banner

শেষ আপডেট ১০ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২০:৪৮  ||   মঙ্গলবার, ১০ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পেলেন রাবেয়া খাতুন ও সাদাত হোসাইন

‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পেলেন রাবেয়া খাতুন ও সাদাত হোসাইন

১২ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:৪০ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পেলেন  রাবেয়া খাতুন ও সাদাত হোসাইন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :  আজ ১২ নভেম্বর, মঙ্গলবার, বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ প্রবীণ ও নবীন দুজন কথাসাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য রাবেয়া খাতুন এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়স্ক লেখক) ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ উপন্যাসের জন্য সাদাত হোসাইন এ পুরস্কার পান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি।

বিশেষ অতিথি খ্যাতিমান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

সভাপতিত্ব করেন এই পুরস্কারের জন্য গঠিত বিচারকমন্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ এবং রেওয়াজ পারফরমার স্কুলের শিল্পীবৃন্দের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। নৃত্য পরিচালনায় মুনমুন আহমেদ।
বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ১২৮০ বঙ্গাব্দের (১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ) জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় বঙ্কিম সহোদর পূর্ণচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মধুমতী’ গল্প দিয়েই বাংলা গল্পের যাত্রা শুরু।

অন্যদিকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৭)। তবে উপন্যাসে নবযুগের সূত্রপাত ঘটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫) প্রকাশের মধ্য দিয়ে। আমরা আধুনিক বাংলা উপন্যাস পাই রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকে। আর শিল্প-সার্থকতার বিচারে বাংলা ছোটগল্পের প্রবর্তকও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বাংলাদেশের কথাসাহিত্য প্রসঙ্গে বলা যায়, আমাদের এই ভূখন্ডে পঞ্চাশের দশকে কথাসাহিত্য হয়ে ওঠে মৃত্তিকাস্পর্শী ও জাতিসত্তার শিকড়সন্ধানী। ষাট দশকে এদেশের কথাসাহিত্যে সূচিত হয় নতুন স্রোত। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কল্লোল আর সংঘাতের পটে রচিত হয় গল্প-উপন্যাস। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কথাসাহিত্যে লক্ষ করা যায় নতুন নতুন নিরীক্ষা আর বাঁক।
কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, যাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে, ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে, পরের চার দশক আপন সৃষ্টিশীলতায় আচ্ছন্ন রেখেছেন কোটি বাঙালিকে। পরিস্থিতি নির্মাণ, বর্ণনাভঙ্গি, সংলাপে তিনি এমন শৈলীর উদ্ভাবন করেছেন যা বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয়।
আপন দ্যুতিতে উদ্ভাসিত প্রয়াত এই লেখকের স্মরণে এবং এদেশের নবীন-প্রবীণ কথাসাহিত্যিকদের শিল্পসৃষ্টিতে প্রেরণা জোগাতে ২০১৫ সালে প্রবর্তিত হয় ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার’।
দুটি শ্রেণিতে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ কোনো শিল্প সৃষ্টির মাধ্যমে কথাসাহিত্যে অবদান রাখার জন্য অথবা কথাসাহিত্যে সার্বিক অবদানের জন্য একটি পুরস্কার। এর অর্থমূল্য পাঁচ লাখ টাকা। অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়সী লেখককে পূর্ববর্তী বছর প্রকাশিত তার নির্দিষ্ট গ্রন্থের জন্য আরেকটি পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এর অর্থমূল্য এক লাখ টাকা।
২০১৫ সালে এই দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছিলেন যথাক্রমে শওকত আলী এবং সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম। ২০১৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছিলেন হাসান আজিজুল হক এবং স্বকৃত নোমান। ২০১৭ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন জ্যোতি প্রকাশ দত্ত এবং মোজাফ্ফর হোসেন। অন্যদিকে ২০১৮ সালে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছিল রিজিয়া রহমান ও ফাতিমা রুমির হাতে।
 রাবেয়া খাতুন


ছয় দশক ধরে রাবেয়া খাতুন লিখছেন। মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের দরুন জীবন ঘষে আগুন জ্বেলেছেন, বাংলা সাহিত্যে রেখেছেন প্রোজ্জ্বল স্বাক্ষর। তাঁর কয়েকটি বই ধ্রুপদী সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে।
রাবেয়া খাতুনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, তৎকালীন বিক্রমপুরের পাউসার গ্রামে, মামার বাড়িতে। পৈতৃক বাড়ি শ্রীনগর থানার ষোলঘর গ্রামে। বাবা মৌলবী মোহাম্মদ মুল্লুক চাঁদ, মা হামিদা খাতুন। স্বামী চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক ফজলুল হক। তাদের চার সন্তান ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।
১৯৫৯ সালে সাপ্তাহিক যুগের দাবিতে প্রকাশিত হয় রাবেয়া খাতুনের প্রথম গল্প ‘প্রশ্ন’। গল্পের বিষয়বস্তু ছিল নারী নির্যাতন। তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস ‘মধুমতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। এটি এদেশের ক্ষয়িষ্ণু তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবনের দলিল, যা এদেশের উপন্যাসে প্রথমবারের মতো উঠে আসে। তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস হচ্ছে : অনন্ত অন্বেষা (১৯৬৭), মন এক শ্বেত কপোতী (১৯৬৭), রাজাবাগ শালিমারবাগ (১৯৬৯), সাহেব বাজার (১৯৬৯), ফেরারী সূর্য (১৯৭৪), নীল নিশীথ (১৯৮৩), বায়ান্ন গলির এক গলি (১৯৮৪), মোহর আলী (১৯৮৫), ই ভরা বাদর মাহ ভাদর (১৯৮৮), বাগানের নাম মালনিছড়া (১৯৯৫)। শিশুতোষ ও ভ্রমণ সাহিত্যেও রাবেয়া খাতুন রেখেছেন সৃজনশীলতার ছাপ।…তাঁর গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে টিভি নাটক এবং চলচ্চিত্র। তিনি নিজেও একদা বেতার ও টিভির জন্য নাটক লিখেছেন।
বাংলা সাহিত্যে তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাবেয়া খাতুন পেয়েছেন বহু পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯৩), কমর মুশতারী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯৪), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), শাপলা দোয়েল পুরস্কার (১৯৯৬), শের-ই-বাংলা স্বর্ণ পদক (১৯৯৬), নাট্যসভা পুরস্কার (১৯৯৮), ঋষিজ সাহিত্য পদক (১৯৯৮), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার (১৯৯৮), লায়লা সামাদ পুরস্কার (১৯৯৯), অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯), ইউরো শিশু সাহিত্য পুরস্কার (২০০৩), সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার (২০১০), স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৭)।
এবার কথাসাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পেলেন রাবেয়া খাতুন।
 সাদাত হোসাইন


এ সময়ের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। জন্ম ১৯৮৪ সালের ২১ মে, মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার কয়ারিয়া গ্রামে। বাবা হেদায়েতউল্লাহ বেপারি । মা নাসরীন আলো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর।
প্রথম গ্রন্থ ‘গল্পছবি’ (২০১৩)। এখানে তার তোলা আলোকচিত্র এবং সেগুলো তোলার গল্প ঠাঁই পেয়েছে। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জানালার ওপাশে’ (২০১৪)। তবে তাকে পাঠকদের মণিকোঠায় ঠাঁই দেয় ‘আরশিনগর’ (২০১৫) উপন্যাসটি। এর পরে তিনি পর্যায়ক্রমে লিখেছেন ‘অন্দরমহল’, ‘মানব জনম’, ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ এবং ‘নির্বাসন’। লিখেছেন ‘যেতে চাইলে যেও’, ‘আমি একদিন নিখোঁজ হবো’ এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’-র মতো পাঠকপ্রিয় কবিতার বই।
চলচ্চিত্রেও সাদাত গল্প বলে সমাদৃত হয়েছেন। নির্মাণ করেছেন ‘বোধ’, ‘দ্যা শ্যুজ’, ‘প্রযতেœ’সহ তুমুল জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই সূত্রে তিনি লাভ করেছেন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকার পুরস্কার।
বাংলা কথাসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাদাত হোসাইন পেয়েছেন এসবিএসপি-আরপি ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কার (২০১৮)। এবার ‘নিঃসঙ্গ নক্ষত্র’ উপন্যাসের জন্য নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে ‘এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯’ পেলেন তিনি।