banner

শেষ আপডেট ২৭ জানুয়ারী ২০২০,  ২০:৫৫  ||   সোমবার, ২৭ই জানুয়ারী ২০২০ ইং, ১৪ মাঘ ১৪২৬

হয়তো এটি আমার জীবনের শেষ সম্মেলন—ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

হয়তো এটি আমার জীবনের শেষ সম্মেলন—ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২১:০৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হয়তো এটি আমার জীবনের শেষ সম্মেলন—ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে আবেগতাড়িত হয়ে পড়লেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এক সময় যারা এই মঞ্চে আমার পাশে থাকতো আজ কেউ পাশে নেই। একে একে সবাই চলে গেছে। আমিও হয়তো আজ জীবনের শেষ সম্মেলন উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।

প্রায় ৭ বছর পর নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে আজ শনিবার লালদিঘি ময়দানে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। এতে উদ্বোধক ছিলেন দীর্ঘদিন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা বর্ষীয়ান রাজনীতিক, সাবেক মন্ত্রী ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি আজকে আবেগের মধ্যে আছি। হয়তো এটি আমার জীবনের শেষ সম্মেলন। কারণ আমার সঙ্গে এই মঞ্চে যারা থাকতো- সেই আখতারুজ্জামান বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আজকে কেউ নেই।

‘বাবুকে হারিয়েছি। কায়সারকে হারিয়েছি। মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়েছি। ওহাব ভাইকে হারিয়েছি। আজিজ ভাইকে হারিয়েছি। মান্নান ভাইকে হারিয়েছি। জহুর আহমেদকে হারিয়েছি। এম এ হান্নানকে হারিয়েছি। আগামী দিনে আমিও এ ধরনের সম্মেলন পাবো কিনা জানি না।’

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। সংগ্রামী ইতিহাস আছে। ১৯৮০ সালে যখন স্বৈরাচারী জিয়ার বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছিলাম, তখন আমাদের মিছিলের ওপর আক্রমণ হয়। নিউ মার্কেট মোড়ে আমার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। তিনবার পঙ্গুত্বের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছি।

তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে যখন ছাত্রলীগের কনফারেন্সে যাচ্ছিলাম, তখন শিবির আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমাকে লাঞ্ছিত করে। এমন সব সংগ্রামী ইতিহাসের মধ্য দিয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থানে এসেছে। একটি সুসংগঠিত ইউনিট হিসেবে শেখ হাসিনার অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোশাররফ বলেন, প্রতিটি উপজেলায় আমরা সুসংগঠিত। প্রতিটি উপজেলায় আমরা নিয়মিতভাবে সম্মেলন করে আসছি। আজকে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- সম্মেলনের মাধ্যমে যারা পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবেন।‘আমাদের নেত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যারা পদ পেয়ে পদ-পদবীকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করবে  তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবেন না। এমন লোক আমরা চাই না।’

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা প্রমুখ।