banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বাবুর স্মরণ সভা :খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না—সেতুমন্ত্রী

বাবুর স্মরণ সভা :খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না—সেতুমন্ত্রী

১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১৯:৪৬ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • বাবুর স্মরণ সভা :খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না—সেতুমন্ত্রী

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ বুধবার সকালে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন  শাহ আমানত সংযোগ সেতু সংলগ্ন  কালামিয়া বাজারস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ত্যাগী ও নিবেদিত। কিন্তু সামান্য কারণে তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের প্রয়াত নেতার আত্মাকষ্ট পান। রাজনীতিতে শিষ্ঠাচার থাকতে হবে। জুনিয়র নেতাকর্মীরা সিনিয়রদেরকে সম্মান শ্রদ্ধা করবে। সিনিয়ররা জুনিয়রদেরকে স্নেহ ভালবাসা দেবে-এটাই দরকার।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। যারা কলহপ্রিয়, দুর্নীতিবাজ, ভূমিদস্যু, অপকর্মকারী তাদের অপকর্মের দায় দল নেবে না। খারাপ লোকের জন্য দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। একটা খারাপ কাজ অনেকগুলো ভাল কাজকে ম্লান করে দেয়। অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান চলমান রয়েছে। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, যারা রাজনীতিকে মানি মেকিং মেশিন মনে করে, টাকা দিয়ে যারা পদ বেচাকেনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাদের কাছ থেকে  আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুরা থাকতেন যোজন দূরে।এ সময় মন্ত্রী সামান্য কারণে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন ।
স্মরণ সভায় আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সাথে দীর্ঘদিন কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কোনো মানুষ সাহায্য, সহযোগিতার জন্য তার কাছে গেলে, খালি হাতে ফিরতে দেখিনি। আমি পারবো না- এই কথাটি তিনি কখনো বলেননি। এ অঞ্চলে অনেক মানুষ আছে, যারা বাবু ভাইয়ের কারণে উপকৃত হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা বাংলাদেশের অনেক মানুষ আছে যারা বাবু ভাইয়ের কারণে উপকৃত হয়েছে। ব্যাংকের মালিক হবে স্বপ্নেও দেখেনি, তাকে বাবু ভাই ব্যাংকের পরিচালক বানিয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের সঙ্গে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু কোনদিন বেঈমানি করেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আওয়ামীলীগ যখন মহাবিপর্যয়ের মুখে তখন দলকে দল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাবু ভাই। তিনি চট্টগ্রামের মাটিতে আওয়ামী লীগের পতাকা উড্ডয়মান রেখেছেন। সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন, সমস্ত লোভ-লালসাকে প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখাদের মধ্যে একজন ছিলেন বাবু ভাই। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দিতে  বাবু ভাই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না, দেশ ও মানুষকে ভালোবাসতেন বিধায় তিনি একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বাবু ভাই কর্মীদের নেতা ছিলেন, আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার সাথে, আওয়ামী লীগের সাথে, বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে কখনো বেঈমানি করেননি।
মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া,  মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন,  শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাংসদ ড. আবু রেজা মো নদভী প্রমূখ।