banner

শেষ আপডেট ২৭ জানুয়ারী ২০২০,  ২০:৫৫  ||   সোমবার, ২৭ই জানুয়ারী ২০২০ ইং, ১৪ মাঘ ১৪২৬

লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় চাষীরা হতাশ, উপকূলের শত শত একর জমি অনাবাদি

লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় চাষীরা হতাশ, উপকূলের শত শত একর জমি অনাবাদি

৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০:৪৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় চাষীরা হতাশ, উপকূলের শত শত একর জমি অনাবাদি

লিটন কুতুবী : লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা হতাশা গ্রস্ত হয়ে মাঠে নামছে না। বাংলা বর্ষের অগ্রহায়ণ মাসের শেষে অন্যন্য বছর প্রান্তিক লবণ চাষীরা প্রতি একরে ১০০/১৫০মন লবণ উৎপাদন করে থাকে। চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমে প্রান্তিক চাষীদের মাঠে দেখা নেই। মজুরী,পানি সেচ খরচ, দৈনিক মজুরী খরচ,বর্গা জমির লাগিয়তসহ হিসাব নিকাশে প্রান্তিক চাষীরা কোন ক্রমেই হিসাব মিলাতে পারছে না। একত লবণ উৎপাদন পিছিয়ে দ্বিতীয়ত লবণের মূল্য নেই। বর্তমানে প্রান্তিক লবণ চাষীরা মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি লবণের মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা অর্থাৎ প্রতিমন ১৪৫/১৫০টাকা বিক্রি করছে। কিন্তুু গ্রাহকদের ঠিকই মার্কেটে খুচরা প্যাকেট জাতকরণ করে প্রতি কেজি ৩৫/৪০টাকা দামে বিক্রি করে যাচ্ছে এক শ্রেণীর সুবিধা বাদি আড়ৎদারগণ।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাশঁখালী, আনোয়ারা,চকরিয়া,পেকুয়া,কুতুবদিয়া,মহেশখালী,কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফসহ উপকূলীয় এলাকায় লক্ষ লক্ষ একর লবণ মাঠের জমিতে উৎপাদিত লবণ দেশের লবণের চাহিদা পূরণ করে আসছে। গত বছর লবণ উৎপাদন মৌসুমে উৎপাদিত লবণ এখনো মাঠে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। গত বছর প্রতি একর লবণ মাঠে খরচ পড়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। প্রতি একরে লবণ উৎপাদন হয়েছে সাড়ে সাত’শ মণ। বর্তমানে উৎপাদিত লবণের ন্যর্য মূল্য না থাকায় লবণচাষীরা মাঠে নামছে না। কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের লবণ চাষী শাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছর লবণ চাষ করে লক্ষাধিক টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ বছরও (দাদন) মহাজন থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা দাদন নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে লবণের মূল্য না থাকায় হতাশ।
উত্তর ধুরুং এলাকার শামসুল আলম জানান,গত বছর শুস্ক মৌসুমে লবণ চাষ করে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা ঘাটতি থাকায় এ বছর লবণ চাষ করছে না।
পলিথিন ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জানান, গত বছর পলিথিন ব্যবসা করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছে। এ বছর লবণচাষীরা মাঠে না নামায় তার পলিথিন ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, লবণের ন্যর্যমূল্য না থাকায় চাষীরা যথা সময়ে মাঠে নামছে না। যার ফলে আগামীতে দেশে লবণের ঘাটতি হতে পারে। পিয়াঁজের দাম নিয়ে দেশে যে লঙ্কাকান্ড হচ্ছে একই রুপ লবণ নিয়েও মারাতœক লঙ্কাকান্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুতুবদিয়া কুঠির শিল্প ও প্রদর্শনী কেন্দ্র (বিসিক) এর কেন্দ্র প্রধান জাকির হোছাইন জানান, চলতি শুস্ক মৌসুমে কুতুবদিয়া দ্বীপে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৪৭ একর লবণ মাঠে চাষ হচ্ছে। দ্বীপের কুঠির শিল্প বিসিকের ৮৪ একর লবণ চাষ হচ্ছে। লবণের ন্যর্য মূল্য না থাকায় চাষীরা হতাশ।