banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

ভোজ্য তেল কোম্পনীর বিরুদ্ধে ওজন কারচুপির অভিযোগ, বোতলে ৪০০ গ্রাম মোড়কে লেখা ৫০০!

ভোজ্য তেল কোম্পনীর বিরুদ্ধে ওজন কারচুপির অভিযোগ, বোতলে ৪০০ গ্রাম মোড়কে লেখা ৫০০!

১০ অগাস্ট ২০২০ | ১০:৫৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ভোজ্য তেল কোম্পনীর বিরুদ্ধে ওজন কারচুপির অভিযোগ, বোতলে ৪০০ গ্রাম মোড়কে লেখা ৫০০!

বশির আলমামুন : চট্টগ্রামে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী মিল মালিকদের বিরুদ্ধে ওজন কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তেলের বোতলে ৪০০ গ্রাম থাকলেও অতচ মোড়কে লেখা ৫০০! এ ভাবে এসব কোম্পনী গুলো দিনের পর ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে। এমনই অভিযোগ ভোক্তাদের।
তাছাড়া বাজারজাতকৃত এসব ভোজ্য তেলের বোতলের লেবেলে সব ধরণের উপকরণ ও গুনগত মান সমৃদ্ধ লেখা থাকলেও মুলত এর কিছুই নাই দাবী করেছে বিএসটিআই।
বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) বলেছে এসব ভোগ্য তেলের কারখানা গুলোর কোন অনুমোদন নাই। নেই উপযুক্ত ল্যাব, কেমিস্ট। মোড়কে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ লেখা থাকলেও তা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। এত কিছু নেই এর মাঝেও ৫০০ গ্রামের বোতলে নেই পুরো ১০০ গ্রাম তেল! অর্থাৎ বোতলে ৫০০ গ্রাম লেখা থাকলে রয়েছে মাত্র ৪০০ গ্রাম।
রোববার চট্টগ্রাম নগরের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় সাকসেস অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি ভোজ্য তেলের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এ বিষয়ে জানতে পারেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অস্বাস্থ্যকর ও অবৈধভাবে ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের দায়ে কারখানা মালিককে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও কারখানা সিলগালা করে দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।
অভিযান শেষে তিনি বলেন, নগরের কালুরঘাট শিল্প এলাকার সাকসেস অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কারখানায় অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কারখানা মালিক মো. গোলজার হোসেনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি কারখানাটি সিলগালা করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটি কোনো নিয়ম না মেনে অস্বাস্থ্যকরভাবে ভোজ্য তেল বোতলজাত করে বাজারজাত করে আসছে। প্লাস্টিক বোতল ৪০০ গ্রামের হলেও মোড়কে লেখা ৫০০ গ্রাম। পরিমাণে প্রত্যেক প্রকারের বোতলেই দেখা যায় গায়ে লেখা পরিমাণের চেয়ে কম তেল যা এক ধরনের প্রতারণা।
তিনি বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেই, উপযুক্ত ল্যাব নেই, কেমিস্ট নেই, নষ্ট মেশিনারিজ, ক্লিনিং রুম না থাকা, ভেজাল তেল পাওয়া, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ লেখা যা পরীক্ষিত নয়, শিশু শ্রমিক নিয়োগসহ অনেক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয় অভিযানে।
ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া লোগো ব্যবহার করে কারখানাটি গৃহিণী ও নবান্ন নামে বোতলজাত করে তেল বাজারজাত করে আসছে।নবান্ন নামের মোড়ক হুবহু রুপচাঁদা সয়াবিন তেলের নকল। এমনকি এস আলম এডিবল অয়েল ও পতেঙ্গার ভিওটিটি অয়েল কোম্পানির তেল নিজেদের নামে বাজারজাত করে আসছে যদিও নিজেদের মধ্যে কোনো চুক্তি নেই।
অভিযানে সহযোগিতা করেন র‍্যাব-৭ এর মেজর শামীম সরকার, সহকারী পরিচালক নুরুল আবছার, বিএসটিআই-এর ফিল্ড অফিসার রাজীব দাশ গুপ্ত ও স্যানিটারি অফিসার ইয়াসিন আহম্মেদ।