banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

সিনহার তৈরিকৃত ভিডিও ডকুমেন্টারী জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি

সিনহার তৈরিকৃত ভিডিও ডকুমেন্টারী জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি

১২ অগাস্ট ২০২০ | ১৯:৩১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সিনহার তৈরিকৃত ভিডিও ডকুমেন্টারী জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি
 কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সিনহা হত্যার পরিকল্পনাকারী এসপি এবিএম মাসুদকে গ্রেফতার করতে হবে। ত্রিমুখী পরিকল্পনা করে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। পরিকল্পিত এই হত্যাকান্ডের বিচারে চুড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।আজ বুধবার ১২ আগস্ট সকালে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেখেছেন যে, মেজর সিনহা ইয়াবা বাণিজ্যের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করছিলেন। টেকনাফ থানার বহিস্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ক্রসফায়ারের নামে মানুষ হত্যাকারী খুনি প্রদীপ কুমার ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বারবারই কেঁপে উঠছিলেন। মেজর সিনহা’র তথ্যবহুল প্রশ্নবানে চরম অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। ভিডিওচিত্রে মেজরের উদঘাটন করা নানা তথ্যের সামনে সীমাহীন নাস্তানাবুদ হন তিনি।মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেলে ওসি প্রদীপ কুমার ওই ডকুমেন্টারি ভিডিও সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষৎকার প্রশ্নের এক পর্যায়ে ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগিরা ইয়াবা বাজারজাত ও পাচারের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।
ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়ে ওসি প্রদীপ হতভম্ব হয়ে পড়েন। তিনি বড় রকমের বিপদের আশঙ্কা করছিলেন। এ আশঙ্কা থেকেই তিনি কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদকে বিস্তারিত জানান। সব শুনে এসপি নিজেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।এরপর এসপির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় তৈরি হয় ‌মেজর সিনহা’র নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা। এসপি-ওসি এমনভাবে ত্রিমুখী মার্ডার মিশন সাজিয়েছিলেন যে, সেই ফাঁদ থেকে মেজর সিনহার প্রাণে বাঁচার কোন সুযোগই ছিল না। গণপিটুনিতে হত্যার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল গ্রামবাসীকে। ওসি বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল দক্ষিণের বড়ডিল পয়েন্টে। আর উত্তরদিকের শামলাপুর চেকপোস্টে ওৎ পেতে অপেক্ষায় ছিলেন খুনি লিয়াকতের বাহিনী।
সন্ধ্যায় মেজর সিনহা ও তার ভিডিওম্যান সিফাত মারিসঘোণার পাহাড় চূড়ায় উঠেছিলেন। পাহাড়ের উপর থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে, টেকনাফ সদর, নাফ নদী-মিয়ানমার সীমান্ত এবং দক্ষিণ দিকে সমুদ্রের বিস্তির্ণ অংশ দেখা যায়। গভীর সমুদ্রের দিক থেকে ছোট বড় ইঞ্জিন বোটগুলো সার্চ লাইটের আলো ফেলে সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে। ডজন ডজন ইঞ্জিনবোট সমুদ্র সৈকত ছেড়ে গভীর সমুদ্রের দিকে যেতে থাকে। পুরো দৃশ্যপটের ভিডিওচিত্র ধারন করাটাই ছিল তার ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্য। এ দৃশ্যপটের সঙ্গে নেপথ্য কন্ঠ জুড়ে দিতে চেয়েছিলেন মেজর সিনহা।
তিনি বলতে চেয়েছিলেন, রাত যত গভীর হয়, আধারে নিমজ্জিত হয় সমুদ্রের মাইলের পর মাইল জলরাশি, ঠিক তখনই টেকনাফ সীমান্ত ঘেষা জনপদের কয়েকশ’ মানুষ জেগে উঠেন। তারা মেতে উঠেন অন্যরকম এক কর্মযজ্ঞে। শত শত ইঞ্জিনবোট হঠাৎ করেই যেন সমুদ্রের পানি ফুঁড়ে উঠে আসে উপরে। ট্রলারগুলো যখন অজ্ঞাত গন্তব্যে ছুটে যায় তখন এসব ট্রলারে থাকে পাচারের শিকার নারী-পুরুষ আর লাখ লাখ পিস ইয়াবা। আবার গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ মাদার ভেসেল থেকে নামিয়ে আনা হয় একে-৪৭ রাইফেল আর আরজিএস গ্রেনেড।
ওসি প্রদীপ মারিসঘোণা থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে বড়ডিল নামক স্থানে তার সঙ্গীদের দুটি মাইক্রো নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতিতে অপেক্ষমান থাকেন এবং তার অপরাধ জগতের সিভিল সহযোগীদের ফোন করে জানান যে, মারিসঘোণা পাহাড়ের চূড়ায় বেশ কয়েকজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়েছে। তারা কেউ পাহাড় থেকে নামার চেষ্টা করলেই যেন এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাত ডাকাত চিৎকার করে এবং যাদেরকে পাবে তাদেরকেই যেন গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। বাকি সবকিছু ওসি দেখবেন এবং এজন্য তিনি মারিসঘোণার দিকে রওনা দিয়েছেন বলে জানান। ওসির কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়ে তারা লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এদিকে চৌকষ সেনা অফিসার সিনহা পাহাড়ের চুড়ায় থাকাবস্থায়ই চারপাশে সাজ সাজ রব দেখে সতর্ক হয়ে উঠেন এবং টর্চ লাইট না জ্বালিয়ে অন্ধকারের মধ্যে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসেন। ঠিক তখনই বেশ কিছুসংখ্যক গ্রামবাসী ডাকাত ডাকাত চিৎকার দিয়ে তাদের ধাওয়া করে। কিন্তু মেজর সিনহা তার প্রশিক্ষণের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা পেরিয়ে পাকা সড়কে পৌঁছে যান এবং দ্রুত সেই দিকে রওনা হন, যেদিকে ওসি প্রদীপের নির্দেশে এসআই লিয়াকতসহ একদল পুলিশ আগে থেকেই ওৎ পেতে অপেক্ষায় ছিল। সেখানেই পৌঁছে যান মেজর সিনহা। খুব কাছে অস্ত্র তাক করে মেজর সিনহাকে হাত তুলে সামনের দিকে মুখ করে নেমে আসার নির্দেশ দেয় এসআই লিয়াকত। গাড়ি থেকে নামতেই লিয়াকত পর পর চারটি গুলি করে মেজর সিনহার দেহে। ফলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মেজর সিনহা। এরপর মেজর সিনহার লুটিয়ে পড়া দেহখানাকে পা দিয়ে চেপে ধরে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে পর পর দুটি গুলি ছোড়েন ওসি প্রদীপ কুমার দাস এবং লাথি মেরে নিথর দেহখানাকে রাস্তার ধারে ফেলে দেন। এই ত্রিমুখী হত্যা মিশনের পরিকল্পনা করেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ ।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির নেতাকর্মীদের কাছে এভাবেই মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন ড. সুফি সাগর সামস। তিনি মেজর সিনহার হত্যাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন এবং ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সাক্ষাৎকারসহ মেজর সিনহার তৈরিকৃত ভিডিও ডকুমেন্টারী জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।