banner

শেষ আপডেট ২৭ জানুয়ারী ২০২০,  ২০:৫৫  ||   সোমবার, ২৭ই জানুয়ারী ২০২০ ইং, ১৪ মাঘ ১৪২৬

বিদেশি বিনিয়োগে পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন করা গেলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে—মো. আবদুল মান্নান

বিদেশি বিনিয়োগে পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন করা গেলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে—মো. আবদুল মান্নান

৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২:০২ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বিদেশি বিনিয়োগে পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন করা গেলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে—মো. আবদুল মান্নান

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ  বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন,  বাংলাদেশের শিল্পের সুতিকাগার চট্টগ্রাম। প্রধান সমুদ্রবন্দর এখানে। আমদানি-রফতানির ৯০ ভাগ এ বন্দর দিয়ে হয়। দেশের প্রধান শিল্প গার্মেন্টস। যখন পোশাক রফতানি করা হয়, এ বন্দরে আনতে হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দরের বড় ভুমিকা রয়েছে। শীর্ষ বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান আরও এগিয়ে আনতে হবে। বন্দরের লিড টাইম কমাতে হবে।

২০২১ সালে পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনীতির অদৃশ্য হাতে মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আরো বেড়ে যাবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর হলে লিড টাইম অনেক কমে যাবে। ‘ইজি অব ডুয়িং বিজনেসে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় আমরা ১৬৮তম অবস্থানে এসেছি। ২০২১ সালে এটি ডাবল ডিজিটে নিয়ে আসতে চাই। এর জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। গত বছর আফগানিস্তানের পেছনে ছিলাম। ভারতের চেয়ে ১০০ ধাপ, পাকিস্তান থেকে ৬০ ধাপ পিছিয়ে আছি’। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব, সরকারি কর্মকর্তাদের কন্ট্রিবিউশনের কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে আমি আশাবাদী। আমাদের ফরেন ইনভেস্টমেন্টের চেয়ে লোকাল ইনভেস্টমেন্ট বেশি হওয়ায় অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত। তবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট দরকার।

আজ ৮ ডিসেম্বর রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্টিত দেশে বেসরকারী খাতে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বিনিয়োগে সহায়তা প্রদান এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বিভাগীয় বিনিয়োগ ও ব্যবসার উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিভাগীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে সমন্বিত ট্যুরিজম খাতের উন্নয়ন করা গেলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। বিশ্বের অনেক দেশ এমনটি করেছে। বিদেশিরা নিরাপত্তা ও পলিসি সাপোর্ট চায়।

বিডা’র চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। তার সামগ্রিক স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা। এর অর্থ ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ দেশ করে যাওয়া। আমরা আসলেই দুর্ভাগা জাতি। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আমরা আরও অনেক দুর এগিয়ে যেতাম। জাতির জনককে দেশ গড়ার সুযোগ দিইনি।সবাইকে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শামিল হতে হবে। স্পৃহা জাগানোই আমার ভিশন। শুধু নিজেরা কাজ করলে হবে না। অন্যদের দিয়েও কাজ করাতে হবে। বিনিয়োগে উৎসাহিত করা বিডার মূল কাজ। এর বাইরে বিনিয়োগকারীকে সহায়তা দেওয়া, পলিসি অ্যাডভোকেসি করি। বিডার দেশব্যাপী তেমন উপস্থিতি নেই, অফিস নেই। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। চট্টগ্রাম ও ঢাকার উন্নয়ন মানে সারাদেশের উন্নয়ন নয়।

তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগ বিকাশ জাতীয় পর্যায়ে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের ১০টি বিষয়ের একটি। তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি- এ কথার দৃষ্টিগ্রাহ্য যুক্তি আছে। উন্নত দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম, এমনকি নেগেটিভ। আমাদের ১৫-৪০ বছরের লোকসংখ্যা ৫ কোটির বেশি। এটি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। এটি বোঝা হবে যদি তাদের প্রশিক্ষিত করে কাজে লাগানো না যায়।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির হার্ডলাইন। এটি দ্রুত ১০০ শীর্ষ বন্দরের মধ্যে অনেক ধাপ এগিয়ে এসেছে। ৩০ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হচ্ছে। ৮-৯ হাজার একর জমি প্রস্তুত। কর্ণফুলী নদীর নিচে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকায় টানেল হচ্ছে। মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হচ্ছে। গভীর সমুদ্রবন্দরের অ্যাকোয়ার কাজ চলছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের কাজ চলছে। রেলস্টেশন হবে ঝিনুকের মতো। মিরসরাই থেকে টানেল দিয়ে চকরিয়া পেকুয়া দিয়ে লাবণী পয়েন্টে মিলিত হবে। ডেল্টা প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। বে টার্মিনালের অ্যাকোয়ারের কাজ সম্পন্ন। এটি হলে চট্টগ্রাম শহরে যানজট হবে না। দেশের শীর্ষ শিল্পমালিকরা চট্টগ্রামের। অনেক বড় শিল্পগ্রুপের কারখানা হচ্ছে চট্টগ্রামে। আমাদের তারুণ্যের শক্তিই বড়। তাদের দিয়েই বাস্তবায়িত হবে ডেল্টা প্ল্যান।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোঃ নুরুল আলম নিজামীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্ত্তী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোয়াজ্জম হোসাইন, বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পরিষদের মহা সচিব সালেহ আহমদ সুলেমান, বাংলাদেশ  ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল-আমিন, কর অঞ্চল-২ এর যুগ্ম কর কমিশনার মোঃ কাওসার আলী, ওমর গণি এমইএস কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম সরওয়ার আলম, বিকেটিটিসি’র উপাধ্যক্ষ নিবেদিতা দাশজেলা রেজিষ্টার এ.কে.এম রায়হান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিস্কৃতি চাকমা প্রমুখ।