banner

শেষ আপডেট ১৩ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:০৭  ||   বুধবার, ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ইসলামিয়া কলেজের অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবি

ইসলামিয়া কলেজের অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবি

২২ অক্টোবর ২০১৯ | ২০:১১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ইসলামিয়া কলেজের অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবি

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ গঠনতন্ত্রবিরোধী ও নিয়ম বহির্ভূতের অভিযোগ এনে ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি এসব কমিটি বাতিলেরও দাবি জানায় তারা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর প্রেস ক্লাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে করা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় তারা।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কলেজটির ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের বিবিএসের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা আরিফ আহমেদ বলেন, সারাদেশের পাশাপাশি যখনই চট্টগ্রামে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হল, ঠিক তখনই পরিকল্পিতভাবে যুবলীগ নেতা নামধারী তথাকথিত ব্যক্তি, চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর ও ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবীকারী মোস্তফা মোরশেদ গংদের যোগসাজশে কলেজ ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চলা অভিযান বানচাল করতে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংসদের পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ যুবলীগ নামধারী ঐ তথাকথিত ব্যক্তি আমাদের কলেজকে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ভর্তি বাণিজ্য ও কলেজ ফান্ড থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণের দাবি ছিল নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ-ছাত্রসংসদের কমিটি গঠন করার। কিন্তু যখনই বুঝতে পারল যে, আমাদের দাবিকে উপেক্ষা করা যাবে না, ঠিক তখনই তাদের স্বার্থ টিকিয়ে রাখার জন্য রাতের আঁধারে এই কমিটি ঘোষণা করল।
তারা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রথমে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হয়। তারপর নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা, নির্বাচন কমিশন গঠন, মনোনয়ন পত্র দাখিল, প্রার্থীতা যাচাই বাছাইয়ের পর বৈধ অবৈধ প্রার্থীর নাম ঘোষণা, বাতি হওয়া প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ, তফশীল অনুযায়ী নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের কমিটি ঘোষণা ও অধ্যক্ষের অনুমোদনে কর্তৃপক্ষ অফিসিয়াল একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। এছাড়া নির্বাচিত ছাত্রসংসদ প্রতিনিধিদের নামের পাশাপাশি শ্রেণি, রোল, শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ করতে হয়। অথচ গঠিত কমিটিতে এসব নিয়ম মানা হয়নি।
তারা বলেন, ছাত্রসংসদের কমিটি ঘোষিত পত্রে শিক্ষামন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট জেলা বা মহানগরের পুলিশ সুপার বা কমিশনার, শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় বরাবরে অনুলিপি প্রদান করতে হয়। যেটি এই অবৈধ ছাত্রসংসদের কমিটিতে অনুসরণ করা হয়নি।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবিকারী মোস্তফা মোরশেদের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৩ এপ্রিল হাইকোটের্র একটি রিটে তার পদটি অবৈধ ঘোষণা করে। সর্বশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট আগামী ৬ মাসের জন্য অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না এই মর্মে রুল জারি করেন। সে অনুযায়ী তিনি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও নন। সেহেতু তিনি কোনভাবেই কলেজ ছাত্র সংসদের কমিটি অনুমোদন দিতে পারেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ ও ছাত্র সংসদের গঠিত কমিটি থেকে অনেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। যেখানে বিবাহিত, চাকুরীজীবি, অনিয়মিত ছাত্র ও অন্য কলেজের ছাত্রও রয়েছে। ঘোষিত ছাত্রসংসদ কমিটির জিএস সৈয়দ ইবনে জামান ডায়মন্ড ও বার্ষিকী সম্পাদক ফরহাদ জামান লিংকন অনিয়মিত ছাত্র। নিয়মানুযায়ী অনিয়মিত ছাত্ররা ছাত্রসংসদ কমিটিতে থাকার সুযোগ নেই। এছাড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল আমিন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এল এল বি ৩য় সেমিস্টারের ছাত্র।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা ও শিক্ষার্থী আব্দুল লতিফ, ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী, সৌমেন ঘোষ, জুনায়েদ আহমেদ, আরিফ খান, মাহমুদুর রহমান তুহিন প্রমুখ।