banner

শেষ আপডেট ২২ অক্টোবর ২০১৯,  ১৯:১৪  ||   মঙ্গলবার, ২২ই অক্টোবর ২০১৯ ইং, ৭ কার্তিক ১৪২৬

সরকার এনজিওদের প্রতিপক্ষ নয়, এনজিও বান্ধব—এম এ মান্নান

সরকার এনজিওদের প্রতিপক্ষ নয়, এনজিও বান্ধব—এম এ মান্নান

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২০:৪৭ |    নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সরকার এনজিওদের প্রতিপক্ষ নয়, এনজিও বান্ধব—এম এ মান্নান

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ  পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক আবহাওয়া বা রাজনৈতিক ঢেউয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটা ইতিবাচক ঢেউ, পরিবর্তনের ঢেউ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় শক্তি রাজনীতি। আর রাজনীতির মুল শক্তি দেশের জনগণ। যতক্ষন রাজনীতির সাথে দেশের জনগণ থাকবে, ততক্ষণ ভয়ের কোন কারন নেই। তিনি আজ শনিবার চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাবে ক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) আয়োজিত ‘‘আর্থিক অন্তর্ভূক্তি তথা টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাসমূহের ভূমিকা” শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে ‘‘আর্থিক অন্তর্ভূক্তি তথা টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) অর্জনে ক্ষুদ্র অর্থায়ন সংস্থাসমূহের ভূমিকা” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএনএম এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফা কে মুজেরী। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বেসরকারি সংস্থা মমতা’র নির্বাহী পরিচালক রফিক আহামদ, বূরো বাংলাদেশ এর পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, অন্তর সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা মো. এমরানুল হক চৌধুরী, পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর নির্বাহী পরিচালক লোকমান হাকিম, ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান, আইডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, ঘাসফুল এর নির্বাহী পরিচালক আফতাবুর রহমান জাফরী প্রমূখ।
মূল প্রবন্ধে বলা হয় , সরকারের আন্তরিকতা আর জনসাধারণের কার্যকর অংশগ্রহনে এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসডিজি অর্জনে সরকারের সহায়ক শক্তি হিসেবে বেসরকারি সংস্থাসমূহ কাজ করছে। এসব সংস্থাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে বিধায় তাদের উপস্থাপিত তথ্য উপাত্তের যথেষ্ঠ কার্যকারিতা রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, প্রান্তিক পর্যায়ের সব কাজকে এসডিজি’র লেন্সে দেখতে হবে। বিভিন্ন সংস্থাসমূহের উপস্থাপিত তথ্য উপাথ্যের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে পারলে সকল এলাকার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
মূল প্রবন্ধের আলোচনায় বিভিন্ন এনজিও বক্তাগণ তাদের প্রদত্ত সেবার ওপর আদায়কৃত সার্ভিস চার্জ বর্তমানের ২৪ শতাংশ থেকে বাড়ানোর দাবি জানান। এছাড়া ফান্ড প্রবাহ বর্ধিতকরণ, প্রদত্ত অন্য একটি চার্জ শতকরা ০.১৫ থেকে কমানো, ছোট এনজিওগুলোকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা প্রভৃতি দাবি উপস্থাপন করেন।
এনজিও সংস্থার এসব দাবির বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি (এমআরএ) এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মূখার্জী বলেন, সার্ভিস চার্জ শতকরা ০.১৫ ভাগ কমানোর যে দাবি পেশ করা হয়েছে তা অমূলক। প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৪শ এনজিও শুধ বাৎসরিক নবায়ন ফি দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। তাছাড়া ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় এরকম এনজিও’র সংখ্যা ১৮৫টি এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় এরকম এনজিও’র সংখ্যা ৮৪টি। শুধু ৩টি এনজিও ১ কোটির বেশি সার্ভিস চার্জ  সরকারকে পরিশোধ করে থাকে।

তিনি বলেন, প্রদত্ত টাকার ওপর গ্রাহকদের নিকট থেকে আদায়কৃত শতকরা ২৪ ভাগ সার্ভিস চার্জ বাংলাদেশে উপমহাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশ্ববর্তী সবদেশেই তা আরো অনেক কম।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এনজিও সংস্থা হচ্ছে দেশের উন্নয়নে সরকারের সহায়ক শক্তি। সরকার এনজিও বান্ধব। তবে মনে রাখতে হবে, সরকারের সব কার্যক্রম দেশ ও জনগণের স্বার্থের জন্যই। কাজেই কোন নিয়মকে বেড়াজাল ভাবলে চলবেনা।

তিনি বলেন, এমআরএ হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে এনজিওদের অভিভাবক সংস্থা। তারা শুধু রেগুলেটর নয়, ফ্যাসিলিটেটরও। এনজিওদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন বলে এ সময় উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব মো. আবদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, সিডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল বক্তৃতা করেন।
পরে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান আইডিএফ(ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন) আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট(এসডিজি) বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমুহের অংশীদারিত্ব বিষয়ক আলোচনা সভায় যোগদান করেন।