banner

শেষ আপডেট ১৯ নভেম্বর ২০১৯,  ২২:২৬  ||   মঙ্গলবার, ১৯ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশে যৌন সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের শিকার ৬১ শতাংশ শিশু—ওয়ার্ল্ড ভিশন

দেশে যৌন সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের শিকার ৬১ শতাংশ শিশু—ওয়ার্ল্ড ভিশন

৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ২১:০৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • দেশে যৌন সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের শিকার ৬১ শতাংশ শিশু—ওয়ার্ল্ড ভিশন

ঢাকা অফিসঃ দেশে শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার ৬১ শতাংশ শিশু। ৬৭ শতাংশ শিশু বাল্যবিবাহের শিকার। আর শিশু শ্রমে রয়েছে ৬১ শতাংশ শিশু। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। দেশের ১৮টি ইউনিয়নের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে শিশু সুরক্ষা : গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রতিবেদনের এসব তথ্য জানানো হয়।

চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক (সিএজেএন) ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক সাবিরা সুলতানা নুপুর জানান, গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিতে ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের ১৮২ জন ইউপি মেম্বর, ৪টি পৌরসভার ৩৬ জন কাউন্সিলর, ১২ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৮ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ৮ জন ইউএনও, দু’টি সিটি কর্পোরেশনের ৪ জন মেয়রের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, শতভাগ প্রতিষ্ঠানে শিশুর কোনো তালিকা নেই। শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার ৬১ শতাংশ শিশু, শিশু শ্রমে রয়েছে ৬১ শতাংশ এবং বাল্যবিবাহের শিকার ৬৭ শতাংশ শিশু।

তিনি জানান, পরিদর্শন করা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ৬১ শতাংশে শিশু ও নারী কল্যাণ কমিটি আছে। তবে শতভাগ ইউনিয়নে নিয়মিত কোনো মিটিং হয় না। ৭৩ শতাংশ ইউনিয়ন কমিটির উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় শিশুর কোনো অংশগ্রহণ নেই। ৫০ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ শিশুদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে। ইউনিয়ন প্রতি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। আর গড়ে প্রতি ইউনিয়নে শিশুদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। তবে শিশুদের জন্য বরাদ্দ রাখা টাকা খরচ হয় রাস্তা মেরামত, বাঁধ নির্মাণ -এ ধরনের কাজে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এসডিজিতে ১৭টি গোল রাখা হয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য আলাদা কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে প্রতিটির মধ্যেই শিশুর উন্নয়ন, অধিকার ও সুরক্ষার বিষয় রয়েছে। আগের শিশুদের জন্য আমাদের জেলা বাজেট ছিল না। এবার জেলায় জেলায় শিশুদের জন্য বাজেট দেয়া হবে। এসডিজি আমাদের জন্য প্যাশন নয়, প্রাণের দাবি।

তিনি বলেন, সমগ্র এসডিজিটিই আমার জন্য, আপনার জন্য, আমাদের সবার জন্য। সবাইকে ছাড়া এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কখনই সম্ভব না। সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমবেতভাবে কাজ করলেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমরা শিক্ষায় এগিয়ে আছি। নতুন বই বিতরণ বিশ্বের ইতিহাস হয়ে থাকবে। একই দিনে এতো পরিমাণ বই পৃথিবীর কোথাও বিনামূল্যে দেয়ার নজির নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবেও এগিয়ে যাচ্ছি। বিদ্যুতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এক সময় বিদ্যুৎ যেত না আসত -এমন প্রবাদ ছিল। এখন বিদ্যুৎ যায় না। আগামী জুনের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সোনার খনি, হীরার খনি রয়েছে। এমন একটি সময়ে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সিএজেএনের এমন উদ্যোগ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

সিএজেএনের সভাপতি মাহফুজা জেসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্ড ভিশন বাংলাদেশের পরিচালক চন্দন জেড গোমেজ, উপপরিচালক সাবিরা সুলতানা নুপুর, সিএজেএনের সহ-সভাপতি মোস্তাফা কামাল মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক শিপন হাবীব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।