banner

শেষ আপডেট ৬ জুলাই ২০২০,  ২২:৪১  ||   মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য সেবায় তোফাসানির দৃষ্টান্ত স্থাপন

ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য সেবায় তোফাসানির দৃষ্টান্ত স্থাপন

১ জুন ২০২০ | ২১:৫১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ব্যতিক্রমী স্বাস্থ্য সেবায় তোফাসানির দৃষ্টান্ত স্থাপন

বশির আলমামুন ঃ “যে কোন মানুষ তার বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতীর উন্নয়ন এবং মানুষের সেবা করতে পারেন। আর সেবা করতে টাকা লাগেনা।” দেশে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে এই কথা বাস্তবে প্রমাণ করে দিলেন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তোফাসানি। তিনি শুধুমাত্র মোবাইল ফোন, ফেসবুক ও শারীরিক পরিশ্রম করে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে। বিভিন্নভাবে মানুষকে সহায়তা করে তিনি সমাজ সেবায় রাখছেন বিশেষ ভূমিকা। তিনি এই দুর্যোগ মূহুর্তে টেলিমেডিসিন পেসক্রিপশন ও ফাস্ট এইড ক্যাম্প করে সারাদেশে এ দৃষ্টান্তে সাক্ষর রেখেছেন।
বিশেষ করে ঢাকার সাভারের নাদিম, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তৃপ্তি, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের আলী মিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক মানুষ তোফাসানি’র কাছে টেলি মেডিসিন পেসক্রিপশন নিয়ে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এরা ভিডিও কল, মোবাইল ফোনে কল করে বিনামূল্যে নিচ্ছেন মানবিক এই সেবা। তিনি সাভারের অনেকেই দিচ্ছেন বিনামূল্যের ঔষধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা।
জানা গেছে, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তোফায়েল হোসেন তোফাসানি রেডক্রস, পরবর্তীতে রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং একজন বয়স্কাউট। তিনি একজন রুরাল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার। সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় এসব সেবামূলক কাজ করে আসছিলেন। দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে প্রায় এক মাসেরও অধিক সময় ধরে তিনি সর্ব প্রথম সাভারের নিজ অফিসে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে শুরু করেন টেলি মেডিসিন পেসক্রিপশন ও ফাস্ট এইড ক্যাম্প করে। নিজ টাকায় প্রয়োজনীয় ঔষধ কিনে অসহায় ও দরিদ্র্র রোগীদের বিনামূল্যে বিতরণ করে আসছেন। এতে করে সংকটময় মূহুর্তে মানুষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব পুরণ করতে পারছেন।
আরো জানাগেছে, তোফাসানি সাভার ও পাশ্ববর্তী জেলা-উপজেলায় করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি প্রচার ও সচেতনতামূলক কাজে সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর এই সচেতনতার কাজে বিভিন্ন সংগঠনের স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীরা সহযোগীতা করে আসছেন।কেউ অসুস্থ হলে বা করোনা উপসর্গে মারা গেলেও তাঁর পাশে যাচ্ছেন এই সংবাদকর্মী। এলাকার মানুষকে দিচ্ছেন খাদ্য সহায়তা। গান গেয়ে, মাইকিং করে সচেতন করছেন মানুষকে। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন এই করোনা যুদ্ধে।
তোফাসানি বলেন, অনেক আগে থেকেই বুঝতে পারি যে, করোনা মোকাবেলায় দেশে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা দেয়ার প্রয়োজন আছে। দেশের অনেক সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যখন মানুষ চিকিৎসা পায়নি, তখন আমার টেলি মেডিসিন মানুষের সেবায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। ফেসবুকে একটি হটলাইন নম্বর প্রচার করে আসছি। মহল্লায় মহল্লায় মাইকিং করেও জানিয়ে দিই এই চিকিৎসা সহায়তার কথা। অসুস্থ মানুষ আমাকে ভিডিও কল এবং ফোন কলের মাধ্যমে তাদের অসুবিধার কথা জানান। আমি তাদের সমস্যার কথা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে জানাই। তাঁরা আমাকে যে ব্যবস্থাপত্র দেন, তা আমি এসএমএসের মাধ্যমে প্রেরণ করি। এভাবেই চলছে আমার কার্যক্রম।
তিনি আরো বলেন, এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছেন। সহযোগীতা না করে সমালোচনা ও তিরস্কারও করেছেন অনেকেই। কিন্তু থেমে থাকেনি আমার পথচলা।
তোফাসানি’র এই কার্যক্রম আজ প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা, সচেতন মানুষেরা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছেন তাঁর পাশে। দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এভাবেই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।