banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

কর দেওয়ার উপযুক্তকারীরা যথাযথভাবে কর দিলে বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে—তথ্যমন্ত্রী

কর দেওয়ার উপযুক্তকারীরা যথাযথভাবে কর দিলে বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে—তথ্যমন্ত্রী

১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:০৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • কর দেওয়ার উপযুক্তকারীরা যথাযথভাবে কর দিলে  বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে—তথ্যমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি গণসংগঠন। এখানে অন্য দল থেকে যোগ দিতে পারবে না এমনটি নয়। অন্য দল থেকে যোগ দিতে পারে, তবে তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও নীতিতে বিশ্বাস করতে হবে। আমরা কোনো যুদ্ধাপরাধীকে, যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত এমন কাউকে নেব না। যারা নানাভাবে অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের দলের নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে তাদের আমাদের দলে সম্পৃক্ত করা সমীচীন নয়। আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে আয়কর বিভাগ, চট্টগ্রাম আয়োজিত করদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বিএনপির দুর্নীতিবাজ নেতাদেরও ধরা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিতেও যারা দুর্নীতিবাজ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে নানা কিছু অর্জন করেছেন এবং সরকার ও দেশের জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, তাদের তথ্য সরকারের কাছে আছে। সেগুলো নিয়ে সরকার নিশ্চয় কাজ করছে। কেউ আওয়ামী লীগে যোগ দিলেই তাকে অনুপ্রবেশকারী বলা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে অনুষ্ঠানে দেশে জিডিপি’র আকারের সঙ্গে করদাতার সংখ্যা না বাড়ায় হতাশা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কর না দিলে উন্নয়ন হবে কিভাবে?

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে জিডিপি’র আকার যেখানে চারগুণ বেড়েছে, সেখানে করদাতার সংখ্যা মাত্র দ্বিগুণ। অথচ বাংলাদেশে এক কোটি মানুষ করদানে সক্ষম। আমরা সবসময়ই অবকাঠামোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নয়ন চাই। কিন্তু কর না দিলে উন্নয়ন হবে কিভাবে। কর দেওয়াকে উৎসাহিত করতেই এনবিআর সেরা করদাতাদের সম্মানিত করছে।
কর দেওয়াকে উৎসাহিত করতে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকহাছান মাহমুদ বলেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজের জন্য সমাজের জন্য দায়িত্ব মনে করলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে। যারা কর দেওয়ার উপযুক্ত তারা যথাযথভাবে কর দিলে বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাবে।
কর কমিশনার আবুল কালাম কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাটের কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হক, কর আপিল ট্রাইব্যুনালের কমিশনার আবু দাউদ, কর আপিল অঞ্চলের কমিশনার হেলাল উদ্দিন সরকার।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন পর্যায়ে এবার সেরা ৩৮ করদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে করদাতা, এক বছরে সর্বোচ্চ করদাতা, সর্বোচ্চ করদাতা নারী এবং ৪০ বছরের কম তরুণ করদাতা ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন তিনভাই সদরউদ্দিন খান, আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান ও সালাহউদ্দিন কাসেম খান। সর্বোচ্চ করদাতা নারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন ওই পরিবারেরই সদস্য শামিম হাসান। নগরীতে দীর্ঘমেয়াদে করদাতার সম্মাননা পেয়েছেন এ বিএম এ বাসেত ও আমজাদুল ফেরদৌস চৌধুরী। তরুণ করদাতা হিসেবে পেয়েছেন মো. শাহাদাত হোসাইন। জেলায় সর্বোচ্চ করদাতা পর্যায়ে যথাক্রমে মো. লোকমান, মোহাম্মদ সেলিম ও শেখ নবী, মহিলা হিসেবে জান্নাতুল মাওয়া, তরুণ পুরুষ করদাতা হিসেবে জাহেদ চৌধুরী এবং দীর্ঘমেয়াদে মো. হাজী মুছা ও কামাল উল্লাহ সম্মাননা পেয়েছেন। এছাড়া রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার দীর্ঘমেয়াদে এবং সর্বোচ্চ করদাতারা একইভাবে সম্মাননা পেয়েছেন।