banner

শেষ আপডেট ১৩ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:০৭  ||   বুধবার, ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পেকুয়ায় শিশু আরফাত হত্যাকান্ডের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন খুনীরা

পেকুয়ায় শিশু আরফাত হত্যাকান্ডের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন খুনীরা

২১ অক্টোবর ২০১৯ | ২১:১৫ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • পেকুয়ায় শিশু আরফাত হত্যাকান্ডের ভয়ংকর বর্ণনা দিলেন খুনীরা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া প্রতিনিধি :শিশু মোঃ আরফাতকে হাত পা বেঁধে হত্যা করার পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়। রবিবার চকরিয়া জ্যেষ্ঠ বিচারকি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেন হত্যাকারী মগনামা মিয়াজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ মানিক  ও একই ইউপির দরদরীঘোনা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে রায়হান।
জবানবন্দিতে তারা আরো বলেন, শিশু মোঃ আরফাতকে দুপুরে কাদিমাকাটা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে নাস্তা করার কথা বলে ডেকে নেন খালাত ভাই মোঃ রায়হান। এ সময় তার সাথে ছিল মোঃ মানিক। বাড়ি থেকে রাস্তা পার হয়ে একটি অটোরিক্সা করে পেকুয়া চৌমহুনীতে আসেন। ওই সময় শিশুটি কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, তারা খালাত ভাই রায়হানের বাড়িতে যাচ্ছে। মগনামার ফুলতালায় যাওয়ার পর নাস্তা করেন এবং গাড়ি বদল করে ইজিবাইক নিয়ে মগনামার কাজি মার্কেটে গিয়ে আবারো শিশুকে নাস্তা করান। সেখানে কলা আর পাউরুটি শিশুর হাতে দিয়ে অপেক্ষা করেন। আবছা অন্ধকার হলে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন রাস্তা পার হয়ে মগঘোনার রাস্তা হয়ে যাওয়ার সময় শিশু আরফাত বেশ আওয়াজ করে কান্না করতে থাকেন। বকা দিয়েও কান্না বন্ধ না হলে নির্জন ধান মাঠে গিয়ে শিশুটির হাত পা বেঁধে পেলেন। তখন মোঃ মানিক হাত পা ধরে থাকেন আর রায়হান গলা টিপে ধরেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে ধান ক্ষেতে তাকে রেখে সদর ইউয়িনের গোঁয়াখালীর মানিকের শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন। এরপর মোঠোফোনে ফোন দেন নিহত শিশু আরফাত ও হত্যাকারী রায়হানের খালা কাউসার বেগমকে। বলেন শিশু আরফাতকে ফিরে ফেতে চাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এর কোন উত্তর না আসায় তারা ঘুমিয়ে পড়েন। আদালতে দেওয়া তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করার বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর অজ্ঞাতনামা একটি অপহরণ মামলা রেকর্ড করি। যে মামলার বাদি শিশুর মা রুজিনা আক্তার। মোঠোফোনের নাম্বারের সূত্র ধরে গোঁয়াখালীর মাতবর পাড়া থেকে রায়হান ও মানিককে আটক করি। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আটককৃত দুইজন বিভিন্ন রকম তথ্য দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করেন। শিশুকে উদ্ধার করতে তারা যেখানে বলেছে আমরা সেখানেই গিয়েছি। সর্বশেষ তাদের দেওয়া তথ্য মতে কক্সবাজারের একটি স্থানে অভিযানে গেলে তারা শিশুটিকে হত্যা করে মগনামা মগঘোনার একটি স্থানে রেখেছে বলে জানান। শিশু পরিবার ও অপহরণকারীদের নিয়ে মগনামা মগঘোনার ফসলী জমিতে অভিযান চালিয়ে শিশুর লাশটি উদ্ধার করি।
শিশুর মা রুজিনা আক্তার বলেন, আমার বোন কাউসার আক্তার আমাকে জানান ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করা হচ্ছে। কিন্তু তারা আমার বুকের ধনকে আগেই মেরে ফেলেছে। এমন নির্মম হত্যাকান্ড আমরা মেনে নিতে পারছিনা। ছেলেকেতো আর ফিরে পাব না। তাদের বিচার আমরা দ্রুত দেখতে চাই।
রবিবার দুপুরের পারিবারিক কবরস্থানে নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়ে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ স্থানীয় হাজার হাজার শোকাহত জনতা নামাজে জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্যঃ গত বৃহস্পতিবার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ওমান প্রবাসী রুহুল কাদেরের শিশু সন্তানকে অপহরণ করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার লাশটি উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।