banner

শেষ আপডেট ৭ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২১:১৮  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ডিসেম্বর নাগাদ নগরীর তিনটি সড়কে পরীক্ষামুলক ভাবে ১শ’টি এসি বাস চলবে—মেয়র

ডিসেম্বর নাগাদ নগরীর তিনটি সড়কে পরীক্ষামুলক ভাবে ১শ’টি এসি বাস চলবে—মেয়র

১১ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:২৯ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ডিসেম্বর নাগাদ নগরীর তিনটি সড়কে পরীক্ষামুলক ভাবে ১শ’টি এসি বাস চলবে—মেয়র

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত মি. পিটার ফাহরেনহোল্টেজ। আজ সোমবার সকালে টাইগারপাস সিটি মেয়রের কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে তারাঁ উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে সিটি মেয়র জার্মান রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা জার্মানিতে ছিলেন বলে ঘাতক চক্রের হাত থেকে তাঁরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। এই দুঃসময়ে তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জার্মান সরকার অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় দেন। তজ্জন্য জার্মান সরকার এবং সেই দেশের জনগণের প্রতি কর্তজ্ঞতা জানান সিটি মেয়র।

মেয়র বলেন ,স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জার্মানি। সামাজিক রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রে ইউরোপের এই দেশটি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বিশ্বস্ত সঙ্গী।এই প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরে জার্মানীর বিভিন্ন উদ্যোক্তদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বৈঠকে সিটি মেয়র চসিকের কর্মকান্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত মি. পিটার নগর আয়তন ও সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, ৬০ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গঠিত। এতে ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে। নগরবাসীর সংখ্য ৭০ লক্ষ। নগরবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে  মেয়র,কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়ে থাকে। এই প্রসঙ্গে তিনি চসিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করেন। বৈঠকে  সিটি মেয়র সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ড সম্পর্কে বিশদ বিবরন তুলে ধরেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিষয়ে সিটি মেয়রের নিকট জানতে চাইলে সিটি বলেন, আমি মেয়র নির্বাচনকালিন সময়ে এই নগরবাসীকে ক্লিন ও গ্রীন সিটিতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম। সেই লক্ষকে নিয়ে আমি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এ শহরের ফুটপাত,আইল্যান্ড,মিড-আইল্যান্ড গুলো ক্রমাগত সবুজে সমারোহ হচ্ছে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ডোর-টু-ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে জানান।

এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে আরো জানান যে, পূর্বে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হতো দিনের বেলায়। দিনের বেলায় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। তাই দিনের পরির্বতে গৃহস্থলীর বর্জ্য রাতেই অপসারণ এবং এই কাজে প্রায় ২হাজার জন সেবক নগরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কাজে নিয়োজিত রাখা হয়। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন শহর ।

জার্মান রাষ্ট্রদূত মি.পিটার চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কথা উল্লেখ করে বলেন, সাগর,নদী ও  পাহাড়,পর্বত বেষ্ঠিত এই শহর যে কোনো অতিথিকে মুগ্ধ করে । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে লীলাভুমি এই শহরটি এখন সবুজ এবং পরিচ্ছন্ন নগরী। এর জন্য তিনি সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের ভুয়াশী প্রশংসা করেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত নগরীর ট্রাফিক ম্যানেজম্যান্ট সর্ম্পকে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, এ খাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ নগরীর তিনটি সড়কে এসি বাস চালু করা হবে। পরীক্ষামুলক ভাবে ১”শটি এসি গাড়ী কালূরঘাট থেকে এয়ারপোট, হাটহাজারী থেকে  লালদীঘি এবং ভাটিয়ারী থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত এ তিন সড়কে বাস চলাচল করবে । এতে করে ছোট ছোট যানবাহনের উপর যাত্রীর চাপ কমে আসবে বলে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন। বৈঠকে  মেট্রোরেল,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা,হ্যোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও রাজস্ব আদায়,নগর অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিল বোর্ড অপসারণ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত পিটার জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন, ২০১৫ সালে এই নগর বিলবোর্ডে আচ্ছাদিত ছিল। এর ফলে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে।নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে  বিলবোর্ড,ইউনিপোল,মেগাসাইনসহ প্রায় ৪ হাজার বিলবোর্ড ছিল। এইগুলি অপসারণ করে চট্টগ্রাম নগরীকে জঞ্জালমুক্ত করা হয়।এ কাজটি তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে সিটি মেয়র রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

মেয়র বলেন, জার্মান বাংলাদেশের  অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র । এদেশের সার্বিক উন্নয়নে আগামীতেও জার্মান এগিয়ে আসবে । এমনকি বিশেষয়িত শিল্পঅঞ্চলে জার্মান বিনিয়োগকারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে । জার্মানির বেসরকারী উদ্যোক্তরা শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসলে চসিকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মাক সহযোগিতা দেয়ার কথা রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন সিটি মেয়র।  জার্মান রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত এ দেশের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বলেন, অংশীদারিত্বের চেতনা নিয়ে জার্মানি সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন , বাংলাদেশ বিশাল সম্ভাবনার দেশ।  দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বহু খাত রয়েছে। অনেক জার্মান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী বলে রাষ্ট্রদূত সিটি মেয়রকে জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।এই সম্পর্ক উত্তরাত্তোর বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান,বিজ্ঞানও গবেষণার কথা উল্লেথ করে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন সারা পৃথিবীতেই জার্মান ডিগ্রির কদর রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান চর্চাও গবেষণার জন্য জার্মানিকে স্বর্গ বলা হয়। জার্মানির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি লাগে না। সেই সাথে নানা ধরণের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে । পড়াশোনা শেষে স্থায়ী চাকরি পাওয়া যায়।তাছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা দিয়ে ইউরোপের ২৬টি দেশে গবেষণা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি সিটি মেয়রকে জানান।

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম থেকে জার্মানিতে অধ্যায়ন,গবেষণা করতে ইচ্ছুক সকল শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন,  ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে জার্মান দুতাবাস সর্বাত্মাক সহযোগিতা প্রদান করবে।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মি. পিটার দু”দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই সময় সিটি কর্পোরেশনের  প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা,প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ ,সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো: আবুল হাশেম। পরে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন জামান রাষ্ট্রদূতকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।