banner

শেষ আপডেট ১৩ জুলাই ২০২০,  ২২:২৭  ||   সোমবার, ১৩ই জুলাই ২০২০ ইং, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

বাঁশখালীতে ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়ার অবহেলায় রোগীর নমুনা সংগ্রহে স্বজনরা

বাঁশখালীতে ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়ার অবহেলায় রোগীর নমুনা সংগ্রহে স্বজনরা

২১ এপ্রিল ২০২০ | ২২:১৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বাঁশখালীতে ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়ার অবহেলায় রোগীর নমুনা সংগ্রহে স্বজনরা

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়। ইতোমধ্যেই উপজেলাটি লকডাউন করেছে প্রশাসন। কিন্তু মহামারির এই দুঃসময়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মারাত্মক অবহেলায় ওই এলাকায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়া নিজে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করছেন না, এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সন্দেহভাজন রোগীর স্বজনদের।

এদিকে ত্রুটিপূর্ণ নমুনা সংগ্রহের কারণে সর্বশেষ গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) বাঁশখালীর তিনটি নমুনা বাতিল করে করোনার পরীক্ষাগার ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)। এর আগে বৃহস্পতিবার নয়টি নমুনা পাঠানো হলেও সেসব নমুনা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ হওয়ায় বাতিল করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

 বিআইটিআইডির ল্যাবপ্রধান অধ্যাপক শাকিল আহমদ বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রেই উপজেলাগুলো থেকে যেসব নমুনা আসছে তা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ থাকছে। নমুনা যেসব পাত্রে নিয়ে আসা হচ্ছে, পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কিছুই নেই। মূলত ত্রুটিপূর্ণ ও কাঁচা হাতে নমুনা সংগ্রহ ও প্যাকিংয়ের কারণে এমনটা ঘটছে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলায় করোনা উপসর্গের সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করছেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়া। এ কারণে রোগী নিজেই বা তার স্বজনরা নমুনা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) করোনা উপসর্গ আছে এমন এক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে বাঁশখালী উপজেলার ইলশা গ্রামে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই ল্যাব টেকনোলজিস্ট। কিন্তু রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, টেকনোলজিস্ট পরিতোষ নিজে নমুনা না নিয়ে রোগীর মেয়েকে দিয়ে তা সংগ্রহ করিয়েছেন।

নমুনা সংগ্রহকারী বলেন, ‘আমার মা লিভারের রোগী। সম্প্রতি তার খুব জ্বর হয়। এসময় মায়ের করোনা হতে পারে সন্দেহে আমাদের পুরো পরিবারকে আইসোলেট করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে তিনজন মানুষ আসে বাড়িতে। তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই আমাকে দুটো কৌটা আর যন্ত্র দিয়ে বাসায় থাকা আমার মায়ের কফ ও সর্দি সংগ্রহের জন্য বলে। তারা আমার হাত কিট ধরিয়ে দিয়ে বলে, এভাবে এভাবে নেন। আমি ওসব কিছু বুঝতে না পারলেও অনেক কষ্টে আমার মায়ের গলা থেকে কফ-সর্দি নিয়েছি৷’

 ওই টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগর আঙুল তুলেছেন খোদ বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত এক চিকিৎসকও।
রাশেদ উল করিম সুজন নামের ওই চিকিৎসক নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি কর্মকর্তার যেখানে দায়িত্বশীল আচরণ দরকার সেখানে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ডেকে আনবে ভয়াবহ বিপর্যয়। যে দায়িত্ব দিয়ে কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে সেটা পালন করতে না পারলে চাকরি ছেড়ে দেয়া উচিত, জরুরি ভিত্তিতে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া উচিত। কারণ তার কাজই নমুনা সংগ্রহ, সেটা করতে গিয়ে বারবার অসুস্থ হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বর্তমান পরিস্থিতিতে।’

‘একটি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি অবগত হতে হলে যেখানে ১০০+ নমুনা পাঠানো উচিত সেখানে গুটিকয়েক পাঠানো হয়, সেসব আবার বাতিল হয়। তখন হাজার লকডাউনেও কিচ্ছু হবে না। আবার একজন কর্মচারী দিয়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষের উপজেলার নমুনা সংগ্রহ সম্ভব নয়। জরুরি ভিত্তিতে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর ল্যাব টেকনোলজিস্টদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রণোদনা প্রদানপূর্বক নমুনা সংগ্রহের পরিধি বাড়াতে হবে। তাহলেই উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব হবে।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মমতাজ বলেন, ‘আমিও শুনেছি রোগীর মেয়ের মাধ্যমে নমুনা নেয়া হয়েছে। নমুনা নেয়া শুদ্ধ না হলে রিপোর্ট ভুল আসবে। ভুল রিপোর্ট এলে আমাদের পুরো এলাকা ঝুঁকিতে থাকবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ল্যাব টেকনোলজিস্ট পরিতোষ বড়ুয়া  বলেন, ‘ওগুলো সব বানানো কথা, করোনা পরিস্থিতি আসার পর থেকে রাত-দিন কাজ করছি। মূলত অন্য কোনো কারণে নমুনা বাতিল হচ্ছে, মনে হয় কিটগুলোই ভালো নয়। আমাদের এক চিকিৎসকেরও নমুনা বাতিল হয়েছে। আশঙ্কা করছি নমুনা নিয়ে যাওয়ার পথেই কোনো সমস্যা হচ্ছে বা কেউ করাচ্ছে।’

সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি  বলেন, ‘বাঁশখালীতে নমুনা বাতিলের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। কেন এত নমুনা বাতিল হলো সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’