banner

শেষ আপডেট ১৩ নভেম্বর ২০১৯,  ২০:০৭  ||   বুধবার, ১৩ই নভেম্বর ২০১৯ ইং, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

শিশু নির্যাতন বা হত্যাকারীদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে—প্রধানমন্ত্রী

শিশু নির্যাতন বা হত্যাকারীদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে—প্রধানমন্ত্রী

১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ২০:৪১ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • শিশু নির্যাতন বা হত্যাকারীদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে—প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : শিশু হত্যা বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর সাজা পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ‘শিশু নির্যাতন বা হত্যা করছেন তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে।’ আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত রবিবার সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়। তুহিনের এই হত্যাকাণ্ডে তার বাবা আবদুল বছির, চাচা আবদুল মছব্বির ও প্রতিবেশী জমসের আলীর নাম উঠে আসে। আর এই ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগমের দায়ের করা মামলায় এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনোই বরদাস্ত করা হবে না। আজকে যারা এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা হত্যা করছেন তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের আর কোনো শিশু যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। প্রতিটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। আর প্রতিটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। শিশু যেন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখতে হবে।’

নিজের ছোটভাই শেখ রাসেল সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ৫৪ বছর বয়স পূরণ করেছে রাসেল। আজ তাকে দেখতে কেমন লাগতো? আমার ভাইকে দেখতে কেমন লাগতো? আজকে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। আমি আমার রাসেলকে হারিয়েছি। কিন্তু লাখো রাসেলকে পেয়েছি।’

১৯৭৫ সালে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু, তার স্ত্রী, তিন পুত্র দুই পুত্রবধূসহ মোট সাতজনকে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন। তিনি সব সময় তা করতেন। ঠিক সেই গুণটি রাসেলের মধ্যেও ছিল। গ্রামে গেলে দরিদ্র শিশুদের যে কিছু দিতে হবে তা সে চিন্তা করতো। রাসেলের খুব শখ ছিল বড় হয়ে সে আর্মি অফিসার হবে। সে কাঠের বন্দুক বানাতো। সেটা নিয়ে খেলা করতো।’

‘শিশুদের প্রতি তার দরদ ছিল। শিশুদেরকে সে কিছু না কিছু দিতো। বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারতো রাসেল। কিন্তু ঘাতকরা একজন ছোট্ট শিশুকেও বাঁচতে দেয়নি।’

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্ম নেন শেখ রাসেল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় রক্ষা পাননি শিশু রাসেল। তখন তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘তারা শুধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকেই হত্যা করেনি। শিশু ও নারী হত্যা করেছে। তাদের বিচার করা হয়নি। আইন করে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে আমি যখন ফিরে এসে মামলা করার চেষ্টা করি তখন আমাকে বলা হলো, এই হত্যার মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ আমি আমার মা, বাবা, ভাই হত্যার বিচার পাবো না। আমার প্রশ্ন ছিল, আমি কি এই দেশের নাগরিক নই? সবাই যদি বিচার চাইতে পারে তাহলে আমি পারবো না কেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বিচারহীনতার প্রভাব সমাজে পড়েছে। আজকে আমরা দেখি শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন। সেই সময় যদি শিশু ও নারী হত্যার বিচার করা হতো তাহলে মানুষের মধ্যে একটা ভীতি থাকতো। দেশে এই ধরনের অমানবিকতা তৈরি হতো না। কী অমানবিক অবস্থা। বাবা হয়ে সন্তান হত্যা করে, অন্যকে ফাঁসানোর জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর ভেতর একটা মনন রয়েছে, একটা চেতনা রয়েছে, একটা শক্তি আছে। সেটাকে বিকশিত করতে হবে।’

পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা ও সংস্কুতি চর্চায় শিশুদের অংশ নিতে হবে। আর সমাজের খারাপ দিকগুলো, যেমন মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস– এসব থেকে দূরে থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে। শুধু নিজে খাব, নিজে করবো তা নিয়ে ভাবলে হবে না। অন্যদের চিন্তাটাও করতে হবে।’

এসময় সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুরা যেন ঝুঁকিমুক্ত থাকে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি আমরা। ঝরে পড়া শিশুদেরও শিক্ষা ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতিমদের জন্যও কর্মসূচি নিয়েছি। প্রতিবন্ধী যারা তাদেরও তো কোনো দোষ নেই। তাদের জন্যও আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

‘এই মুহূর্তওে যে শিশুটা জন্ম নেবে তার জীবনও যেন সুন্দর হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ইতিমধ্যে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সব মানুষই উন্নত, সুন্দর ও নিরাপদ জীবন পাবে। আমরা মাতৃমৃত্যুর হার, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছি। শিশুদের জন্য অধিকতর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’

শিশু হত্যায় কঠোর থেকে কঠোর সাজা হবে: প্রধানমন্ত্রী

শিশু হত্যা বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর সাজা পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘শিশু নির্যাতন বা হত্যা করছেন তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে।’

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেলের ৫৫তম জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত রবিবার সুনামগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন মিয়াকে বীভৎসভাবে হত্যা করা হয়। তুহিনের এই হত্যাকাণ্ডে তার বাবা আবদুল বছির, চাচা আবদুল মছব্বির ও প্রতিবেশী জমসের আলীর নাম উঠে আসে। আর এই ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগমের দায়ের করা মামলায় এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের অন্যায়-অবিচার কখনোই বরদাস্ত করা হবে না। আজকে যারা এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা হত্যা করছেন তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের আর কোনো শিশু যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। প্রতিটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। আর প্রতিটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয়, সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। শিশু যেন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে সেদিকে সবার লক্ষ্য রাখতে হবে।’

নিজের ছোটভাই শেখ রাসেল সম্পর্কে বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ৫৪ বছর বয়স পূরণ করেছে রাসেল। আজ তাকে দেখতে কেমন লাগতো? আমার ভাইকে দেখতে কেমন লাগতো? আজকে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। আমি আমার রাসেলকে হারিয়েছি। কিন্তু লাখো রাসেলকে পেয়েছি।’

১৯৭৫ সালে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু, তার স্ত্রী, তিন পুত্র দুই পুত্রবধূসহ মোট সাতজনকে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে হত্যা করা হয়। দেশের বাইরে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে রক্ষা পান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দরিদ্র মানুষের সঙ্গে নিজের খাবার ভাগ করে খেতেন। তিনি সব সময় তা করতেন। ঠিক সেই গুণটি রাসেলের মধ্যেও ছিল। গ্রামে গেলে দরিদ্র শিশুদের যে কিছু দিতে হবে তা সে চিন্তা করতো। রাসেলের খুব শখ ছিল বড় হয়ে সে আর্মি অফিসার হবে। সে কাঠের বন্দুক বানাতো। সেটা নিয়ে খেলা করতো।’

‘শিশুদের প্রতি তার দরদ ছিল। শিশুদেরকে সে কিছু না কিছু দিতো। বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারতো রাসেল। কিন্তু ঘাতকরা একজন ছোট্ট শিশুকেও বাঁচতে দেয়নি।’

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্ম নেন শেখ রাসেল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় রক্ষা পাননি শিশু রাসেল। তখন তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘তারা শুধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকেই হত্যা করেনি। শিশু ও নারী হত্যা করেছে। তাদের বিচার করা হয়নি। আইন করে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে আমি যখন ফিরে এসে মামলা করার চেষ্টা করি তখন আমাকে বলা হলো, এই হত্যার মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ আমি আমার মা, বাবা, ভাই হত্যার বিচার পাবো না। আমার প্রশ্ন ছিল, আমি কি এই দেশের নাগরিক নই? সবাই যদি বিচার চাইতে পারে তাহলে আমি পারবো না কেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বিচারহীনতার প্রভাব সমাজে পড়েছে। আজকে আমরা দেখি শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন। সেই সময় যদি শিশু ও নারী হত্যার বিচার করা হতো তাহলে মানুষের মধ্যে একটা ভীতি থাকতো। দেশে এই ধরনের অমানবিকতা তৈরি হতো না। কী অমানবিক অবস্থা। বাবা হয়ে সন্তান হত্যা করে, অন্যকে ফাঁসানোর জন্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর ভেতর একটা মনন রয়েছে, একটা চেতনা রয়েছে, একটা শক্তি আছে। সেটাকে বিকশিত করতে হবে।’

পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা ও সংস্কুতি চর্চায় শিশুদের অংশ নিতে হবে। আর সমাজের খারাপ দিকগুলো, যেমন মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস– এসব থেকে দূরে থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সততার সঙ্গে জীবনযাপন করতে হবে। শুধু নিজে খাব, নিজে করবো তা নিয়ে ভাবলে হবে না। অন্যদের চিন্তাটাও করতে হবে।’

এসময় সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিশুরা যেন ঝুঁকিমুক্ত থাকে সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি আমরা। ঝরে পড়া শিশুদেরও শিক্ষা ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। এতিমদের জন্যও কর্মসূচি নিয়েছি। প্রতিবন্ধী যারা তাদেরও তো কোনো দোষ নেই। তাদের জন্যও আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’

‘এই মুহূর্তওে যে শিশুটা জন্ম নেবে তার জীবনও যেন সুন্দর হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ইতিমধ্যে অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সব মানুষই উন্নত, সুন্দর ও নিরাপদ জীবন পাবে। আমরা মাতৃমৃত্যুর হার, শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছি। শিশুদের জন্য অধিকতর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।’