banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাংলাদেশে সম্ভাবনা সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহসিকতা—মেয়র

বাংলাদেশে সম্ভাবনা সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহসিকতা—মেয়র

১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:৩৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বাংলাদেশে সম্ভাবনা সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহসিকতা—মেয়র

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  দেশের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। নগরীর জ্ইিসি কনভেনশন সেন্টারে ৭ দিনব্যাপী এ  মেলার আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার এ মেলা উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র বলেন, আয়কর মেলা করদাতাদের করভীতি দুর করে কর প্রদানে আরো উৎসাহিত করবে। এ মেলার মাধ্যমে কর প্রশাসনের সাথে করদাতাদের সেতুবন্ধন ও সোহার্দ্রপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে সম্ভাবনার দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রধানন্ত্রী সরকার পরিচালনা করছেন। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে নাগরিকদের উচিত সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের পাশাপাশি অর্জিত সম্পদের যথাযথ আয়কর প্রদান করা।

সিটি মেয়র হিসেবে নগরবাসীকে আয়কর প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করমেলা কর আদায়ের জন্য শুধু নয়, বরং এ মেলা অধিকতর করসেবা প্রদানের জন্য আয়োজন করা হয়ে থাকে। আয়করের ক্ষেত্র বাডিয়ে কর পদ্ধতির সহজীকরণ এবং করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে করদাতার সংখ্যা আরো বাড়বে বলে তিনি এ সময় মন্তব্য করেন।

করদাতার মাইন্ডসেট পরিবর্তন করার কথা বলে তিনি বলেন, কর নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি তা দূর করতে মেলা। আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কর দিয়ে কেউ গরিব হয় না। কর দিলে ব্যবসা বাণিজ্য সমৃদ্ধ হয়।
তিনি বলেন, আমরাই পারি দেশকে বদলে দিতে। আমরাই পারি নিজেকে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। আমরাই পারি দেশকে বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। একসময় বাংলাদেশকে দরিদ্র, হতদরিদ্র, তলাবিহীন ঝুঁড়ির দেশ বলা হতো। কিন্তু এখন অর্থনৈতিক বিস্ময়ের দেশ। এখন আমরা উন্নয়নের রোল মডেল। এসব সম্ভাবনা সৃষ্টির পিছনে কাজ করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহসিকতা। এসব ওনার নেতৃত্বেই  সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকবে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রাজনীতির মত পার্থক্য থাকবে। তবে প্রতিটি দলের মূল লক্ষ্যবোধ থাকতে হবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে দেশের ক্ষতি করা এসব প্রকিবন্ধকতা বন্ধ করুন।

চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ এর কমিশনার ও মেলা আয়োজন কমিটির আহবায়ক জি.এম আবুল কালাম কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামূল হক, কর আপিলাত ট্রাইব্যুনাল সদস্য সৈয়দ মো, আবু দাউদ, কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. ইকবাল হোসেন, কর অঞ্চল-৩ এর কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমান, কর অঞ্চল-৪ এর কমিশনার ব্যারিস্টার মোতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, কর কমিশনার ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ মফিজ উল্লাহ, কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ৪টি কর অঞ্চল কর্তৃক আয়োজিত এ মেলায় ৬৬টি বুথ ও পর্যাপ্ত সংখ্যক হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। মেলায় করদাতাদের রিটার্ণ ফরম পূরণে সহযোগিতা, অনলাইন রিটার্ণ দাখিল, ঘরে বসে রিটার্ণ দাখিলের জন্য ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান প্রভৃতি সেবা দেওয়া হয়। মেলায় স্থাপিত চারটি ব্যাংকের বুথের মাধ্যমে করদাতাগণ কর প্রদান ও ই পেমেন্ট করতে পারছেন।

এছাড়া নতুন করদাতাদের ই-টিআইএন খুলতে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। কর আইনজীবীগণ মেলায় বিনা পারিশ্রমিকে রিটার্ণ ফরম পূরণ করে দিয়ে থাকেন। মেলায় জীবন বিমা কর্পোরেশনের বুথের মাধ্যমে আয়কর রেয়াত নেওয়ার জন্য সনদ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। কর আদায় সহজীকরণের অংশ হিসেবে মেলায়ও য়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর আয়কর মেলায় ৪৮ হাজার রিটার্ণ জমা পড়েছিলো। এ বছর এর চেয়ে বেশি রিটার্ণ প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগামী ২০ নভেম্বর মেলা শেষ হবে।