banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি : গ্রেফতারকৃত ইসি কর্মী চারদিনের রিমান্ডে

রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি : গ্রেফতারকৃত ইসি কর্মী চারদিনের রিমান্ডে

১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:১৪ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • রোহিঙ্গাদের হাতে এনআইডি :  গ্রেফতারকৃত ইসি কর্মী চারদিনের রিমান্ডে

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  রোহিঙ্গাদের ভোটার করা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাইয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেফতারকৃত চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান এ আদেশ দিয়েছেন। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত চারদিন মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লাভ লেইনে জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে নাজিমকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। গতকাল মঙ্গলবার নাজিমকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।
এদিকে পরিচয়ত্রপত্র জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের চার কর্মচারীসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন নামে একজনকে তার দুই সহযোগী আটক ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশে দেয় কর্মকর্তারা। পরে জয়নালের তথ্যমতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পের অধীনে কর্মরত মোস্তফা ফারুক নামের এক টেকনিক্যাল সাপোর্ট কর্মীকে আটক করে।
২৩ সেপ্টেম্বর শাহনূরকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম। এরপর গত ১৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার  করা হয়। সেপ্টেম্বরে জয়নাল আটকের পর পুলিশকে জানিয়েছিল, ২০১৬ সালে মোস্তফা ফারুক চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর গ্রেফতার নাজিমের মাধ্যমেই এনআইডি তৈরি করে দিতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ইতোমধ্যে গ্রেফতার ৩ জনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে নাজিমের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
গত অগাস্ট মাসে এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি নিয়ে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। আটকে দেয় রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ।
আটকদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা তথ্য পান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট পদে কর্মরত শাহনূর মিয়ার মাধ্যমে তারা রোহিঙ্গাদের এনআইডি করিয়ে দিতেন। শাহনূর দেশের বিভিন্ন উপজেলার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারেন।