banner

শেষ আপডেট ১৩ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:০৭  ||   বৃহষ্পতিবার, ১৪ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিনসহ ১০টি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত

ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিনসহ ১০টি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত

৯ নভেম্বর ২০১৯ | ২০:৩৩ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিনসহ ১০টি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ পরবর্তী জরুরী উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রাম ও সেন্টমার্টিনসহ দেশে ১০টি যুদ্ধজাহাজ প্রস্তুত রেখেছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী। এছাড়া প্রস্তুত করা হয়েছে নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিকেল টিম। চট্টগ্রামে ৩টি ও সেন্টমার্টিনে ২টি ছাড়াও আরও পাঁচটি যুদ্ধ জাহাজ বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরা জেলায় নিয়োজিত থাকবে বলে জানা গেছে। তিন স্তরের এই কর্মপরিকল্পনাগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিচালনা করছে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে ৩টি জাহাজ বানৌজা শাহজালাল, শাহ পরান ও অতন্দ্র দ্রুততম সময়ে জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্থ উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাবে। এরই মধ্যে বানৌজা সমদ্র জয় ও সমুদ্র অভিযান জরুরী ত্রাণসামগ্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনে অবস্থান করছে। জাহাজগুলোতে ক্ষতিগ্রস্থ  মানুষের সহায়তায় ২ টন চিড়া, ১ টন মুড়ি, ২ টন চাল, দেড় টন গুড়, ৫০০ কেজি ডাল, ৭০০ কেজি চিনি, ৫০০ প্যাকেট মোমবাতি, ২৫০ ডজন দিয়াশলাই মজুদ রয়েছে।
এদিকে নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে। পাশাপাশি জরুরী ত্রাণ সহযোগিতা পৌঁছে দিতে সেন্টমার্টিনের ফরওয়ার্ড বেইসের নৌ সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ঢাকায় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুদ্ধজাহাজ ও নৌ কন্টিনজেন্ট একইভাবে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা পরিচালনায় বানৌজা কর্ণফুলী, তিস্তা, পদ্মা, এলসিভিপি ০১২ ও এলসিভিপি ০১৩ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যে কোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খুলনা নৌ অঞ্চল থেকে মোতায়েনকৃত জাহাজগুলো বরিশাল, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও সাতক্ষীরার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে জরুরী ২ হাজার প্যাকেট সামগ্রী বিতরণ করবে। প্রতিটি প্যাকেটে সাড়ে ৭ কেজি চাল, দেড় কেজি ডাল, দেড় লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি মুড়ি, আধা কেজি গুড়, আধা কেজি বিস্কুট, ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ২ ডজন মোমবাতি, ২ ডজন দিয়াশলাই বক্সসহ জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ঔষধ রয়েছে।
এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরী চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫টি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কাজে নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি ৪টি নৌ কন্টিনজেন্ট যে কোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় ১ হাজার ২১৮ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে ২৮৪টি, বান্দরবানে ৪১টি, রাঙামাটিতে ৬০টি, খাগড়াছড়িতে ৩৮টি, কক্সবাজারে ৯৩টি, ফেনীতে ৭৬টি, নোয়াখালীতে ১০৫টি, লক্ষীপুরে ৬৫টি, চাঁদপুরে ১১৭টি, কুমিল্লায় ২০১ টি, বি-বাড়িয়ায় ১৩৮টি।
চট্টগ্রাম বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, বুলবুল এর প্রভাবে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ১৫ জেলায় ১২ শত ১৮ টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে । মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, সিনিয়র স্টাফ নার্স মিডওয়াইফ, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্য সহকারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ও অন্যান্য কর্মচারীদের সমন্বয় প্রতিটি মেডিকেল টিম গঠিত হয়েছে।
চাহিদা অনুসারে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর জন্য সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপোর্ট (সিএমএসডি)-তে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ রয়েছে।  সংশ্লিষ্ট জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।