banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধে কনটেইনার জটের আশংকা, পরিবহনে নৈরাজ্য : নগরজীবনে চরম দূর্ভোগ

বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধে কনটেইনার জটের আশংকা, পরিবহনে নৈরাজ্য : নগরজীবনে চরম দূর্ভোগ

২০ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:৫৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধে কনটেইনার জটের আশংকা,  পরিবহনে নৈরাজ্য : নগরজীবনে চরম দূর্ভোগ

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ সড়ক পরিবহন আইনের বিরোধিতা করে পণ্য পরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রামে রীতিমতো নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরীতে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন চলাচলেও বাধার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ধর্মঘটকে ঘিরে সকল ধরণের ট্রাক, লরি ও টেইলার চালানো বন্ধ থাকার কথা থাকলেও শ্রমিকরা গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ও প্রাইভেট কার চলাচলে বাধা প্রদান করছেন। একইসাথে অনেক গণপরিবহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়াসহ প্রাইভেট কারগুলোকে হুমকিও প্রদান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার সকাল থেকে নগরীর ঈদগাহ কাঁচা রাস্তার মাথা ও হালিশহর বড়পোলসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ফলে গাড়ি না পেয়ে যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে দেখা গেছে।
এদিকে ধর্মঘটের কারণে গতকাল বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন নিমতলাসহ আশপাশের এলাকায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানগুলো ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। নগরীতে মাঝে মাঝে দুয়েকটি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান দেখা গেলেও বন্দর অভিমুখী পণ্য বহনকারী কোনো যান দেখা যাচ্ছে না। তবে বেসরকারি কনটেইনারডিপোগুলোতে কিছু কিছু লং ভেহিক্যাল ঢুকেছে বলে জানা গেছে।
কনটেইনার বহনকারী গাড়ি প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী জানিয়েছেন, যেসব প্রাইম মুভার রাতে কনটেইনার পরিবহনের জন্য বন্দরে ঢুকেছিল, সেগুলো সকালের মধ্যে কনটেইনার নিয়ে বের হয়েছে। সকাল থেকে আর কোনো প্রাইম মুভার বন্দরে এবং অফডকে যায়নি। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দরের জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস অব্যাহত আছে। তবে ইয়ার্ডে কনটেইনার থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য সকাল থেকে কোনো ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান বন্দরে প্রবেশ করেনি। এতে কার্যত বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বন্দরে কনটেইনার জট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের কার্যক্রমে কোনো সমস্যা নেই। জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা চলছে। সমস্যা হচ্ছে, খালাস কনটেইনার বা পণ্য বন্দরের বাইরে যাচ্ছে না। ডেলিভারির জন্য এভাবে কনটেইনার পড়ে থাকলে বন্দরে সংকট সৃষ্টি হবে। বন্দরের কনটেইনারের ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার। অলরেডি ৩৫ হাজার কনটেইনার জেটিসংলগ্ন ইয়ার্ডে আছে। ২-৩ দিন ডেলিভারি বন্ধ থাকলে ইয়ার্ডে বড়ো ধরনের জট তৈরি হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ডেলিভারি ছাড়াও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো থেকে রফতানি কনটেইনারও যাচ্ছে না। সকাল থেকে ডিপোগুলোতে হাতেগোনা কিছু লং ভেহিক্যাল প্রবেশ করেছে। তবে বেলা গড়াতেই সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি ও রফতানি কনটেইনার প্রবেশ বন্ধ থাকলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে মারাত্বক প্রভাব পড়বে। রফতানি পণ্য ছাড়াই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগে বাধ্য হলে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। শিল্প-কারখানায় কাঁচামালের সংকট তৈরি হবে। এদিকে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের পাশাপাশি পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দূরপাল্লার  যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি মহাসড়কে নগরীর আশপাশের উপজেলায় যাতায়াতাকারী গণপরিবহনও সকালে চলাচল করেনি।
আজ বুধবার সকালে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথ অলঙ্কার মোড়, অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতু এলাকায় ধত, শত মানুষকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা অভিমুখে কোনো বাস সকাল থেকে ছেড়ে যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাস চালক বলেন, সকালে বাস নিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন এসে বাস চালানো যাবে না বলে ঘোষণা করে। এসময় বাসে থাকা যাত্রীদেরও নামিয়ে দেয় তারা এবং বাস না চালাতে আমাদেরকে বাধ্য করছে। না হয় অবস্থা খুব খারাপ হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়।

মোরশেদ নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন পরপরই কোনো ইস্যু পেলেই সড়কে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে অস্থিরতা তৈরি করে। সরকারও কোনো ভাবে এদেরকে দমাতে পারছে না। আর তাই আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজ শুধুমাত্র পণ্য পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘট থাকলেও তারা গণপরিবহণগুলোও বন্ধ করে দিচ্ছে। যাত্রীদের বাস থেকেও নামিয়ে দিচ্ছে। তাই সঠিক সময়ে অফিসে যেতে পারি নাই।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলের (সিলেট-চট্টগ্রাম) সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের সংগঠনটি সকল পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কাজ করে। তাই আজ শুধুমাত্র পণ্য পরিবহন শ্রমিকদের চলা ধর্মঘটেও আমাদের সমর্থন রয়েছে। তবে গণপরিবহণ চলাচলে বাধা দেয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই।

তিনি বলেন, কিছু উৎসুক শ্রমিক এমন কাজ করছে। আমরা তাদেরকে গণপরিবহন চলাচলে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

সড়ক আইনটি বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান থেকে বাস্তবসম্মত নয় বলে এর সংশোধন দাবি করে এ শ্রমিক নেতা বলেন, যেখানে আমাদের দেশের মন্ত্রী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নেই সেখানে ড্রাইভারদের লাইসেন্স পেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হচ্ছে। এটি বাতিল করতে হবে। এছাড়া নো পার্কিং করার আগে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না করে আইন করা হয়েছে। আর কোনো শুনানি ছাড়া আইনটি করা কোনোভাবে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না। তিনি আরও  বলেন, যেখানে আমাদের দেশের পথচারিরা রাস্তা পারাপার শিখতে পারে নাই, সেখানে আইন করে সড়কের দূর্ঘটনাগুলোকে নর হত্যার সাথে তুলনা করা হয়েছে। বিভিন্ন মোড়ে সিগন্যাল বাতিগুলোও ঠিক নাই। তাই আমরা মহাসড়কগুলোকে চার লেন থেকে আট লেন করার দাবিসহ আইনটি সংশোধন করার দাবি জানাচ্ছি।