banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ১৯:৩০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আবরার হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

ঢাকা অফিসঃ বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার ইঙ্গিত দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, সব আইনি বাধ্যবাধকতা শেষ করে আবরার হত্যা মামলার দ্রুত বিচার করা হবে। সোমবারের মধ্যে প্রসিকিউশন টিমকে এই মামলা গ্রহণ করতে বলব।

আবরার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দেওয়ার পর বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান আইনমন্ত্রী।

গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। তিনি শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ফেসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আবরারকে লাঠি ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে ইতিমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে মাতাল অবস্থায় আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নিজস্ব তদন্তেও।

হত্যাকাণ্ডের এক মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আবরারের বাবা মামলা করেছিলেন। আর তদন্তে আরও ছয়জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি তিনজন পলাতক রয়েছে। আর এজাহারের বাইরে তদন্তে যে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে তার মধ্যে একজন পলাতক আছে।

অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত বিচার আইন, ২০০০’ এ বিচার করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব। সেটা যখন আইন মন্ত্রণালয়ে আসবে তখন আমরা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার বিচার করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব।

মন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হলে এর প্রথম সময়টা হচ্ছে ৯০ দিন, তারপর সময় দেয়া হয় ৩০ দিন। মোট ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করতে না পারলে তৃতীয়বার ১৫ দিন সময় পাবে। অর্থৎ মোট ১৩৫ দিনে বিচারকাজ শেষ করতে হবে।’

শিগগিরই আবরার হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যথা শিগগিরই করা হবে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড যখন ঘটে তখনই বলেছিলাম যে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর অভিযোগপত্র যখন আদালতে সাবমিট করা হবে, তারপর দায়িত্ব পড়বে প্রসিকিউশন টিমের ওপর। এ মামলা বিচারিক আদালতে আসার পরই যেন কার্যক্রম শুরু করা যায় এজন্য একটা প্রসিকিউশন টিম ঠিক করে রাখা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দাখিল করার পর কিছু ফরমালিটিজ রয়েছে। যেমন-যদি পলাতক আসামি থাকে, তাহলে তাকে হাজির হওয়ার জন্য একটা আদেশ দিতে হবে। সে যদি আদেশে হাজির না হয়, তাহলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়। সেজন্যও একটা গেজেট নোটিফিকেশন করতে হবে। এসব ফরমালিটিজগুলো যত শিগগির সম্ভব আমরা শেষ করব এবং এ দায়িত্ব আগামী সোমবারের মধ্যে প্রসিকিউশন টিমকে গ্রহণ করতে বলব। এসব ফরমালিটিজ শিগগিরই শেষ করতে বলব।’

‘তারপরও একটা কথা বলে রাখতে চাই, আইনে কিন্তু বলা আছে- একটা সময় দিতে হবে। এই সময়ের ওপর দিয়ে কিন্তু আমরা যেতে পারব না। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই যত দ্রুত করা যায় সেটা করা হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট যে সময় বেঁধে দেবে পলাতক আসামিরা যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে তাদের পলাতক দেখিয়ে বিচার কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এবং জনগণের চাওয়া অনুযায়ী এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যথাসময়ে করা হবে। জনগণ যখন চেয়েছে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।’