banner

শেষ আপডেট ২১ জানুয়ারী ২০২০,  ২১:৪৫  ||   বুধবার, ২২ই জানুয়ারী ২০২০ ইং, ৯ মাঘ ১৪২৬

ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আসা বাড়ি ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামে আত্বসাৎ

ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আসা বাড়ি ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামে আত্বসাৎ

২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আসা বাড়ি ইউপি সদস্যের স্ত্রীর নামে আত্বসাৎ

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ সাতকানিয়া ১০নং কেউচিয়ার ৩নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ আবু তালেব সিকদার(৫০) পিতাঃ ফজল কবির সিকদার এর পুত্র  নিজেকে অসহায় ও গরীব দাবি করে সরকারের অসহায়, গরীব, ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আসা বাড়ির নিজের স্ত্রীর নামে আত্বসাৎ করেন বলে জানা যায়। এই কারণে স্থানীয় অসহায়, গরীব- জনগণদের মধ্যে বিভিন্ন মন্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বর্তমানে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা ও দাপটের ভয়ে এলাকাবাসীরা নীরবতা পালন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেউচিয়া ইউনিয়নে ৩নং ইউপিতে অনেক অসহায়, ভূমিহীন গরীব রয়েছে। সরকারি সুবিধা, রিলিফের চাল, টিউবওয়েলসহ নানা সুবিধাদি শুধু এলাকার রক্ষক নামের ভক্ষকদের জন্য আসে। এই ইউনিয়নে মেম্বার যারা হয় তারা জনগণের চেয়েও গরীব। তারা নিজেরা সবল হওয়ার জন্য এলাকার প্রতিনিধি হন বলে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেন। এই সদস্য জনগণের ভোটে সদস্যপদ লাভ করেন শুধু নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য।
তার শিক্ষাগত যোগ্যতাও তেমন নেই। জনগণের ভালবাসায় ও আন্তরিকতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সরকারিভাবে আসলেও তা অসহায়, দরিদ্রদের বঞ্চিত করেন। নির্বাচনে যারা তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সহযোগিতা করেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন বলে জানা যায়।

উক্ত ব্যাপারে সরেজমিনে কেউচিয়া ৩নং ওয়ার্ডে তার এলাকায় পরিদর্শন করলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা যায় সরকারিভাবে আসা বাড়িটি তিনি নিজেকে আড়াল করার জন্য তার স্ত্রী নূরজাহান বেগমের নামে আত্মসাৎ করেন।

এই বিষয়ে ইউপি সদস্য আবু তালেবকে প্রশ্ন করলে তিনি দি ক্রাইমের একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি বাড়িটি নির্বাচনের পর আবেদন করেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “আমি গরীব, আমার থাকার জায়গা নেই, আমার এক বাচ্ছা ইন্টারমিডিয়েট পড়ে। আমরা ৬ ভাই। তারা আমার পরিবারের কোন ভরন-পোষণ করেনা। আমাকে জনগনে চাঁদা তুলে ইউপি সদস্য বানিয়েছে। আমার একটা বাড়ি প্রয়োজন, ইউপি সদস্য হওয়ার আগে একাধিকবার আবেদন করেছি, বাড়ি পাই নি।তাই নির্বাচন জয়ী হওয়ার পর ২০১৮ সালের আবেদনে এই বাড়ি পেয়েছি।এই বাড়ির জন্য ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমদ নিজেই ফরম পূরণ করে সাহায্য করেছেন।

জনগণের সেবক মেম্বাররা কি বাড়ি পায় এতে জনগণরা কি সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে না? তাছাড়া আপনার ওয়ার্ডে ১টি মাত্র বাড়ি এসেছে, তা কি আপনার নেওয়াটা কি অন্যায় হয়নি প্রশ্নের উত্তরে তিনি দি ক্রাইমকে বলেন, কেন অন্যায় হবে, আমি নামেই মেম্বার, আমার তেমন অর্থ নেই উল্টা জনগণের দয়ায় আমি বেঁচে আছি।

স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিরা কি সাধারণ জনগণের চেয়ে বেশি গরীব এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্রাইমকে বলেন, যেখানে নিজের পেটে ভাত জুটে না, সেখানে জনগণ দিয়ে আমি কি করবো? আপনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় ও আপনার নিজের নাম গোপন রেখে স্ত্রীর নামে করলেন, নিজের নামে বাড়ি নেননি কেন? এই প্রশ্নে তিনি দি ক্রাইমকে উত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন। এবং প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া চেষ্টা করেন।

তিনি নিজেকে উক্ত এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে  তারা৬ ভাইয়ের মধ্যে ২ জন আরব আমিরাত প্রবাসী ও ১ জন কেরানীহাট এলাকায় প্রভাবশালী কাপড় ব্যবসায়ী, আরেকজনের কাঠের মিলের মালিক ও তিনি নিজেই একজন কাঠ ব্যবসায়ী। ইউপি সদস্য ও স্থানীয় ওয়ার্ড আঃলীগের সেক্রেটারি হওয়া স্বত্ত্বেও নিজেকে গরীব বলে দাবি করেন, নিজের অবস্থান প্রশাসন হতে গোপন রাখার জন্য নিজের স্ত্রীর নামেই ঐ একটি বাড়িই আত্মসাৎ করেন।