banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

বন্দর থানার বেপরোয়া চাঁদাবাজি: নাটকীয়ভাবে অন্য আরেকটি রেষ্টুরেন্টে অভিযান

বন্দর থানার বেপরোয়া চাঁদাবাজি: নাটকীয়ভাবে অন্য আরেকটি রেষ্টুরেন্টে অভিযান

১০ অগাস্ট ২০২০ | ১০:৪৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বন্দর থানার বেপরোয়া চাঁদাবাজি: নাটকীয়ভাবে অন্য আরেকটি রেষ্টুরেন্টে অভিযান

ক্রাইম প্রতিবেদক :  গতকাল ৯ আগস্ট সনে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামে বন্দর থানা এলাকার মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট নামে দেহ ব্যবসার আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলেও আসল দেহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিককে অভিযানের আগেই থানা থেকে ফোন করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে নাটকীয়ভাবে অন্য আরেকটি রেষ্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে সিএমপি কমিশনারের মন রক্ষার নাটকীয় অভিনয় করেছে বন্দর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নগরীর বন্দর থানাধীন সিইপিজেডস্থ আবাসিক হোটেল মুন সংলগ্ন রোষ্টার মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টটি দীর্ঘদিন যাবৎ বন্দর থানা পুলিশের সাথে মাসিক মোটা অংকের মাসোহারার বিনিময়ে রেষ্টুরেন্টের আড়ালে পর্দা টেনে প্রকাশ্য দিবালোকে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করার মতো গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল স্থানীয় এক সাংবাদিক কমিশনার বরাবরে ফোন করে বিষয়টি অবগত করলে সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে রোষ্টার মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ প্রদান করা হলেও বন্দর থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি নাটকীয় ভাবে ঘুরিয়ে রোষ্টার মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এর মালিককে আগে থেকেই ফোন করে অভিযানের বিষয়টি জানা হলে দেহ ব্যবসায়ীর গডফাদার মালিক খ্যাত মোঃ আবদুল মালেক মিনি রোষ্টার মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট এর মালিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে অন্যত্র সরে যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ এসেই নাটকীয় ভাবে একই রেষ্টুরেন্টের পার্শ্ববর্তী রেষ্টুরেন্ট ফ্লেভার রেষ্টুরেন্ট এ অভিযান পরিচালনা করে কমপক্ষে ১০-১৫ যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অথচ আসল দেহ ব্যবসায়ীকে বাঁচিয়ে দিয়ে নাটকীয় ভাবে অন্য রেষ্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করার বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনকি উক্ত অভিযানের সাথে জড়িত আসল অপরাধী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মাননীয় সিএমপি পুলিশ কমিশনার, র‌্যাব-৭, পতেঙ্গা, গোয়েন্দা সংস্থার একান্ত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে, অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিএমপি পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ অমান্য করে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নাটকীয় অভিযানের বিষয়ে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল জোর দাবী জানিয়েছেন অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিএমপি পুলিশ কমিশনার যেন অতি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কেন আসল অপরাধীকে অভিযানের আগেই ফোনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নিদের্শ দিয়ে অন্য অভিযান পরিচালনা করা হলো? বিষয় গুলো আমলে নিয়ে অতি দ্রুত আইনী সঠিক পদক্ষেপের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্মচারী ও দোকান মালিক সমিতি।

জানা যায় যে, যে প্রতিষ্ঠান থেকে নাটকীয়ভাবে অভিযান চালিয়ে রেষ্টুরেন্টের গ্রাহকদের থানায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে উক্ত গ্রাহকদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় মোটা অংকের দরকষাকষি চলছে। উক্ত রোষ্টার চাইনিজ রেষ্টেুরেন্টের সাথে বন্দর থানার পুলিশের সাথে মাসিক কোটার পরিমান প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। ও বন্দর টেকের মোড় পুলিশ ফাঁড়িকে মাসিক কোটা দেয় ৮ হাজার টাকা। উক্ত রেষ্টুরেন্টের মালিকের আরেকটি মিনি চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট বন্দর থানার ইপিজেড কলসী দিঘীর মোড় সৈকত শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। এ রেষ্টেুন্টেটির নাম কপি কাপ রেষ্টুরেন্ট। উক্ত দুটি রেষ্টেুরেন্টে অবৈধভাবে মালিক মোহাম্মদ আবদুল মালেক বন্দর থানার পুলিশের সাথে যোগসাজসে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকার চুক্তির বিনিময়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এসব দেহ ব্যবসা দিব্যি চালাচ্ছে। এমনকি ইতিপূর্বেও উক্ত বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দীন মাহমুদের বিরুদ্ধে উক্ত রেষ্টেুরেন্ট থেকে মাসিক মাসোয়ারা নেয়ার মতো গুরুত্বর অভিযোগ  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ও সিএমপি পুলিশ কমিশনারের বরাবরে প্রদান করা হয়েছিল। সর্বশেষ বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকান্ত চক্রবর্তীও ক্ষমতার চেয়ারে বসে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে উক্ত রেষ্টুরেন্ট থেকে বন্দর থানার কথিত ক্যাশিয়ার কর্তৃক মাসিক মাসোয়ারা আদায় করেছিল। বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আলোচনা সাপেক্ষে উক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে।