banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পেকুয়ায় ডাকঘরের ডিজিটাল সেন্টারের মালামাল ব্যবহার হচ্ছে পোস্ট মাস্টারের বাড়িতে!

পেকুয়ায় ডাকঘরের ডিজিটাল সেন্টারের মালামাল ব্যবহার হচ্ছে পোস্ট মাস্টারের বাড়িতে!

২০ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:২১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ায় ডাকঘরের ডিজিটাল সেন্টারের মালামাল ব্যবহার হচ্ছে পোস্ট মাস্টারের বাড়িতে!

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া : নুরুল হোছাইন। পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিমকূল গ্রামের মৃত গোলাম কিবরিয়ার পুত্র ও মগনামা ডাকঘরের অস্থায়ী পোস্ট মাষ্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিগত ২০১১ সাল থেকে। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সর্ম্পকে কোন নুন্যতম ধারনা নাই পোস্ট মাষ্টার নুরুল হোছাইনের। প্রিন্টার, স্ক্যানার মেশিন, মাউস, কিবোর্ড এ গুলোও সর্ম্পকেও ধারনা নাই।

কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারনা না থাকলেও ডাক অধিদপ্তর ‘‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গত ২২/১২/২০১৬ইংরেজী তারিখে সারাদেশের ডাকঘরের ন্যায় মগনামা ডাকঘরে (ইডিএ) দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত নিন্মমানের দোয়েল ল্যাপটপ ৩টি, মাউস ৩টি, কি-বোর্ড ৩টি, সকেট বোর্ড-৩টি, ল্যাপটপ ক্যারি ব্যাগ ৩টি, রঙ্গিন ফটোপ্রিন্টার ৩টি, সাধারান সাদাকালো প্রিন্টার ১টি, স্ক্যানার মেশিন ১টি হেডফোন ১টিসহ গত ১৬/১০/১৯ইংরেজী তারিখে ডাক অধিদপ্তর থেকে বায়োমেট্রিক মেশিন, ডিভিডি র‌্যাম, লাইসেন্স ক্যাসপারেসকি সফটওয়ার, ওয়েব ক্যামেরা ও ইন্টারনেট মডেমসহ একটি সীম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মগনামা ডাকঘরের পোষ্ট মাস্টারের নুরুল হোছাইনের মতো কম্পিউটার ইন্টারনেট সর্ম্পকে ধারনা নাই রাজাখালী ডাক ঘর, বারবাকিয়া ডাকঘর, টইটং হাজী বাজার ডাকঘর ও পেকয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলা ডাকঘরের পোস্টা মাস্টাগণের! পেকুয়া উপজেলার প্রতিটি ডাকঘরে লক্ষাধিক টাকার মালামাল প্রদান করা হলেও ডাক অধিদপ্তরের বিল ভাইচারে প্রতিটি ই-সেন্টার স্থাপনের জন্য সরবরাহকৃত এসব মামলালের ভূঁয়া ভাউচার বানিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকা দেখানো হয়েছে। ডাক অধিদপ্তর কেন্দ্রীক একটি সিন্ডিকেট এভাবে বরাদ্দের সিংহভাগই লুটপুটে নিয়েছে।

খোঁজ জানা গেছে, সরকার সারা দেশের ডাকঘরে ই-সেন্টার বা ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে জনগণকে ডিজিটাল সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এ জন্য ডাক অধিদপ্তরের গৃহীত ‘‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে। পরে উক্ত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে দূর্ণীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করে। যার তদন্ত এখনো চলমান। এই প্রকল্পের অর্থ থেকেই পেকুয়া উপজেলার সদর প্রধান ডাকঘর, মগনামা ডাকঘর, রাজাখালী ডাকঘর, বারবাকিয়া ডাকঘর ও টইটং হাজী বাজার ডাকঘরে ই-সেন্টার বা ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের জন্য নিন্মমানের মালামাল সরবরাহ করা হয়েছিল। আর এসব মালামাল সংশ্লিষ্ট ডাকঘরের পোষ্ট মাষ্টাররা ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন না করে তাদের বাসায় সরকারী এসব মালামাল ব্যবহার করছেন গত তিন বছর ধরে। অধিকাংশ মালামাল অপব্যবহারের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে পেকুয়ার ডাকঘরগুলো একটাকাও আয় করতে পারেনি। পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের জনগন ডাকঘরের ই-সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  মুখ থুবড়ে পড়েছে ডাকঘরের ই-সেবা কার্যক্রম।

গত ১৮ নভেম্বর সকালে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ডাকঘরে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ডাকঘরের পোস্ট মাষ্টার নুরুল হোছাইন বসে দায়িত্ব পালন করছেন। এসময় ডাকঘরে ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টারসহ অন্যান্য মালামাল অফিসে পাওয়া যায়নি।

এসময় মালামাল কোথায় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ডাকঘরে থাকলে মালামাল চুরি হয়ে যাবে, তাই বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়েছে। মালামালগুলো আছে কিনা বাড়ীতে গিয়ে দেখতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বাড়ীতে নিয়ে যায়।

পোস্ট মাষ্টার নুরুল হোছাইনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে একটি দেখাতে পেরেছেন। আর দুইটি ল্যাপটপ কোথায় জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, দুইটি ল্যাপটপ খারাপ হয়ে গেছে। সেগুলো সার্ভিসিং করার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আরো বেশকিছু মালামাল তিনি দেখাতে পারেনি।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই পোস্ট মাস্টারের এক ছেলে চট্টগ্রামে থাকে। ওই দুইটি ল্যাপটপ পোস্ট মাস্টারের ছেলে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে মগনামা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার নুরুল হোছাইন জানান, সব মালামাল তার কাছে রয়েছে। সরকার যখন চাইবে তখন দিয়ে দিব।
এভাবে পরদিন ১৯ নভেম্বর রাজাখালী ডাকঘর, টইটং হাজী হাজার ডাকঘর, বারবাকিয়া ডাকঘর ও পেকুয়া সদর ডাকঘরে গিয়েও ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার,ওয়েব ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল দেখা যায়নি। কোথাও ডিজিটাল পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চোখে পড়েনি। অধিকাংশ মালামালই সংশ্লিষ্ট ডাকঘরের পোস্ট মাস্টাররা তাদের বাসা-বাড়িতে ব্যক্তিগত জিনিসের মতো ব্যবহার করছেন।
এ ব্যাপারে পেকুয়া সদর ডাকঘরে কর্মরত পোস্ট মাস্টার জানান, ডাক অধিদপ্তরের কর্তৃক বরাদ্দ দেওয়ায় ল্যাপটপ ও ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলো চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল শাখা ডাকঘরগুলোতে নাই।  তাই এগুলোর ব্যবহার হচ্ছেনা।