banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   সোমবার, ২৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

প্রতিস্টানে আন্দোলন না করে বসত বাড়ীতে কেন ?

প্রতিস্টানে আন্দোলন না করে বসত বাড়ীতে কেন ?

৭ অগাস্ট ২০২০ | ১৮:২৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রতিস্টানে আন্দোলন না করে বসত বাড়ীতে কেন ?

সাংবাদিকরা করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন। তাদের ন্যায়সঙ্গত পাওনা থেকে বঞ্চিত করা মোটেই কাম্য নয়। সেই ঝুঁকি নেয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করা মালিক পক্ষের দরকার ছিল।সরকার করোনার সংকটকালে সাংবাদিকদের প্রণোদনা দিয়েছে। করোনায় মৃত্যুবরণকারি সাংবাদিক পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দিয়েছে। এ ধরনের প্রণোদনা ও অনুদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষনা দিয়েছে সরকার।

সংবাদপত্র রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ। সংবাদপত্রকে টিকিয়ে রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধ না করলে তাদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। তাদের মনোবল টিকিয়ে রাখতে না পারলে কর্মপরিবেশ থাকবে না।চট্টগ্রামের যে কয়টি সংবাদপত্র রয়েছে সে গুলোর মধ্যে আজাদী ও পূবকোন এর মালিক পুরোদমে সচ্ছল এবং এদের আয় ইনকাম ও মোটামুটি ভালো। সরকারী বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাও তারা নিয়মিত পেয়ে আসচ্ছে।বাকী যে তিনটি রয়েছে তার মধ্যে পূবদেশ ছাড়া অন্য দুটি ত্রাহিত্রাহি অবস্থা।
সাংবাদিকদের যৌক্তিক দাবি দাওয়া নিয়ে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন ছিল সাংবাদিক নেতাদের।মালিকপক্ষ আন্তরিকভাবে চাইলে তাঁর চাকুরীজীবিরা বা শ্রমিকরা কখনো কস্ট পেতে পারেনা । কারন মালিক-শ্রমিকদের বৈসম্য বেড়ে গেলে সেখানে শ্রমিরাই শুধু পদদলিত হতে দেখা যায়।কিন্তু মালিক ঠিকই তার অবস্থানে থেকে যায়।সম্প্রতি ঈদ বোনাস নিয়ে পত্রিকার-শ্রমিকদের মধ্যে যে ভুলবুঝাবুঝির সূত্রপাত হয়েছে সেটির পিছনে অন্য কোন শক্তির হাত রয়েছে কিনা তা সাংবাদিক নেতাদের অনুসন্ধান করে বের করতে হবে।না হলে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো পত্রিকার মালিকরা নেইনি।আর বাড়াবাড়ীরও একটা সীমা থাকা দরকার। মালিকরা পূঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করা যেমন অপরাধ নহে,তেমনি শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে পেলে মালিকে ব্যবসার পথ সুগম করে দিচ্ছে সেটাও তাঁদের অপরাধ নয়।সাংবাদিক নেতাদের অপরাধ শুধু এইখানে প্রতিস্টানে আন্দোলন না করে বসত বাড়ীতে গিয়ে কেন আন্দোলন করল ? এটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না এবং মেনে কস্মিনকালেও নিবেনা।
চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকরা এ বৈশ্বিক মহামারীতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু এসব সাংবাদিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকার ঘোষিত ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদের বিভিন্ন বেনিফিটসহ অন্যান্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হয়েছে কোন কোন প্রতিষ্ঠানে। দেয়া হচ্ছে না নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট। গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময়ও পূর্ণ বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে সাংবাদিক কর্মচারীদের।পরিশেষে মালিক-শ্রমিক একে অপরের দোষ ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে মারজনা করে রাগ অনুরাগ ভুলে গিয়ে পত্রিকা প্রকাশনা শুরু করায় শ্রেয়।