banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হুজুগের বাঙ্গালির গুজবের গল্প ঠেকাতে ১৫ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি

হুজুগের বাঙ্গালির গুজবের গল্প ঠেকাতে ১৫ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি

২০ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:৫০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • হুজুগের বাঙ্গালির গুজবের গল্প ঠেকাতে ১৫ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা কমতে শুরুর পর গুজব ছড়িয়ে লবণের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে আজ বুধবার ট্রাকভর্তি লবণ নিয়ে মাঠে নামেন লবণ মালিক সমিতি সংগঠনের সদস্যরা। বিক্রি করছেন প্রতি কেজি লবণ ১৫ টাকায়। লবণ বিক্রি শুরু হয় দুপুর ১টা থেকে। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা পিকআপে  বিক্রি করা ১৫ টাকা কেজিতে লবণ পেতে ভিড় জমায় ক্রেতারা। তবে বাজারে লবণের স্বল্পতা সম্পর্কে ছড়ানো গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. ইলিয়াস হোসেন। আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে লবণ মিল মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, লবণের দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছে। গুজব রটনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। লবণের কোনো স্বল্পতা নেই। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণে লবণ মজুদ রয়েছে তা চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের লবণ দিয়ে সারাদেশ প্রায় তিন মাস চলতে পারবে। চট্টগ্রামের মিল মালিকদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা আজ বুধবার  থেকেই খোলাবাজারে ১৫ টাকা দরে লবণ বিক্রি করবেন। তাছাড়া খুচরা বাজারে কোথাও ৩০ টাকার বেশি দরে কেউ লবণ বিক্রি করতে পারবেন না। ক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, কেউ ৩০ টাকার বেশি টাকা দিয়ে লবণ কিনবেন না। আগামী ৬ মাসের মধ্যে লবণের সংকট হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি কোনও অসাধু চক্র লবণের মজুদ করে বা বেশি দামে বিক্রি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ ছিল। চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ ১২.২৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে লবণের দাম বাড়াতে একটি কুচক্রীমহল দেশে লবণের সংকট চলছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। অথচ দেশে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ আছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, লবণ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইচ্ছাকৃতভাবে লবণের বাজারকে অস্থিতিশীল করার জন্য এটা করা হচ্ছে। আমরা গুজব রটনাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মাঝিরঘাটে এবং পটিয়ার ইন্দ্রপুলে ৭০টি লবণমিলে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে লবণের উৎপাদন। প্যাকেটজাত করে তা পাঠানো হচ্ছে বাজারেও।

মাঝিরঘাট লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবীর বলেন, আমাদের কাছে লবণের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। লবণের দাম প্যাকেটের গায়ে লেখা আছে। কেউ যেন এক টাকা বেশি দামেও লবণ না কেনেন। কারও বেশি লবণের প্রয়োজন হলে আমাদের কাছে সরাসরি আসবেন। বাড়তি দামে কাউকে লবণ কিনতে হবে না।
জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম তানভীর বলেন, দেশে লবণ ঘাটতি আছে, এমন সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই প্রচারণার কারণে বাজারে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সেজন্য বৈঠক হয়েছে।
আজ বুধবার লবণ ভর্তি ট্রাকে প্রতি কেজি লবণ ১৫ টাকা কিনে সাইফুল ইসলাম বলেন, শুনেছি লবণের দাম বাড়তে পারে- তাই আগে ভাগে চার কেজি লবণ কিনে নিয়েছি। পেঁয়াজের মতো হঠাৎ যদি লবণের দাম বেড়ে যায় সেজন্যেই লবণ কিনেছি।

লবণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন বলেন, লবণের দাম বাড়বে এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আমরা ১৫ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি করতে মাঠে নেমেছি যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে এটি শুধুই গুজব।  লবণ মালিক সমিতির এ কার্যক্রম নগরের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।