banner

শেষ আপডেট ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২০:৪৮  ||   মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নগরীতে ১৮টি রুটের টেম্পো হেলপারের ঝুকিপূর্ণ পেশায় প্রায় চার হাজার শিশু

নগরীতে ১৮টি রুটের টেম্পো হেলপারের ঝুকিপূর্ণ পেশায় প্রায় চার হাজার শিশু

২৮ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নগরীতে ১৮টি রুটের টেম্পো হেলপারের ঝুকিপূর্ণ পেশায় প্রায় চার হাজার শিশু

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামে একের পর এক শিশু শ্রমিককের সংখ্যা বেড়েই চলছে। মহানগরীতে শিশু শ্রম বন্ধে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও বাস্তবে তা রূপ না নিয়ে কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকায় এই কোমলমতি শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন,অভাব অনটনই শিশুদের কাজে নামতে বাধ্য করে।  শিশুরা যেমন মানুষের বাসাবাড়িতে গৃহভৃত্য বা হোটেল রেস্তোরাঁয় বয়-বেয়ারার মত কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে তেমনি গণপরিবহন, জাহাজভাঙা শিল্প, ঝালাই কারখানা, পুরান লোহালক্কড়ের দোকান, গাড়ির ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও শিশুরা জড়িত। প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের মত বেশিরভাগ শিশুই দৈনিক ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে। যদিও তাদেরকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয় বড়দের তুলনায় অর্ধেক বা তারচেয়েও কম। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরা। অনেকে কর্মস্থলে মারাও যাচ্ছে। এদিকে সরকারিভাবে চট্টগ্রামে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১০ হাজার বলা হলেও বাস্তবে এই শহরে অর্ধলক্ষাধিক শিশু জীবন-জীবিকার তাগিদে নানা ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে টেম্পো হেলপারের ঝঁকিপূর্ণ পেশায় ৯০ ভাগ শিশু রয়েছে। মহানগরীতে প্রায় ৪ হাজার টেম্পো হেলপার এ ভয়াবহ ঝুকির সাথে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টেম্পো হেলপারের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
গত তিনদিন সরেজমিনে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৮টি রুটের ২ হাজার ১শ’ ৫৯টি টেম্পোতে এসব শিশু হেলপাররা কাজ করে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, টেম্পো মালিকেরা যদি এ ব্যাপারে সচেতন হয় সহজেই শিশুদের এই ঝুকিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, টেম্পো হেলপার হিসেবে শিশু শ্রমিকদের দেখা যায় বটে কিন্ত আমরা শুধু চালকদের লাইন্সেস দিয়ে থাকি। এ ব্যাপারে গাড়ির মালিকদের আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যেমে সতর্ক করে আসছি।

এদিকে টেম্পোর সহকারীর মত ঝঁকিপূর্ণ পেশায় এ বিপুল সংখ্যাক শিশু জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে পরিবেশবিদ শরীফ চৌহান বলেন, সরকার শিশু শ্রম বন্ধে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে রাতারাতি শিশু শ্রম বন্ধ করা অসম্ভব।
নগরীর বিভিন্ন রুটে দেখা গেছে, হেলপারের পাশাপাশি অনেক টেম্পোর ড্রাইভারও অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এরা অনেকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অবগত নয়।

চট্টগ্রাম অটো টেম্পোর মালিক সমিতির কর্মকর্তারা বলেন, আমরা শিশু শ্রমিক না নেয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকবার টেম্পো মালিকদের সাথে বৈঠক করেছি। এ বিষয়ে কিছু দিনের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত হবে।
জানা গেছে, গ্রামগঞ্জ থেকে মূলতঃ অভাবের তাড়নায় দরিদ্র শিশুরা শহরে আসে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে শিশুরা বিভিন্ন কাউন্সিলর অফিস থেকে বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ সংগ্রহ করে গার্মেন্টসহ নানা ধরনের কাজ নেয়। গণপরিবহন সেক্টরেও বিপুল সংখ্যক শিশুকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি শিশুকে দেখা যায় টেম্পোর হেলপার হিসেবে। জীবন বাঁচানোর জন্য তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টেম্পোর পেছনে ঝুলতে ঝুলতে কাজ করে। অনেকে আবার ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে টেম্পো চালনার কাজও করে।

এছাড়া বাস, টেম্পো, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ নানা ধরনের যানবাহনে হেলপারের কাজ করে শিশুরা। নগরীতে সংঘটিত দুর্ঘটনার বেশিরভাগই এইসব শিশু চালকের কারণে সংঘটিত হচ্ছে। এই শিশুরা অনেক সময় পরিবহন মালিকদের হাতে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রতিকারের জন্য তাদের কোথায় যাওয়া উচিত সেটাও তারা জানে না।