banner

শেষ আপডেট ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,  ২১:৪১  ||   মঙ্গলবার, ২৯ই সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

সদরঘাটের টিআই প্রশাসনের পরিবহন সেক্টরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সিএমপির পোস্টিং বিধি লঙ্ঘন

সদরঘাটের টিআই প্রশাসনের পরিবহন সেক্টরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সিএমপির পোস্টিং বিধি লঙ্ঘন

২৫ জুন ২০২০ | ০৯:৫৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সদরঘাটের টিআই প্রশাসনের পরিবহন সেক্টরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, সিএমপির পোস্টিং বিধি লঙ্ঘন

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মহানগরের ট্রাফিক পুলিশের এক সময়কার আলোচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট মহিউদ্দিন খাঁন বর্তমানে প্রমোশন পেয়ে সদরঘাট ট্রাফিক পুলিশের টিআই প্রশাসন হিসেবে যোগদান করার পর থেকে আরো বেপরওয়া হয়ে উঠেছে। তার অত্যচারে গাড়ীর মালিক, চালকসহ ট্রাফিক  প্রশাসনের বেশ কিছু কমকতা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

চালক ও শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সার্জেন্ট মহিউদ্দিন ২০০৪ সনে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে সুযোগ নিয়ে তাদের মদদে পোষ্টিং পেয়ে চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন এবং বিভিন্ন সময় তিনি নিজেকে বিএনপি জামায়াতের খুব কাছের ও তারেক রহমানের একসময়কার বডিগার্ড ছিলেন বলে ও দাবী করেন।

সার্জেন্ট মহিউদ্দিন খাঁন ২০০৪ সন থেকে শুরু হয় পরিবহন সেক্টরে বেপরোয়া হারে চাঁদাবাজি,ঘুষ,দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে তার রামরাজত্ব কায়েম করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্পটে বেপরোয়া চাঁদাবাজি আর অনিয়ম করায় পরিবহন সেক্টরের মালিক,চালকরা তার অত্যাচারে এমনিতেই অতিষ্ঠ। তবে বর্তমান ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগে এবং সরকারদলীয় উর্ধ্বমহলের আশীর্বাদে তিনি তার কর্মজীবনের স্বর্ণযুগ পার করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সার্জেন্ট মহিউদ্দিন খাঁন ২০১২ সনে ঘুষের টাকা দিয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে আগ্রাবাদ প্রসিকিউশন এর দায়িত্বে আসীন হন এবং সেখানেই যেন সোনার হরিণ পেয়ে বসেন তিনি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন সার্জেন্টের সাথে কথা বললে তারা জানায়, পুলিশের পোশাক পরা এই মহিউদ্দিন খাঁন একজন চিহ্নিত এবং নীরব চাঁদাবাজ। নগরীর ফরেষ্ট গেট সংলগ্ন ”বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস লিমিটেড” এর ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় তার বিলাস বহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাট ৭০ লক্ষ টাকা করে মোট ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় ২টি ফ্ল্যাট খরিদ করেন তিনি।

অন্যদিকে, নগরীর আতুরার ডিপু অনন্যা আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা ও হালিশহর এলাকায় ১০ কাঠা জায়গার উপর দশ জন সার্জেন্ট মিলে এক বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সার্জেন্ট জানান, তার নির্দেশে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে আমরা দায়িত্বে আসলেও কিছু করার নেই কারণ তিনি টার্গেট দিয়ে দেন কোনদিন কতটি গাড়ি মামলা বা টো  করতে হবে। কোনোদিন টার্গেট ফিলাপ করতে না পারলে এমন সব স্থানে বদলি করা হয় যা আমাদের জন্য খুব কঠিন ও কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। ফলে তার ভয়ে আমরা অনেকেই তটস্থ।

তিনি আরও জানান, টিআই প্রশাসন  মহিউদ্দিন এর হাত এতই লম্বা যে, টি.আই এর অধীনে ডিউটি করা অবস্থায় সার্জেন্ট মহিউদ্দিন এর রোষানলে আমরা টি.আই এর কথা মতো দায়িত্ব পালন করতে ব্যহত হয়। শুধু তাই নয়, তার ক্ষমতার কাছে একজন টি.আই পর্যন্ত অসহায়। তাই বদলির ভয়ে আমরা অনেকেই তার কথামত বিভিন্ন গাড়িতে মামলা দিয়ে থাকি।

চালক ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলা হলে তারা বলেন, মহিউদ্দিন খাঁনের অন্যায় অবিচার কি দেখার কেউ নেই? তার এই নীরব চাঁদাবাজি থেকে আমরা পরিত্রান চাই।

পরিবহন মালিক,চালক ও শ্রমিকরা চাপা ক্ষোভ নিয়ে আরও বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী সিএনজি অটোরিক্সা আরপিএর শর্ত ভঙ্গ করে রেকার বিল ৭৫০ টাকা হলেও আদায় করা হয় অতিরিক্ত ২৫০০ টাকা হতে ২৮০০ টাকা, আর বাস ও ট্রাক এর রেকার বিল ১২৫০ টাকা হলেও আদায় হয় ২০০০ হাজার টাকা, আর যদি কোনভাবে লাইসেন্স যাচাই মামলা দেওয়া হয় তাহলে তো কথাই নেই। নেওয়া হয় নূন্যতম ১লক্ষ টাকা, ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বি.আর.টি.সি’তে যাওয়া হয়রানি,ঝামেলার ভয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যান। অনেকেই লাইসেন্স যাচাই ঝামেলা মনে করে তার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাচাই মামলাটিও মোটা অংকের বিনিময়ে তার অবৈধ ক্ষমতাবলে এখানেই নিস্পতি করে থাকেন। কিন্তু এটি বি.আর.টি.এ যাচাই-বাচাই না করার কারণে চট্টগ্রাম মহনগরীতে ২নং লাইসেন্স,ফিটনেসবিহীন গাড়ি প্রকাশ্যে চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে মারাত্বক দূর্ঘটনা আর সরকার হারাচ্ছে তার রাজস্ব। অতিরিক্ত যে টাকা আদায় করা হয় তার কোন রশিদ দেওয়া হয়না,এবং এভাবেই চলছে সিএমপির বর্তমান ট্রাফিক সেক্টরের কর্মকান্ড।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, এভাবে নীরব চাঁদাবাজির মাধ্যমে মহিউদ্দিন খাঁন অবৈধ পন্থায় দৈনিক ১ লক্ষ টাকা করে প্রতিমাসে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আয় করেন। এসকল চিন্থিত দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তারা ট্রাফিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে নীরবে রাতারাতি অবৈধ উপায়ে টাকা আয় করে বণে যাচ্ছেন ঠিক যেন আঙুল ফুলে কলা গাছ। আর সরকার হারাচ্ছে তার দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব।

নগরীতে দায়িত্বে থাকা কিছু সৎ,দক্ষ,একনিষ্ট ট্রাফিক সার্জেন্টের সাথে কথা বলা হলে তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে সকলের প্রানপ্রিয় সিএমপি কমিশনারের বস্তনিষ্ট সামাজিক মহৎ কর্মকান্ড,সাহসী এবং প্রশংসনীয় ভূমিকার ফলে তিনি খুব অল্প সময়েই সমাজের সর্বস্থরের সাধারন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। এবং চট্টগ্রামে আগের তুলনায় অপরাধ কর্মকান্ড অনেকাংশে কমে গেছে যা নিয়মিত চমক লাগার মতো। চট্টগ্রাম মহানগরীকে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা,ফুটপাতকে হকার মুক্ত ও যানযট নিরসনের মতো অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ করে তিনি খুব অল্প দিনে সকলের নজর কেড়েছেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সিএমপি কমিশনার বলেছেন চট্টগ্রামে কোন অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ লোকের ঠাঁই হবেনা, কিন্তু টিআই মহিউদ্দিন খাঁনের মতো দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তা যদি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এভাবে নীরব চাঁদাবাজি চালিয়ে যান তাহলে পুলিশ-প্রশাসনের সম্মান ক্ষুন্ন হবে বলে দাবী সাধারন মানুষের। বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্র নাগরিক সেবা দেয়ার দায়িত্ব একজন পুলিশের, আর একজন পুলিশ যখন রক্ষক হয়ে ভক্ষক এর দায়িত্ব পালন করে তাহলে পুলিশের উপর থেকে সাধারন মানুষের আস্থা উঠে যায়।

বিক্ষুদ্ধ পরিবহন মালিক,চালক,শ্রমিক,সার্জেন্টরা বর্তমান পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলের কাছে একটাই দাবী করেন, অনতিবিলম্বে আগ্রাবাদ প্রসিকিউশন সার্জেন্ট মহিউদ্দিন খাঁনকে তার পদ থেকে অপসারন করে তার দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।ইতোমধ্যে জনৈক পরিবহন নেতা তার বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দিলে ওই নেতাকে মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছে। কেমন বুকের পাটা ও বেপরোয়া সাহস থাকালে পুলিশের শৃংখলাভুক্ত বিধিবদ্ধ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করেছেন।এ ব্যাপারে ওই পরিবহন নেতা তার বিরুদ্ধ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রধানের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছেন।কিন্তু মহিউদ্দিন বহাল তবিয়তে !

তিনি আরো বলেন, পুলিশের অত্যাচার,নির্যাতন,চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা বহু আন্দোলন করেছি। চাঁদাবাজি,নির্যাতন বন্ধ হবে বলে বারবার আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ফল কিছুই পাই নি,সেই অবৈধ গাড়ি আর পুলিশের অবৈধ টাকা উৎস এখনও ধাপিয়ে বেড়াচ্ছেই।

গোপন খবরে আরো জানা যায়, বাস,মিনিবাস ও কোচ মালিকদের মাসিক কিস্তিতে থানা পুলিশের অধীনে আনার জন্যই তাদের এই প্রয়াস। এবং এভাবেই প্রতিমাসে ট্রাক ড্রাইভার-মালিকদের থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকা। ফলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে সিএমপি কমিশনারের নিকট পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের এখন একটাই দাবি, পুলিশ নামধারী এসব চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে যেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়।