banner

শেষ আপডেট ১৩ জুলাই ২০২০,  ২৩:২০  ||   সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

বহুল আলোচিত কোকেন চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে র‌্যাব

বহুল আলোচিত কোকেন চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে র‌্যাব

২৯ জুন ২০২০ | ২১:৪১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বহুল আলোচিত কোকেন চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে র‌্যাব

চট্টগ্রাম বন্দরে আটক বহুল আলোচিত ড্রামে ভর্তি করে আমদানী করে আনা ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোকেন চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।আজ সোমবার (২৯ জুন) র‌্যাব-৭ এর পক্ষে কোকেন চোরাচালান মামলার অভিযোগপত্রটি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়া হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবে কর্মরত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

অভিযোগপত্রে খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন পলাতক, ১ জন জামিনে ও ৫ জন কারাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে।

কোকেন চোরাচালান মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা প্রকাশ সোহেল (৩৯), খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ (৪৯), আবাসন ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা কামাল (৪২), সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. মেহেদী আলম (৩১), গার্মেন্ট পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী মো. আতিকুর রহমান (২৯), কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে এম আজাদ (৪৮), সিএন্ডএফ কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম (৩২), খানজাহান আলী গ্রুপের পরিচালক মোস্তাক আহাম্মদ খান (৪৫), লন্ডনে অবস্থানরত ফজলুর রহমান (৩৫) ও মো. বকুল মিয়া (৩১)।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, ২০১৫ সালের ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে ড্রামে ভর্তি করে আমদানী করে আনা ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের কোকেন আটক করার ঘটনায় দায়ের হওয়া চোরাচালান মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে নূর মোহাম্মদসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন পলাতক, ১ জন জামিনে ও ৫ জন কারাগারে রয়েছে।

২০১৫ সালের ৭ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার আটকের পর সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। বলিভিয়া থেকে মেসার্স খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলবাহী কনটেইনারটি জাহাজে তোলা হয় উরুগুয়ের মন্টেভিডিও বন্দর থেকে।

সেখান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে গত ১২ মে পৌঁছায় চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে আদালতের নির্দেশে কনটেইনার খুলে ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ঢাকার বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় এতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৭ জুন বন্দর থানায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামি করে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে আদালত মামলায় চোরাচালানের ধারা সংযোগের নির্দেশ দেন।এই মামলায় একই বছরের ১১ নভেম্বর এজাহারভুক্ত আসামি নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মাদক আইনের অংশের অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান।

৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হয়। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির নাম না থাকায় অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেননি আদালত। ওইদিন আদালত চাঞ্চল্যকর কোকেন আমদানি মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখান করে তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কমকর্তাকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাব-৭ কে ‍দায়িত্ব দেন। ৯ ডিসেম্বর আদালতের আদেশের কপি র‌্যাবের কাছে পৌঁছে।

২০১৭ সালের ২ এপ্রিল মাদক আইনের মামলায় নূর মোহাম্মদকে অভিযুক্ত করে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন র‌্যাব কর্মকর্তা তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।মামলায় চোরাচালানের দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারার অভিযোগ তদন্ত করে আজ সোমবার আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।

র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, চাঞ্চল্যকর কোকেন মামলাটি আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য র‌্যাব-৭ কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত মামলাটি একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। র‌্যাব-৭ তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকীকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল। র‌্যাব গুরুত্ব ও পেশাদারিত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্তকাজ শেষ করেছে।

আদালতের নির্দেশে চলতি চছরের ৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমদের উপস্থিতিতে পতেঙ্গা র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে ২০১৫ সালে জব্দ করা ৩৭০ লিটার কোকেন ধ্বংস করে র‌্যাব।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রটি আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেওয়া হলেও তা আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

কোকেন মামলার মূল আসামি খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী।সূত্রঃ বাংলানিউজ