banner

শেষ আপডেট ৩ ডিসেম্বর ২০১৯,  ২০:৪৭  ||   শনিবার, ৭ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পেঁয়াজের বাজার কারসাজিতে ৩ আমদানিকরক, অভিযানে আটক ২

পেঁয়াজের বাজার কারসাজিতে ৩ আমদানিকরক, অভিযানে আটক ২

৫ নভেম্বর ২০১৯ | ২১:২৮ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেঁয়াজের বাজার কারসাজিতে ৩ আমদানিকরক, অভিযানে আটক ২

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  দেশের বৃহত্তম ভোগপণ্যের পাইকারী বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের বাজারগুলোতে মূল্যে বৃদ্ধির তালিকায় চট্টগ্রামের তিন আমদানিকারকের নাম পাওয়ার পর অভিযানে নেমেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম। এ সময় ২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিসি অফিসে নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর স্টেশন রোডস্থ নুপুর মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল আমরা খাতুনগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ইনভয়েস এবং আমদানি ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছিলাম। সে মোতাবেক চট্টগ্রামের তিনটি আমদানিকারকের ঠিকানা পেয়েছিলাম। তার প্রেক্ষিতে আজকে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।
তিনি বলেন, নপুর মার্কেটে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে গিয়ে একটি জুতার দোকান দেখা গেছে। পরবর্তীতে ওশাল কোয়ার্টারে অবস্থিত এস কে ম্যানশনের আরও দুটি দোকানে দেখা যায় তারা বার্মিজ পণ্যের আমদানিকারক। কিন্তু দোকানে তল্লাশি  করে পেলাম, আসলে তারা পেঁয়াজও আমদানি করে এবং ঠিকানার সাথে হুবহু মালিকের ছেলে স্টেটম্যান্ট দিল তারা ইতোমধ্যে বার্মিজ মালামালের সাথে পেঁয়াজও আমদানি করে।
তিনি বলেন, তবে দোকানের মালিককে না পাওয়ায় ম্যানেজার ও মালিকের ছেলেকে আটক করে ডিসি অফিস নিয়ে আসা হয়েছে। কারসাজির সাথে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তাদেরকে এমন বিষয়সহ বিস্তাারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, এখান থেকে এসব আমদানিকারকরা টেকনাফের চক্রের সাথে মিলে মিয়ানমারের পেঁয়াজের মূল্য আড়তদারদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। ডকুমেন্ট অনুযায়ী গত ২ নভেম্বর তাদের পেঁয়াজ হয়ে গতকাল মার্কেটে ঢুকেছে। আগের মালগুলো বেশি দামে বিক্রি না করতে পারলেও, সম্প্রতি আসা মালগুলো খুব চড়া দামে বিক্রি করছে তারা।
এদিকে দুইদিন পর থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ বিক্রির আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় এ আশ্বাস দিয়েছেন আড়তদারেরা। সভায় সার্বিক বিষয় মনিটরিংয়ের জন্য একটি তদারক সেল গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সেলিম হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব সেলিম হোসেন বলেন, আড়তদারেরা বলেছেন, ক্রেতা যাতে ১০০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ কিনতে পারেন, সেই ব্যবস্থা তারা করবেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এস আলম ও মেঘনা গ্রুপ পেঁয়াজ নিয়ে আসবে। সংকট আর থাকবে না। এসব পেঁয়াজ আসলে ৬০-৭০ টাকায় হয়তো নেমে আসবে। তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ উঠবে আর ভারতের পেঁয়াজও চলে আসবে। তখন দাম ৪০ টাকার নিচে নেমে যাবে। এ সময়ের মধ্যে বড় কোনো ব্যবসা করতে চাইলে তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বলেন, ২-৩ দিন পরই আড়তদাররা ৮০-৮৫ টাকা প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করবেন। আর ক্রেতারা খুচরা পর্যায়ে ১০০ টাকার মধ্যে পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।
সভায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোববার থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত  খাতুনগঞ্জে ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ এসেছে। আরও ২০০ টনের মতো পেঁয়াজ আসছে। এসব পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম ৮০ থেকে ৮৫ টাকা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, কমিটি গঠন করে মনিটর করা হবে- কত দামে কিনছেন আর কত দামে বিক্রি করছেন। আড়তে থাকা বেশি দামের যে পেঁয়াজ কালকের (বুধবার) মধ্যে বিক্রি শেষ করবেন। এর পরদিন থেকে দেখব কত দামে কিনছেন। ন্যায্য দামে বিক্রি করতে হবে। এডিসির নেতৃত্বে মনিটরি টিম করে দেওয়া হবে। প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করলে অভিযান চলবে।