banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

পেকুয়ার বন কর্মকার্তার যোগসাজসে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা!

পেকুয়ার বন কর্মকার্তার যোগসাজসে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা!

১০ অগাস্ট ২০২০ | ১১:০৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ার বন কর্মকার্তার যোগসাজসে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া-কুতুবদিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে দেদারসে পাহাড় কাটছে প্রভাবশালীরা। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটলেও স্থানীয় বন বিভাগ পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নিয়ে পাহাড় কাটার সুযোগ দিচ্ছে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনটা অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীদের। জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের আলেকদিয়া পাড়ার মৃত মুসা আলীর ছেলে দলিলুর রহমান বন বিভাগের বারবাকিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লাকে ম্যানেজ করেই পাহাড় কাটছেন।
দলিলুর রহমানের নেতৃত্বে পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউণিয়নের ছৈয়দ নগর এলাকার আবুল শামার ছেলে মুহাম্মদ রাশেদ, মাঝের ঘোনা এলাকার মৃত বেলাল উদ্দিনের ছেলে আবু তৈয়ব, মৃত আবদু ছালামের ছেলে মোঃ সোহেল ও মৃত করিমদাদের ছেলে জকরিয়াসহ আরো কয়েকজন প্রভাবশালী দীর্ঘদিন পাহাড় কাটার সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের সাথে সখ্যতা রয়েছে বন বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে কোনভাবেই পেকুয়ার শিলখালী, বারবাকিয়া ও টইটংয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছেনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে. পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে দা-বাহিনীর নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ও বারবাকিয়া বনের রাজা জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট প্রতিনিয়তই পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা করছেন বন বিভাগের বারবাকিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লা। বন বিভাগের সামনেই বিরামহীন কাটা হচ্ছে এসব পাহাড়। স্থানীয়রা বনবিভাগকে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে অভিযানের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বলা হলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর ফলে পাহাড় কাটার সাথে জড়িতরা আরো বেপরোয়া হয়ে পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছেন।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা মাহমুদুল করিম জানান, বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার ও বন বিভাগের অন্যান্য শাখা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে পাহাড়খেকোদের সখ্যতা রয়েছে। বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে পাহাড় কাটার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পেকুয়ার শিলখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার ভয়াবহ চিত্র। শিলখালীর মাঝের ঘোনা এলাকায় বেশ কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড়ের মাটি কাটা হচ্ছে। প্রায় ডজনখানেক ডাম্পার ট্রাক পাহাড়ের মাটি নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ওই পাহাড়ে রক্ষিত বনায়নের বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ পাহাড় কাটার কারণে ভেঙে পড়েছে। বেশ কয়েকটি বসতবাড়িও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। প্রতিনিয়তই পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলেও বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা আরো জানান, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র বিহীন এসব ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি মাটি ও বনাঞ্চলের কাঠ।
এ বিষয়ে পাহাড় কাটার অভিযুক্ত কয়েকজন দম্ভোক্তি করে বলেন, তাদের সাথে বন বিভাগের কর্মকার্তা-কর্মচারীদের সাথে গোপনে চুক্তি রয়েছে। তাদের দলে পুলিশে চাকুরী করে এমন এক ব্যক্তির পিতা রয়েছে। তাদের কিছুই হবেনা। পুলিশ ছেলের পিতা দলিলুর রহমানের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লা জানান, কয়েক দিন পূর্বে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারসহ বনবিভাগের লোকজন পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। পাহাড় নিধনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হবে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের সাথে তাঁর ও অধীনস্থ কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে সখ্যতা নাই। পাহাড় কাটায় জড়িতদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগটি ও মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেছেন।
পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিকি মারমা বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাহাড় কাটার দায়ে যাদের নাম আসবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।