো তিনটি গাড়ি রয়েছে। তবে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত এই গাড়িটি দুই একদিন কোথায় চলে যায়, আবার এখানে নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, পাশে রাখা আরো দুইটি পরিত্যক্ত কার ওই ব্যক্তির। তবে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের বিষয়ে সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে চট্টগ্রামে ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুইটি গ্যারেজ নাম্বার সম্বলিত (ঢাকা-মেট্টো-ম- ০০-০৪২২) গাড়িগুলো চলাচল করছে। একই নাম্বার দুই গাড়িতে ব্যবহার করে পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে চলাচল করছে।

এ দুইটি গাড়ি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের ধারণা গাড়িগুলো চোরাই গাড়ি। গাড়িগুলোর উৎপাদন সাল নূন্যতম ২০০০-২০০২ সাল পর্যন্ত। এদিকে গাড়িগুলোর ডকুমেন্ট হারানো গিয়েছে মর্মে ঢাকার তেজগাঁও থানায় ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর ড্রাইভারকে বাদী করে থানায় ডায়েরী (নং-১২৫৫) করা হয়েছে। তবে ডকুমেন্ট হারানোর ছয় মাসের মধ্যে ডকুমেন্ট উত্তোলন করার বিধানের কথা সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানালেও কিন্তু গাড়ীগুলোর চোরাই গাড়ি হওয়ায় বিগত ৭ বছরে ডকুমেন্ট উত্তোলন করতে পারেনি গাড়িটি ব্যবহার করা ব্যক্তি। এসব গাড়িগুলোর মধ্যে একটিতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড লাগিয়ে সড়ক দাফিয়ে বেড়াচ্ছে। যা আইনের সম্পূর্ণ পরীপন্থি। এসব ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডযুক্ত নগরীর গাড়িগুলোতে আইন শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল পাচারের ধারণা করেছেন সংশ্লিষ্ট। বর্তমানে ওই ব্যক্তির চারটি গাড়ির মধ্যে একটিতে ফ্ল্যাগ স্ট্রান্ড দিয়ে চলাচল করলেও বাকি তিনটি পুলিশের ঝামেলা এডাতে গ্যারেজে রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা গেছে।

সিএমপি’র ট্রাফিব বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় পতাকা স্ট্যান্ড এবং প্রজাতন্ত্রের স্টিকারের অবৈধ ব্যবহার উদ্বেগজনক। এটা কোনও সচেতন মানুষের করা উচিৎ নয়। জাতীয় পতাকা স্ট্যান্ড এবং প্রজাতন্ত্রের স্টিকারের অবৈধ ব্যবহার আর হতে দেয়া হবে না। এসব নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি