banner

শেষ আপডেট ২৭ জানুয়ারী ২০২০,  ২০:৫৫  ||   সোমবার, ২৭ই জানুয়ারী ২০২০ ইং, ১৪ মাঘ ১৪২৬

লোহাগাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ২০ মালিকের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল

লোহাগাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ২০ মালিকের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল

১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০:৪৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • লোহাগাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ২০ মালিকের জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের হাজারবিঘা গ্রামে গত ১৫ দিন ধরে এক মুক্তিযোদ্ধাসহ ২০টি সংখ্যালঘু পরিবারের আবাদী জমি থেকে জোর পূর্রক মাটি তুলে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.দেলোয়ার হোসেন।

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, থানা যুবলীগের আহবায়ক বাদশা খালেক ও তার বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে জমি থেকে প্রায় ২০/২৫ ফুট গভীর করে মাটি তুলে নিচ্ছে। তার ভয়ে এলাকাবাসী কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। সম্প্রতি তার এ হরিলুটে অভিযান চালাতে গিয়ে লোহাগাড়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর দুই কর্মকর্তা মারধরের শিকার হন।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হওয়ার জন্য কি দেশ স্বাধীন করেছি।

লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আজ আমি বড়ই ক্লান্ত ও অসহায়। এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, একাধিক খুনের মামলার আসামি, বালু দস্যু বাদশা খালেদ হাজারবিঘা গ্রামে বিভিন্ন মালিকের জমি থেকে বুলডোজার দিয়ে টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নিজের জমি থেকে জোর করে প্রায় ২০/২৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে গেলেও কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারছিনা। কেউ প্রতিবাদ করলে লোহার রড, হাতুড়ি এবং বাম দা নিয়ে কুপিয়ে আহত করছে। নারী-শিশুদের পর্যন্ত অত্যাচার করছে।

প্রশাসনের ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলে গত ৪ ডিসেম্বর লোহাগাড়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ওই এলাকায় পরিদশনে গেলে তাদের উপর হামলা চালায় বাদশা খালেদের বাহিনী। এ বিষয়ে বাদশা খালেদসহ তার বাহিনীর লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। তারপরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সাহস পাচ্ছেনা।
তিনি বলেন,  গত ৫ ডিসেম্বর লোহাগাড়া থানা অভিযান চালিয়ে দুটি ট্রাক ও মাটি কাটার একটি স্কেবেটর জব্দ করে। কিন্তু তার তিনঘন্টা পর বাদশা খালেদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে ১৫টি ট্রাক নিয়ে পুরো এলাকার ফসলী জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি পুলিশকে পুনরায় জানানো হলে অদৃশ্য কারণে পুলিশ অভিযানে যেতে অপরাগত প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাপসী দাশ বলেন, সন্ত্রাসী বাহিনীটি এতই শক্তিশালী এলাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকার অধিকাংশ সংখ্যালঘুর ভিটে ও ফসলী জমি থেকে জোর করে মাটি নিয়ে গেলেও কেউ কিছু বলতে পাচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নিখিল দাশ বলেন, আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু এত অসহায় কখনো ছিলাম না। যুবলীগের নাম ব্যবহার করে বাদশা খালেদ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এতে প্রশাসনও তটস্থ। বিচার নিয়ে কোথায় যাবো আমরা। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।